Home » লিড নিউজ » “আমাদের কি হবে ? এই বাংলাদেশ নামক দেশে একটু খানি বেঁচে থাকার ঠাঁই ?

“আমাদের কি হবে ? এই বাংলাদেশ নামক দেশে একটু খানি বেঁচে থাকার ঠাঁই ?

বাংলার কন্ঠস্বরঃ

মানুষের যে মৌলিক অধিকার রয়েছে চিকিৎসা তাদের মধ্যে অন্যতম। আর এই চিকিৎসা পেশার সাথে জড়িয়ে আছে মমতা,মানবতা ও সেবার ব্রত। চিকিৎসক,নার্স,মেডিকেল টেকনোলজিস্ট ও ফার্মাসিস্টদের সমন্বয়ে আধুনিক চিকিৎসা ব্যবস্থা গড়ে ওঠে। আর্তমানবতার সেবায় নিয়োজিত এই পেশাটিকে সারা দুনিয়ায় ভিন্ন দৃষ্টিতে দেখা হয়। পেশাটি দুনিয়াব্যাপী ‘মহান পেশা ‘হিসেবে খ্যাতি পেয়েছে। এখানে রয়েছে কেবল অর্থ উপার্জন নয়,রয়েছে মানবতার সেবায় নিজেদের নিয়োজিত করার অঙ্গীকার।

মানুষের স্বাস্থ্যসেবা সাংবিধানিক অধিকার। মৌলিক চাহিদার মধ্যে স্বাস্থ্যসেবা অন্যতম চাহিদা।এই চাহিদা পূরণে জননেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার বিভিন্ন সময়ে কল্যাণমুখী উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। মানুষের দোরগোড়ায় চিকিৎসা সেবা পৌঁছে দেয়ার জন্য নানা কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। এরই ধারাবাহিকতায় ৩৩তম বিসিএস(BCS) পরীক্ষায় উত্তীর্ণ স্বাস্থ্য ক্যাডারের ৬ হাজার ১৫১ জন চিকিৎসক ৭ আগস্ট ২০১৪ ইং তারিখে যোগ দেন স্বাস্থ্য সেবায়। দেশের ইতিহাসে একদিনে একযোগে সর্বোচ্চ সংখ্যক চিকিৎসকের যোগদান এটি।স্বাস্থ্যসেবা খাত কে সরকার অধিক গুরুত্ব দিয়েছে তা এই নিয়োগের মাধ্যমে স্পষ্ট হয়ে ওঠে।মানুষের জন্য আইন,আইনের জন্য মানুষ নয়।মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিশ্ববাসীকে জানিয়ে ঐতিহাসিক এ নিয়োগ দিয়েছেন।চিকিৎসকের পদ আছে ৪ হাজার ৫০৪ টি, নিয়োগ দিলেন ৬ হাজার ১৫১টি। অর্থাৎ ১ হাজার ৬৪৭ জন চিকিৎসক মানবতার খাতিরে বেশি নিয়োগ দিলেন।আইন থেকে এদেশের জনগণের চিকিৎসা প্রদান অনেক বেশি জরুরি। তার এ সাহসী পদক্ষেপের জন্য বাংলাদেশের সকল মেডিকেল টেকনোলজিস্টদের পক্ষ থেকে আন্তরিক অভিনন্দন ও কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছি।দেশের ১৬ কোটি মানুষের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় বর্তমান সরকারের অঙ্গীকারের ফসল এই রেকর্ড সংখ্যক নিয়োগ।আর স্বাস্থ্যসেবা সরকারের সব অঙ্গীকার বাস্তবায়নের প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন তরুণ চিকিৎসকগণ।সরকারি চাকরিতে যোগ দিয়ে উচ্ছ্বসিত এ তরুণরা জানিয়েছেন- চাকরি জীবনের শুরুতে গ্রামে দরিদ্র ও অসহায় মানুষের চিকিৎসা সেবা দিতে পারাটা তাদের জন্য গৌরবের।

হাসপাতালে রোগীর চিকিৎসায় চিকিৎসক ছাড়াও নার্স এক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ২০১৬ সালের ১লা মে রবিবার সকালে ধানমন্ডির নিজ বাসভবনে আন্দোলনরত নার্সদের এক প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠককালে নার্সদের দাবিসমূহ মানবিক বিবেচনায় নেয়ার আশ্বাস প্রদান করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম।বৈঠকে নার্সদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে নার্স নিয়োগের বিষয়টি মানবিক দৃষ্টিভঙ্গিতে বিবেচনা এবং প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনার পর তা চূড়ান্ত করা হবে।

