Home » লিড নিউজ » “ভূলুন্ঠিত যখন মেডিকেল টেকনোলজি,বিবেকবোধ জাগ্রত হোক স্বাস্থ অধিদপ্তরের রাঘব ভোয়ালদের”

“ভূলুন্ঠিত যখন মেডিকেল টেকনোলজি,বিবেকবোধ জাগ্রত হোক স্বাস্থ অধিদপ্তরের রাঘব ভোয়ালদের”

ফারজানা লীজা
—————————————
“Health is wealth” অর্থ্যাৎ স্বাস্থ্যই সম্পদ। অার রোগবালাই ও মানসিক টেনশনমুক্ত অবস্থার নামই হলো সুস্বাস্থ্য যা আল্লাহ পাকের এক অশেষ নিয়ামত। অতঃপর এহেন অবস্থায় শরীরে যখন কোন ব্যধির সংক্রমন ঘটে তখন তাকে অসুস্থ্যতা বলা হয়। অার স্বভাবতই মানুষ জন্মলগ্ন থেকেই সুস্থ্যতা প্রত্যাশী। এ কারণে মানুষ যখন অসুস্থতায় ভুগে তখন বেঁচে থাকার স্বার্থে ‘সুস্বাস্থ্য’ নামক কাঙ্খিত নিয়ামতটিকে ফিরে পেতে শরনাপন্ন হয় চিকিৎসকের কাছে। আর সুষ্ঠু চিকিৎসা প্রদানের স্বার্থে চিকিৎসকরা শরনাপন্ন হয় রোগ নির্ণায়ক যন্ত্রখ্যাত ‘মেডিকেল টেকনোলজিস্ট’ অর্থ্যাৎ চিকিৎসা প্রযুক্তিবিদদের কাছে যাদের কাজ হলো চিকিৎসা প্রযুক্তিগত দক্ষতা ও জ্ঞান এর সঠিক ব্যবহারপূর্বক সঠিকভাবে রোগ নির্ণয় করে রোগের সার্বিক অবস্থা সম্পর্কে চিকিৎসককে অবহিতপূর্বক সুষ্ঠু চিকিৎসা প্রদানে সহায়তা করা। আর এই মেীলিক ও অপরিহার্য কাজটি যথার্থ মেধা ও নিষ্ঠার সাথে করে থাকেন সরকারি কোন শিক্ষ্যা বোর্ড থেকে সার্টিফিকেটপ্রাপ্ত উপযুক্ত এক ঝাঁক মেধাবী মেডিকেল টেকনোলজিষ্ট।আর চিকিৎসা ব্যবস্থার এই মৌলিক ও প্রাথমিক অস্ত্র “রোগ নিরুপণ ব্যবস্থা” যদি ভূলুন্ঠিত হয়ে যায় তাহলে সঠিক চিকিৎসা পাওয়া আদৌ সম্ভবপর নহে। এর ফলে হিতে বিপরীত অবস্থার সৃষ্টি হয়। আর এটিই হচ্ছে স্টেড মেডিকেল ফ্যাকালটির টেকনিশিয়ানদের কর্মদক্ষতার ফসল।
দুঃখজনক হলেও সত্য যে, আমাদের দেশে “স্বাস্থ্যই অমূল্য সম্পদ”- কথাটি যেন একটি অর্থহীন বাক্যে পরিণত হয়েছে। এমতাবস্থায় উপর কাঠামোতে উন্নয়নের ঝকমকি দেখা গেলেও চিকিৎসার ভেতরটা হয়ে যাচ্ছে ফাঁপা আরও স্পষ্ট করে বলতে গেলে অন্তঃসারশূন্য।
এর উল্লেখযোগ্য ও সমীক্ষিত কারণ হলো বিজ্ঞানভিত্তিক চিকিৎসা (Medical Science) প্রযুক্তি ব্যবস্থায় স্টেড মেডিকেল ফ্যালটি পরিচালিত হেলথ টিকনোলজি গুলোতে পিয়ন,ওয়ার্ড বয় দ্বারা ক্লাস। যার ফলে তৈরি হচ্ছে কতিপয় টেকনিশিয়ান নামের গোবর গণেশ । যাদেরকে নাকি স্টেড মেডিকেল বাণিজ্যিকভাবে সার্টিফিকেট প্রদান করে থাকেন এবং কিছু স্টেড মেডিকেল ফ্যালটি দালাল ও দোসর চরম পৃষ্ঠপোষকতা যুগিয়ে থাকেন। আবার নাকি রাষ্ট্রীয় মদদে তাদেরকে সাদরে পুনর্বাসন করার অপচেষ্টাও চালাচ্ছেন। এতো দেখছি হাত দিয়ে হাতি ঠেলার মতই দুর্লভ অপচেষ্টা।
