Home » আন্তজাতিক » কোয়ারেন্টাইনে থেকে জাস্টিন ট্রুডোর ফেসবুক পোস্ট

কোয়ারেন্টাইনে থেকে জাস্টিন ট্রুডোর ফেসবুক পোস্ট

বাংলার কন্ঠস্বর // দুনিয়াব্যাপী ছড়িয়ে পড়েছে প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস। চার সহস্রাধিক লোকের মৃত্যু হয়েছে এ রোগে। এ নিয়ে উদ্বিগ্ন বিশ্ববাসী। করোনাভাইরাস পরিস্থিতি, সতর্কতামূলক ব্যবস্থা ও এর সংক্রমণ থেকে বাঁচার উপায় নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে পোস্ট দিয়েছেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো। পাঠকদের উদ্দেশে ট্রুডোর পোস্টটি তুলে ধরা হলো।

সারা বিশ্বে কোভিড-১৯ (করোনাভাইরাস) পরিস্থিতি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। আমরা আমাদের অর্থনীতিকে সমৃদ্ধ করতে এবং আপনাকে নিরাপদ রাখতে সার্বক্ষণিক কাজ করছি। করোনার সংক্রমণ মোকাবেলায় গতকাল আমরা অতিরিক্ত ব্যবস্থা নেয়ার ঘোষণা দিয়েছি।

কানাডার পরিবহনমন্ত্রী জোসেন জেন পিয়েরে গার্নেউর এক ঘোষণার বরাত দিয়ে দেশটির প্রধানমন্ত্রী পোস্টে উল্লেখ করেন, ‘করোনার কারণে আমরা ক্রুজ জাহাজের (প্রমোদতরী) মৌসুম এখনই শুরু না করে ১ জুলাই পর্যন্ত বিলম্বিত করছি। এ মৌসুমে আমরা উত্তর কমিউনিটিতে কোনো ক্রুজ জাহাজকে ভিড়তে কিংবা ফেরী করতে দিচ্ছি না।’ কানাডার সরকারের নেয়া এ উদ্যোগ কীভাবে করোনার বিস্তার প্রতিরোধ করতে সাহায্য করবে, সেটি নিয়ে ট্রুডো ফেসবুকে একটি লিংক জুড়ে দিয়েছেন : https://bit.ly/2QeGaSI।

কানাডার আন্তঃসরকার ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমন্ত্রী উইলিয়াম ফ্রান্সিস বিল মর্নেউর ঘোষণার বরাত দিয়ে ট্রুডো পোস্টে লিখেন, আমরা কানাডার বিজনেস ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক এবং রফতানি ডেভেলপমেন্ট কানাডার মাধ্যমে বাণিজ্য খাতে ১০ বিলিয়ন ডলার তহবিল ঘোষণা করছি। যেটি করোনা পরিস্থিতিতে বাণিজ্য খাতকে সুদৃঢ় করবে এবং আমাদের অর্থনীতিকে স্থিতিশীল করতে সাহায্য করবে। এই তহবিল কানাডার শ্রমিকদের অর্থনীতিকে সুরক্ষা দেবে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী ট্রুডো।পর্যটনমন্ত্রী শ্যাম্পেনের ঘোষণার উদ্ধৃতি দিয়ে কানাডার প্রধানমন্ত্রী লিখেন, এসব ঘোষণার পাশাপাশি কানাডার বাইরে আমাদের নাগরিকদের সব ধরনের অপরিহার্য ভ্রমণ এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছেন মন্ত্রী শ্যাম্পেন। আমরা সব আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, সীমান্ত, ফেরি এবং রেলস্টেশনে প্রবেশের জন্য স্ক্রিনিং ও শনাক্তকরণ প্রক্রিয়া উন্নত করেছি।

জাস্টিন ট্রুডো আরও লিখেন, করোনা পরিস্থিতিতে এসব সতর্কতা ও গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেয়ার উদ্দেশ্য আমাদের অর্থনীতিকে রক্ষা করা এবং সব নাগরিককে নিরাপদ রাখা। আমরা প্রতিটি প্রদেশ ও অঞ্চলে সরকারি বেসরকারি চাকরিজীবী, ব্যবসায়ী এবং জনস্বাস্থ্য কর্মকর্তাসহ সবার স্বাস্থ্য সুরক্ষায় বদ্ধ পরিকর। আমরা সবাই মিলে যে কোনো পরিস্থিতি মোকাবেলা করব।

উল্লেখ্য, কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডোর গোটা পরিবার গত শুক্রবার থেকে করোনাভাইরাসের আশঙ্কায় কোয়ারেন্টাইন হয়ে আছে। আতঙ্কিত দেশবাসীকে জাস্টিন ট্রুডো আশ্বস্ত করেছেন, তিনি দেশের শাসন চালিয়ে যাচ্ছেন। আর তার সন্তানেরা চার দেয়ালে বন্দী থেকে গেমস খেলে সময় কাটাচ্ছে।

গত বৃহস্পতিবার রাতেই ট্রুডোর কার্যালয় থেকে ঘোষণা দেয়া হয়, প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডোর স্ত্রী সোফি গ্রেগয়ের ট্রুডো করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। স্বাস্থ্য পরীক্ষায় তার শরীরে করোনাভাইরাসের কারণে দেখা দেয়া কোভিড-১৯ রোগের উপস্থিতি শনাক্ত হয়েছে। চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী সোফিকে নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত আইসোলেশনে রাখা হবে।

৪৮ বছর বয়সী কানাডার নেতা জাস্টিন ট্রুডো ও তার ৪৪ বছরের স্ত্রী এবং ৬ থেকে ১২ বছর বয়সের তিন সন্তানকে ১৪ দিনের জন্য বিচ্ছিন্ন করে রাখা হয়েছে সংসদ থেকে কয়েক কিলোমিটার দূরে এক বাড়িতে।

পাঠকের মতামত...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*