২০১৫ সালের ৮ এপ্রিল গাজীপুর কাশিমপুরের সারাবোর তেঁতুই-বাড়ি এলাকায় শেখ ফজিলাতুননেসা মুজিব মেমোরিয়াল কেপিজে নার্সিং কলেজের শিক্ষা কার্যক্রম উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, দেশের বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে ১০ হাজার নার্স নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু করছি।দ্রুত ১০ হাজার নার্স নিয়োগ দেওয়া হবে। বর্তমানে নার্সের শূন্য পদ রয়েছে ৫ হাজার। শূন্য চিকিৎকের ন্যায় নার্স নিয়োগের ক্ষেত্রেও আইন এখানে অকার্যকর। মানবতা আর জনস্বাস্থ্য বিবেচনাই এখানে মূখ্য।

 

স্বাস্থ্য সেবার মৌলিক অধিকার মানুষের কাছে সঠিকভাবে নিশ্চিত করার জন্য চিকিৎসক,নার্স, মেডিকেল টেকনোলজিস্ট,মেড

িকেল অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রভৃতি স্বাস্থ্য সেবায় সম্পৃক্তা আরও অনেকে কাজ করে আসছে এবং ভবিষ্যতেও কাজ করে যাবেন। স্বাস্থ্য সেবা কে এগিয়ে নেওয়ার জন্য তাদের সবার অবদান অনস্বীকার্য।

জীবনযাত্রার মানের সঙ্গে স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত। নির্ভুল পরীক্ষা-নিরীক্ষা আর সঠিক চিকিৎসা পাওয়া একই বৃন্তে গাঁথা।বিভিন্নভাবে রোগ নির্ণয়ে পরীক্ষাগার সমূহে নির্ভরশীলতার প্রতীক হিসেবে নেপথ্যে যারা কাজ করেন, তারা মেডিকেল টেকনোলজিস্ট।বর্তমান চিকিৎসা ব্যবস্থায় রোগ নির্ণয়ের ক্ষেত্রে মেডিকেল টেকনোলজিস্টদের ওপর নির্ভর করতে হয় আশি শতাংশ।

অথচ চিকিৎসা কেন্দ্র গুলোতে রয়েছে চরমভাবে মেডিকেল টেকনোলজিস্ট সংকট এবং রয়েছে চরম বিশৃঙ্খলা। স্বাস্থ্য দপ্তর আর কারিগরি বোর্ডের টানাটানিতে গুরুত্বপূর্ণ এই শিক্ষা অবহেলার শিকার হয়েছে।ফলে হয়েছে রোগ নির্ণয় ব্যবস্থাপনায় মারাত্মক ত্রুটি, জনগণের ভয়াবহ স্বাস্থ্য ঝুঁকি।

 

