Logo
নোটিশ :
দেশর সকল জেলা-উপজেলা,থান-বিশ্ববিদ্যালয় ও সরকারি কলেজ সমূহে প্রতিনিধি নিয়োগ চলছে...মেধাবীদের কাছ থেকে আবেদন আহ্বায়ন করা যাচ্ছে । যোগাযোগ: ০১৭৭২০২৯০৪৮।
গেস্টরুম দখল নিয়ে ঢাবিতে ছাত্রলীগের দুই পক্ষে হাতাহাতি

গেস্টরুম দখল নিয়ে ঢাবিতে ছাত্রলীগের দুই পক্ষে হাতাহাতি

বাংলার কন্ঠস্বর // ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজয় একাত্তর হলে গেস্টরুম দখল নিয়ে হাতাহাতিতে জড়িয়েছে ছাত্রলীগের দুটি পক্ষ। সংগঠনটির কেন্দ্রীয় সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয় ও সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্যের অনুসারীদের মধ্যে এই হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। তবে এতে কারো আহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি।

সোমবার রাত ১১টার দিকে বিজয় একাত্তর হলের গণরুমে এই হাতাহাতির ঘটনা ঘটে।

জানা যায়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলগুলোতে শিক্ষার্থীদের ‘ম্যানার’ শেখানোর জন্য গেস্টরুম করান ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। সাধারণত হলের অতিথিকক্ষে জ্যেষ্ঠ নেতা-কর্মীরা কনিষ্ঠদের ‘ম্যানার’শেখান বলে এর নাম ‘গেস্টরুম’। তবে কখনো কখনো গণরুম বা হলের অন্য কোনো কক্ষেও ‘গেস্টরুম করানো’ হয়। প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের এই কর্মসূচির মুখোমুখি হতে হয়।

গেস্টরুম করানোর জন্য রাতের সময়কে ভাগ করে নেয় হল ছাত্রলীগের শীর্ষ নেতারা। সপ্তাহে তিন দিন দুই ঘণ্টা করে শিক্ষার্থীদের ‘ম্যানার’ শেখানো হয়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের হলগুলোতে বর্তমানে ছাত্রলীগের চারটি করে গ্রুপ রয়েছে। চার গ্রুপের প্রত্যেকে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক ও বিশ্ববিদ্যালয় শাখা কমিটির সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক যেকোনো একজনের অনুসারী হয়। যে যার অনুসারী সে তার নেতার দিক থেকে হল শাখা ছাত্রলীগের শীর্ষ পদ প্রত্যাশী এবং প্রত্যেক নেতার অনুসারী গ্রুপের নেতাকর্মীরা হলে আলাদা সিট দখল করে থাকে। আর প্রত্যেক গ্রুপ তাদের দখলকৃত সিটে উঠা শিক্ষার্থীদের ‘ম্যানার’ শেখান।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সোমবার  রাতে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয়ের গ্রুপের গেস্টরুমের নির্ধারিত সময় ছিল সাড়ে দশটায়। আর লেখকের গ্রুপের রাত সাড়ে আটটায়। সাড়ে আটটায় শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি কম থাকে বলে লেখকের অনুসারীরা গতকাল তাদের সাড়ে আটটার নির্ধারিত গেস্টরুমের সময় পরিবর্তন করে সাড়ে দশটায় টিভিরুম দখল করে গেস্টরুম নিচ্ছিলো।

জয়ের গ্রুপের অনুসারীরা গেস্টরুম নিতে গেলে তাদের এক ঘণ্টা পর্যন্ত অপেক্ষা করায় লেখকের অনুসারীরা। এতে জয়ের অনুসারীরা ক্ষিপ্ত  হয়ে গেস্টরুমে ঢুকে। এ সময় উভয় পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি হয়। তখন লেখকের প্রথম ও দ্বিতীয় বর্ষের অনুসারীদের রড স্ট্যাম্প নিয়ে গণরুমে অবস্থান নিতে দেখা যায়। পরে  হল সংসদের জিএস নাজমুল হাসান নিশান এবং হল সংসদের সাহিত্য সম্পাদক ফাহিম হাসানের মধ্যস্থতায় পরিস্থিতি শান্ত হয়।

তবে হাতাহাতির ঘটনা অস্বীকার করে ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক লেখকের অনুসারী হলের শীর্ষ পদ প্রত্যাশী ফাহিম হাসান বলেন, ‘আমাদের গ্রুপের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থীরা টিভিরুমে বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের কথা বলতেছিল। এ সময় জয় ভাইয়ের গ্রুপের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থীরা সেখানে যাওয়ায় আমাদের গ্রুপের সঙ্গে একটু উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছিল। আমরা সঙ্গে সঙ্গে সেখানে গিয়েছি। সেখানে কোনো মারামারির ঘটনা ঘটেনি।’

হাতাহাতির বিষয়টিকে বিশেষ কিছু মনে করছেন না ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক। লেখক ভট্টাচার্য বলেন, ‘বিষয়টি আমি জানি। তবে এটি তেমন কিছু না।’

ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয়ের অনুসারী হল শাখা ছাত্রলীগের শীর্ষ পদ প্রত্যাশী হারুনুর রশীদ বলেন, ‘আমাদের গ্রুপের ছেলেরা টিভি রুমে টিভি দেখতে গিয়েছিল। সেখানে একটু ঝামেলা হয়েছে।’

এ বিষয়ে হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. আব্দুল বাছির বলেন, ‘প্রতি হলেই গেস্টরুম হয়। তবে গতকালের ঘটনায় কেউ আমাকে এখন পর্যন্ত কোনো অভিযোগ দেয়নি। যদি শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ আসে তাহলে আমরা আইনানুগ ব্যবস্থা নেব।’

পাঠকের মতামত...

এ পোষ্টটি ভাল লাগলে বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




banglarkonthosor.com © 2015 RM Malti Midea
Desing & Developed BY ThemesBazar.Com