Home » বরিশাল » বরিশালে ট্রাফিক সার্জেন্টকে পেটালেন সেই মূর্তিমান আতঙ্ক যুবলীগ নেতা

বরিশালে ট্রাফিক সার্জেন্টকে পেটালেন সেই মূর্তিমান আতঙ্ক যুবলীগ নেতা

বাংলার কন্ঠস্বর // বরিশাল শহরের উত্তর অঞ্চলের মূর্তিমান আতঙ্ক যুবলীগ নেতা মজিবর সিকদার এবার পুলিশের ট্রাফিক সার্জেন্টকে পিটিয়ে নতুন করে আলোচনায় আসছেন। কিন্তু শেষরক্ষা হয়নি। শনিবার সন্ধ্যা রাতে কাউনিয়া থানা পুলিশ তাকে সঙ্গীসহ গ্রেপ্তার করেছে। সেই সাথে তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়েছে। জনৈক এক ব্যক্তি একটি প্রাইভেটকার ক্রয় করলে তার কাছে চাঁদা চাওয়া নিয়ে বিবাদ মীমাংসায় সার্জেন্ট শহীদুল ইসলাম উত্তর আমানগঞ্জ এলাকায় উপস্থিত হওয়া মাত্র তার ওপর হামলা চালানো হয়। বেশ কয়েকদিন ধরে স্থানীয় জুয়েল নামক ওই প্রাইভেটকার মালিকের কাছে মজিবর বাহিনী চাঁদা চেয়ে আসছিল বলে পুলিশ নিশ্চিত করেছে।

স্থানীয় বহুমুখী সূত্র জানায়- বরিশাল সিটির ৪ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মজিবর সিকদারের নিজস্ব একটি বাহিনী রয়েছে বলে এলাকায় জনশ্রুতি রয়েছেন। এই বাহিনীর মূল চালিকা শক্তি হচ্ছে- ৫ থেকে ৬ জন। এলাকায় জমি বেঁচ-কেনাসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে চাহিদামাফিক চাঁদা দাবি এবং নানা নির্দেশনা মেনে চলছে বাধ্য করে। সেই সাথে গোটা এলাকায় সন্ত্রাস সৃষ্টির নানা উদাহরণ রয়েছে। মাদক বিস্তারে তাদের সহায়তার কথা কারও অজানা নয়। অবশ্য এদের দাপটের সীমানা আমানগঞ্জ ছাপিয়ে শায়েস্তাবাদ ইউনিয়ন পর্যন্ত বিস্তৃত। রাইসমিল এলাকার সম্মুখে একটি অঘোষিত বা অস্থায়ী আ’লীগের কার্যালয় বানিয়ে সেখানেই এখন মজিবর বাহিনীর আস্তনা। ওই কার্যালয়টি বছর দেড়েক পূর্বে সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ তার নির্বাচনী ক্যাম্প হিসেবে স্থাপন করেছিলেন। একজন ওয়ার্ড যুবলীগ নেতা হয়ে একটি সন্ত্রাসী বাহিনী গঠন করে চাঁদাবাজি ও নৈরাজ্য সৃষ্টির মাধ্যমে দীর্ঘদিন আতঙ্ক তৈরি করলেও থানা পুলিশ অজ্ঞাত কারণে তাদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিতে অগ্রসর হচ্ছিল না।