দেশ-বিদেশের কর্মবাজারের উপযোগি করে মেডিকেল টেকনোলজিস্ট তৈরির স্বার্থে বাংলাদেশ সরকারের স্বাস্থ্য আইন ও শিক্ষামন্ত্রণালয় নিয়ে গঠিত আন্ত-মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত মোতাবেক ২০০৫ সাল থেকে বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ড হেলথ টেকনোলজি বিষয়ক ডিপ্লোমা কোর্সের কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে।অপর দিকে রাষ্ট্রীয় চিকিৎসা অনুষদ কর্তৃক স্বীকৃত প্রতিষ্ঠান থেকে মেডিকেল টেকনোলজিস্ট তৈরি হলেও সনদের গ্রহণযোগ্যতা না থাকায় আমাদের দেশের মেডিকেল টেকনোলজিস্ট বিদেশের শ্রম বাজারে প্রবেশ করতে বাধাপ্রাপ্ত হচ্ছে। বোর্ড বা বিশ্ববিদ্যালয় ব্যতীত পরিচালিত কোন কার্যক্রম আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত নয় বলেই এমন হচ্ছে। তাই স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের স্টেট মেডিকেল ফ্যাকাল্টির শিক্ষা কার্যক্রম বোর্ড বা বিশ্ববিদ্যালয়ের হাতে ন্যস্ত করা দরকার।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা: সিফায়েত উল্লাহর সভাপতিত্বে ২০০৯ সালের ২৮ এপ্রিল সভার সিদ্ধান্তক্রমে কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের শিক্ষার্থীরা সরকারি বিভিন্ন হাসপাতালে মাঠ প্রশিক্ষণ নিচ্ছে। স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় জনবল নিয়োগ বিধি ১৯৮৫’র ১৫ আগস্টের গেজেটে ১৫৩ নং এ স্পষ্ট করে বলা আছে – প্যারামেডিকেল বা স্বীকৃত কোন প্রতিষ্ঠান থেকে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ডিপ্লোমাধারীগণ (রেডিওগ্রাফার, ল্যাবরেটরি টেকনোলজিস্ট, ডেন্টাল ইত্যাদি)পদে নিয়োগ পাবে।আবার এখন বলছেন, কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের সনদে মেডিকেল টেকনোলজিস্ট দের সরকারি স্বাস্থ্য সেবা প্রতিষ্ঠানে চাকরির জন্য আবেদনের যোগ্যতা নেই।তাদের আবেদনের সুযোগ দেয়া হবে না।স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক প্রফেসর ডাঃ মোঃ খন্দকার সিফায়েত উল্লাহ বললেন দুধরনের কথা যা আমাদের বোধগম্য নয়। আসলেই কি কারিগরি মেডিকেল টেকনোলজিস্টদের ভিত্তি নেই? বাংলাদেশ কারিগরি বোর্ডের সনদপ্রাপ্ত ডিপ্লোমাধারী এবং বাংলাদেশ রাষ্ট্রীয় চিকিৎসা অনুষদের সনদপ্রাপ্ত ডিপ্লোমাধারী উভয়দের রয়েছে বাংলাদেশ সংবিধানের ২৯ অনুচ্ছেদ মোতাবেক সমাধিকার। শিক্ষামন্ত্রী ২০০৯ সালের ৮ জুন স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে একটি ডিও পত্র দেন (যার নম্বর শিমসাঃ ১৬-বিবিধ ১৬-৬/৯৯ অংশে ১৪ খন্ড,২১৩)।মন্ত্রী ওই পত্রে উল্লেখ করেন, মেডিকেল টেকনোলজি কোর্স একটি কারিগরি ও প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা হওয়ায় কারিগরি শিক্ষা বোর্ড ১৯৬৭ সালের ১ নম্বর সংসদীয় আইন এবং ১৮(ক)ও২(ডি)(হ)-এর ধারার ক্ষমতার বলে ওই কোর্স পরিচালনা করতে পারে এবং বর্তমান অবস্থায় (আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে স্বীকৃত) যে কোন টেকনোলজি শিক্ষা শুধু বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডই দিতে পারে। অন্যদিকে ১৯৮৫ সালের মেডিকেল টেকনোলজিস্ট নিয়োগের সরকারি গেজেটে শুধু অনুমোদিত মেডিকেল টেকনোলজি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে ডিপ্লোমা ইন হেলথ টেকনোলজিস্ট যোগ্যতার কথা উল্লেখ আছে।

ইউজিসি এর ২০১০ সালের ৫ সেপ্টেম্বরের পত্র মোতাবেক কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের মেডিকেল টেকনোলজি কোর্স কে উচ্চ মাধ্যমিক সমমান ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বি এস সি ইন হেলথ টেকনোলজি কোর্সে ভর্তির নির্দেশ দেওয়া হয়।কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের মেডিকেল টেকনোলজি কোর্সে ৩ বছরে ১১২ ক্রেডিট ও ৫৭০০ মার্কের পরীক্ষা দিতে হয়। স্টেট মেডিকেল ফ্যাকাল্টির কোর্সে ৩ বছরে বিভিন্ন শাখায় মোট ২৬০০ নম্বরের পরীক্ষা দিতে হয়।

রাষ্ট্রীয় অনুষদের চেয়ে কারিগরিতে অনেক দক্ষ মেডিকেল টেকনোলজিস্ট রয়েছে, আবার রাষ্ট্রীয় অনুষদেও দক্ষ মেডিকেল টেকনোলজিস্ট রয়েছে। সব জায়গায় ভাল আর মন্দ উভয়ই রয়েছে। আমার প্রশ্ন হল- বাংলাদেশে কি দক্ষ মেডিকেল টেকনোলজিস্ট নেই ?

তাহলে বাংলাদেশের চিকিৎসা ব্যবস্থাপনা কিভাবে চলছে ?

লেখক: রিফাত তারুকদার

পাঠকের মতামত...

Total Page Visits: 33 - Today Page Visits: 4

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*