Home » বরিশাল » ঝালকাঠি » ঝালকাঠিতে বিপুল সংখ্যক বিষধর সাপ পোষেন দুই সাহসী যুবক!

ঝালকাঠিতে বিপুল সংখ্যক বিষধর সাপ পোষেন দুই সাহসী যুবক!

বাংলার কন্ঠস্বর // ঝালকাঠিতে বিপুল সংখ্যক বিষধর সাপ পোষেন দুই সাহসী যুবক। বানিজ্যিক ভাবে বিষধর সাপের খামার গড়ে উঠতে শুরু করা সেই সাহসী যুবকরা এখনো সপ্ন দেখে আজ সেই বিষধর সাপ পোষেন । সম্ভাবনাময় খাত হিসেবে এ খামার প্রতিষ্ঠায় আগ্রহী হয়ে উঠেছে অনেকেই। বিষধর সাপ চাষ করে বিষ উৎপাদন এবং বিক্রয় ও রপ্তানির লক্ষ্য নিয়ে গড়ে ওঠা এসব খামার সরকারি অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। এছাড়া লোকালয়ে বিশেষ করে বাড়ি ঘরে বিষধর সাপের অস্তিত্ব দেখা দিলে খামারীরা তা ধরে এনে তাদের খামারে লালন পালন করছেন। এর ফলে এই প্রানীটির মানুষের হাতে প্রান হারানোর অসংকা অনেকটা হ্রাস পাচ্ছে। রক্ষা পচ্ছে পরিবেশগত ভারসম্য।

ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলার মোঃ সালাহউদ্দিন মৃধা পেশায় একজন ওয়ার্কসপ মেকানিক অনেকটা হঠাৎ করেই তার মাথায় খেয়াল চাপল বানিজ্যিক ভিত্তিতে সাপের খামার গড়ে তোলার। যেমন ভাবা তেমন কাজ পটুয়াখালীর সর্পচাষী রাজ্জাক বিশ্বসের কাছ থেকে সাপ চাষের কলাকৌশল শিখে এসে দেড় বছর আগে ৫টি গোখরা সাপ নিয়ে শুরু করেন সাপ চাষ। এখন তার খামারে ৪৫ টি সাপ রয়েছে।

অপরদিকে নলছিটি উপজেলার তৌকাঠি গ্রামের জিয়াদ মোল্লাও দুইজন অংশিদার নিয়ে একই ভাবে গড়ে তুলেছেন সাপের খামার যেখানে রয়েছে ৫০টি বিষধর সাপ। এসব খামারে নিয়মিত খাবার সরবরাহ এবং সাপের প্রজননের ব্যবস্থাও রয়েছে। তারা জানান জীবন রক্ষাকারি বিভিন্ন মুল্যবান ঔষধ তৈরিতে সাপের বিষের প্রয়োজন হয়। এ বিষ আমদানি করতে প্রচুর বৈদেশিক মূদ্রা খরচ হয়। দেশে সাপের বিশ উৎপাদন করা গেলে একদিকে যেমন বৈদেশিক মূদ্রা সাশ্রয় হবে অন্যদিকে বিষ রপ্তানী করে প্রচুর বৈদেশিক মূদ্রা অর্জন সম্ভব হবে। তাছাড়া লোকালয়ে বিষধর সাপ প্রবেশ করলে সেগুলোকে পিটিয়ে মেরে ফেলা হয়। এতে বিরল প্রজাতির অনেক সাপ বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে। তারা এখন কোথাও সাপের উপদ্রবের খবর পেলে সেগুলো ধরে এনে খামারে লালন পালন করছেন। তবে বন্যপ্রানী সংরক্ষন আইন অনুযায়ী এধরনের খামার করতে সরকারি অনুমোদন প্রয়োজন হয়। উদ্যোক্তারা এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্শন করছেন।

ঝালকাঠি প্রাণিসম্পদ বিভাগ সূত্র জানিয়েছে, জেলায় দু’টি সাপের খামার প্রাতষ্ঠা করা হয়েছে এবং তারা সরকারি অনুমোদনের তদ্বির করছেন। তাদের এই খামার লাভজনক হলে এটি একটি সম্ভাবনাময় খাত হিসেবে প্রতিষ্ঠা লাভ করবে এবং আরো অনেকে এ কাজে আগ্রহী হবেন।

পাঠকের মতামত...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*