সূত্র জানায়- থানা পুলিশের কাছে এই বাহিনীর বিরুদ্ধে একাধিক নির্যাতিত ব্যক্তি অভিযোগ দিয়েও সুরহা পায়নি। উপরন্ত পুলিশ মজিবরকে নানাভাবে সহায়তা দেওয়ার উদাহরণ রয়েছে। কাকতালীয়ভাবে শনিবার সন্ধ্যায় পুলিশ সার্জেন্টকে পোটানোর কারণে কাউনিয়া থানা পুলিশ এবার সরব হয়েছে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর ইজ্জত রক্ষার স্বার্থে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়- উত্তর আমানতগঞ্জের অটোরাইস মিল এলাকায় জুয়েল সম্প্রতি একটি পুরানো প্রাইভেটকার ক্রয় করে বাণিজ্যিক উদ্দেশে। মজিবর বাহিনী দাবি করে আসছিল নতুন গাড়ি ক্রয়ের খুশি করতে কিছু অর্থের। কিন্তু জুয়েল চাঁদার বিষয়ে কর্ণপাত না করায় শনিবার সন্ধ্যায় মজিবরের মুখোমুখি হলে টানা-হেচড়া শুরু করে। এসময় মজিবরের সহযোগী নিজাম সিকদারও অংশ নেয়। উভয়পক্ষের উচ্চবাচ্য এবং জুয়েলকে পেটানো শুরু করলে লোকসমাগম দেখে ওই সড়কে দায়িত্বরত সার্জেন্ট সেখানে উপস্থিত হয়ে নিজের পরিচয় দিয়ে ঘটনার সমাপ্তি টানতে অনুরোধ রাখেন। এতে মজিবর আরও ক্ষিপ্ত হয়ে যান। ধারণা জুয়েল পরিস্থিতির আলোকে পুলিশ সার্জেন্টকে খবর দিয়ে নিয়ে এসেছেন। এরপরেই সার্জেন্ট শহীদুল ইসলামকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করে। কেউ কেউ বলছে- তাকে পেটানো হয়েছিল। এই ঘটনা তাৎক্ষণিক পৌছে যায় মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি/উত্তর) মো. খাইরুল আলমের কাছে। এই পুলিশ কর্তা কদিন পূর্বে ট্রাফিক বিভাগের প্রধান প্রধান ছিলেন। তিনি তাৎক্ষণিক কাউনিয়া থানা পুলিশকে মজিবরসহ তার সহযোগী নিজামকে আটক মামলা গ্রহণের নির্দেশনা দেন। পুলিশ নেমে পড়ে মাঠে। কিছুক্ষণের মধ্যে উত্তর আমানতগঞ্জ এলাকা থেকে উভয়কে আটক করে এই ঘটনায় একটি মামলা দায়ের করে। পুলিশের এই ভুমিকা বিস্ময়কর। কারণ মজিবরের সাথে থানা পুলিশের যে সখ্যতা তাতে আটকের বিষয়টি কেউ ধারণাই আনতে পারেনি।

স্থানীয় একাধিক সূত্র জানায়- মজিবর আটকের সাথে সাথেই নিজেকে মহানগর আওয়ামী লীগ নেতা নিরব হোসেন টুটুলের সহচর দাবি করে থানা হাজতে নানা হম্বিতম্বি শুরু করে। উল্লেখ আ’লীগ নেতার সাথে সাংগঠনিক কারণে যোগাযোগ থাকায় তার নাম ব্যবহার করেই মজিবর দাপটীয় একটি স্বর্ণযুগ তৈরি করেছিলেন। মজিবর ওয়ার্ড যুবলীগ নেতা হলেও বিএনপি স্থানীয় পর্যায়ের নেতাদের সমন্বয় তার বাহিনী গড়ে তোলে। যেমন নিজাম সিকদার একজন, তিনি বিএনপির রাজনীতির সাথে ওৎপ্রোতভাবে জড়িত এবং তাদের ক্ষমতার আমলে তার দাপটের কমতি ছিল নয়। এই বাহিনীতে আরও ৩ ব্যক্তি রয়েছেন, এদের মধ্যে মিরাজ সিকদার, লোকমান ও বেলতলার রিয়াজ নেতৃত্বের অগ্রভাগে থেকে মজিবরকে সার্বিক সহায়তা এবং ক্যাডার বেষ্টিত অনুকরণে আগলে রাখেতে দেখা যায়। কে এই মজিবর? তার অতীত ইতিহাস খুঁজলে বর্তমান অস্তিত্ব ছাড়া আর কিছুই মেলেনি।

এদিকে আ’লীগ নেতা টুটুল ওয়ার্ড যুবলীগ নেতা মজিবরের সাথে পরিচয় থাকার কথা বললেও সন্ত্রাস-চাঁদাবাজির ক্ষেত্রে কোনরুপ সহায়দানের কথা দৃঢ়তার সাথে অস্বীকার করেছেন। তার ভাষায়- তার নাম ব্যবহার করে এরকম অনেকেই অপরাধ করে পাড় পাওয়ায় সেতু তৈরি করছেন বলে তিনি অবগত। কিছু কিছু ক্ষেত্রে এ ধরনের সেতু অর্থাৎ আতঙ্ক সৃষ্টিকারীদের দমনে প্রশাসনসহ সাংগঠনিকভাবে শায়েস্তা করেছেন দাবি করে। এছাড়া কারও অপরাধের দায়ভার সংগঠন নেবে না বলে হুঁশিয়ারি দেন।

পাঠকের মতামত...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*