Home » জাতীয় » সকালে ভোটাররা ঘুম থেকে উঠতে পারে না তাই ভোটের সময় পরিবর্তন: ইসি সচিব

সকালে ভোটাররা ঘুম থেকে উঠতে পারে না তাই ভোটের সময় পরিবর্তন: ইসি সচিব

বাংলার কন্ঠস্বর // নির্বাচন ভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে নির্বাচন কমিশন সচিব মো. আলমগীর বলেছেন, সকালে ভোটাররা ঘুম থেকে উঠেন না, তাই ৮টার পরিবর্তে ৯ টায় ভোটগ্রহণ শুরু করে ৫টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইসি। চট্টগ্রামে সব কেন্দ্রে ইভিএম ব্যবহার হলেও বগুড়া-১ এবং যশোর-৬ আসনের উপ-নির্বাচনে ব্যালটে ভোটগ্রহণ হবে। রোববার (১৬ ফেব্রয়ারি) ৬১ তম কমিশন বৈঠক শেষে ভোটের তফসিল ঘোষণা করেন নির্বাচন কমিশন সচিব মো. আলমগীর।

আগামী ২৯ মার্চ চট্টগ্রাম সিটি করর্পোরেশন (চসিক) নির্বাচনের ভোগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। সব কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ হবে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএমে)। ঐদিন বগুড়া-১ এবং যশোর-৬ আসনের উপ-নির্বাচনও অনুষ্ঠিত হবে। ভোটগ্রহণ হবে সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত। তিনি বলেন, মনোনয়ন দাখিলের শেষ সময় ২৭ ফেব্রুয়ারি, মনোনয়নপত্র বাছাই ১ মার্চ, আপিল ২ থেকে ৪ মার্চ, প্রার্থিতা প্রত্যাহার ৮ মার্চ, প্রতীক বরাদ্দ হবে ৯ মার্চ। আর ভোটগ্রহণ হবে ২৯ মার্চ। ২০১৫ সালের ২৮ এপ্রিল চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনের ভোটগ্রহণ করে ইসি। এ সিটির মেয়াদ শেষ হবে ২০২০ সালের ৫ আগস্ট। নির্বাচনী আইন অনুযায়ী, ৫ আগস্টের পূর্ববর্তী ১৮০ দিনের মধ্যে নির্বাচনের বাধ্যবাধকতা রয়েছে।

সূত্র জানায়, চট্টগ্রাম সিটির মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ আগামী ৫ আগস্ট। গত ৭ ফেব্রুয়ারি ভোটের ক্ষণগণনা শুরু হয়েছে। এ সিটির মোট ওয়ার্ড ৪১টি, সংরক্ষিত ওয়ার্ড ১৪টি, মোট ভোটার সংখ্যা সম্ভব্য ১৯ লাখ ২ হাজার ৮১১ জন। নির্বাচন কর্মকর্তারা, ২০১৫ সালের ২৮ এপ্রিল সর্বশেষ চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ওই নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী সাবেক মেয়র এম মনজুর আলমকে হারিয়ে নির্বাচিত হন চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আ জ ম নাছির উদ্দীন। মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন ও ৪১ ওয়ার্ডের কাউন্সিলররা দায়িত্ব নিয়ে প্রথম সভা করেছেন ২০১৫ সালের ৬ আগস্ট। স্থানীয় সরকার নির্বাচন আইনে বলা আছে, নির্বাচিত পরিষদের দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথম সভার পাঁচ বছর মেয়াদ পূরণের দিন থেকে ১৮০ দিন আগে পর্যন্ত যে কোনও দিন নির্বাচন সম্পন্ন করতে হবে। সে হিসেবে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচন হতে হবে ২০২০ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে ৫ আগস্টের মধ্যে।

জানা যায়, ১৯৯০ সালের ৩১ জুলাই চট্টগ্রাম মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশনের নাম পরিবর্তিত করে ‘চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন’ নামকরণ করা হয়। মাহমুদুল ইসলাম চৌধুরী মেয়র হিসেবে নিযুক্ত করে তৎকালনি এরশাদ সরকার। পরবর্তীতে বিএনপি সরকার ক্ষমতায় এলে মেয়রের দায়িত্ব দেয়া হয় মীর মোহাম্মদ নাছির উদ্দিনকে। ১৯৯৪ সালে প্রথমবারের মত চসিক নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।

চসিকের প্রথম নির্বাচিত মেয়র হলেন চট্টগ্রাম নগর আওয়ামী লীগের তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক এবিএম মহিউদ্দীন চৌধুরী। তিনি ১৯৯৪ সালের ১১ মার্চ থেকে ২০১০ সালের ১ ফেব্রুয়ারি টানা ১৭ বছর মেয়র পদে ছিলেন। ২০১০ সালের নির্বাচনে এক সময়ের শিষ্য মনজুর আলমের কাছে পরাজিত হন। ২০১৫ সালের সিটি নির্বাচনে আওয়ামীলীগ সমর্থিত প্রার্থী আ জ ম নাছিরের কাছে পরাজিত হন বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী মনজুর আলম।

বগুড়া-১ ও যশোর-৬ আসনের উপনির্বাচন : বগুড়া-১ ও যশোর-৬ আসনের উপনির্বাচন চট্টগ্রাম সিটির সঙ্গে তফসিল দিয়ে । এ সিটির সঙ্গে একই দিনে ভোট করতে চায় ইসি। গত ২১ জানুয়ারি যশোর-৬ (কেশবপুর) আসনের সংসদ সদস্য ইসমাত আরা সাদেকের মৃত্যুতে আসনটি শূন্য হয়। এছাড়া ১৮ জানুয়ারি বগুড়া-১ আসনের আওয়ামী লীগ দলীয় সংসদ সদস্য আব্দুল মান্নানের মৃত্যুত আসনটি শূন্য হয়।

পাঠকের মতামত...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*