স্পষ্টত যে, তথাকথিত অদক্ষ, অপ্রশিক্ষিত, অবৈধ ও ভূয়া মেডিকেল টেকনিশিয়ানরা চিকিৎসা ব্যবস্থায় যুক্ত হয়ে প্রতিনিয়ত চরম অমানবিক কর্মকান্ড ঘটাচ্ছেন এবং অবাধভাবে ভূয়া সার্টিফিকেট ও সেবা বাণিজ্য চালাচ্ছেন।
আপনারা দেখেছেন বাংলাদেশের রাঘব গোয়াল শ্রেণীভূক্ত প্রাণীগুলো দেশের চিকিৎসা ব্যবস্থার প্রতি আদৌ আস্থাশীল নন তাই তারা সুষ্ঠু চিকিৎসা প্রাপ্তির স্বার্থে দিন-দুপুরে প্রতিনিয়ত উড়াল দিয়ে সিঙ্গাপুর, অস্ট্রেলিয়ায় পাড়ি জমান। কারণ তারা জানেন আমাদেরই তৈরি বাণিজ্যিক চিকিৎসা প্রকল্প ব্যবস্থায় সুষ্ঠু চিকিৎসা পাওয়া মোটেও সম্ভবপর নহে।
এমনকি আন্তর্জাতিক মানের চিকিৎসা গ্রহণের ক্ষেত্রেও বাংলাদেশের কোন স্বাস্থ্য সেবা প্রতিষ্ঠান কর্তৃক Diagnosis report গ্রহণযোগ্য হয় না ফলে একই Investigation সেখানে প্রচুর টাকা খরচ করে পুনরায় করতে হয়। এটাও স্টেড মেডিকেল ফ্যালটি থেকে পাশকৃত মেডিকেল টেকনিশিয়ানদের কর্মদক্ষতারই ফসল।
প্রতিনিয়ত পত্র-পত্রিকায় দৃষ্টিগোচর হয় যে, সঠিক রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসার অভাবে প্রায়ই লোকজন মারা যাচ্ছে। এটাও স্টেড মেডিকেল ফ্যালটির টেকনিশিয়ানদের নগ্ন হস্তক্ষেপের সৃষ্ট ফল।
অদক্ষতা, অব্যবস্থাপনা, ব্যক্তিগোষ্ঠীর স্বার্থপরতা, রাজনৈতিক অপসংস্কৃতি ইত্যাদির সর্বগ্রাসী অাগ্রাসনে গোটা চিকিৎসা ব্যবস্থা যেন শ্বাসরুদ্ধকর হয়ে পড়েছে। হবেই না বা কেন, যে দেশে মেডিকেল টেকনোলজিষ্ট ও ফার্মাসিস্টের মর্যাদা সুরক্ষিত নয় সে দেশে ভাল ও ফলপ্রসূ চিকিৎসা ব্যবস্থা গড়ে উঠবে কি করে??
সুষ্ঠু চিকিৎসা প্রদানকল্পে উচ্চমহলের যেন কোন মাথাব্যথা নেই। যারা মাথা ঘামালে সুফল পাওয়া যায় তারা হয় নির্বিকার না হয় গাঁ ভাসিয়ে দিয়েছেন গড্ডলিকা প্রবাহে। জনস্বাস্থ‍্যকে ধ্বংস করে জনগণের অর্থে পরিচালিত চিকিৎসা ব্যবস্থায় আপনাদেরকে অবশ্যই জনতার আদালতে দাঁড়াতে হবে।
রোগ নিরুপণ ব্যবস্থাটি আজ অবহেলার খাদে পতিত হওয়ায় অামরা সঠিক চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছি। ফলে জনস্বাস্থ্যকে জনসম্পদে রুপান্তরিত করতে হিমশিম খাচ্ছি।
সাধারণ জনতাকে বলতে চাই, যেখানে সারবিশ্বে মেডিকেল টেকনোলজি ও ফার্মাসি ডিপ্লোমা পরিচালনা করছে শিক্ষ্যাবোর্ড বাংলাদেশে কি কারনে ব্যাতিক্রম।
জনসাধারনেরর সুবিদার্থে জানিয়ে রাখি বাংলাদেশের সকল মেডিকেল কলেজের
এমবিবিএস কোর্স ও অাইএচটির বিএসি কোর্স শিক্ষ্যা মন্ত্রনালয়।

লেখকঃ
ফারজানা লীজা
বিএসসি ইন মাইক্রবায়োলজী
(প্রাইম এশিয়া ইউনির্ভাসিটি)
প্ররিচালক- এপোলো হাসপাতাল এন্ড ডায়াবেটিস সেন্টার।

পাঠকের মতামত...

Total Page Visits: 19 - Today Page Visits: 5

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*