Home » বরিশাল » বিপর্যস্ত কীর্তনখোলা : দূষণরোধে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের দাবি

বিপর্যস্ত কীর্তনখোলা : দূষণরোধে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের দাবি

বাংলার কন্ঠস্বর // উচ্চাদালতের নির্দেশনার পরপরই সারাদেশে নদীতীর অবৈধ দখলমুক্তে অভিযান চলছে। তবে বরিশালে এখনও এর প্রভাব পড়েনি। আর এর ফলে দখলের কবলে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে কীর্তনখোলা নদী। আর নজরদারির অভাবে প্রতিনিয়ত বাড়ছে দূষণ। বিভিন্ন কৌশলে দখলদারদের স্থাপনা নির্মাণ এবং পলি পড়ে ভরাট হচ্ছে নদী তীর এলাকা। যদিও নির্মিত শহর রক্ষা বাঁধের কারণে তেমন সুবিধা করতে পারছেনা অবৈধ দখলদাররা।

তবে নদীকে আবর্জনার ভাগাড়ে পরিণতের বিষয়টি অব্যাহত রয়েছে। বিশেষ করে নদী সংলগ্ন স্থানে গড়ে ওঠা বাজারগুলোর প্রতিদিনের আবর্জনা ফেলা হচ্ছে নদীতেই। আর এসব বন্ধে এখনও পর্যন্ত দীর্ঘস্থায়ী কোনো পদক্ষেপ নিতে পারেননি সংশ্লিষ্টরা।

সর্বশেষ ২০১৬ সালে উচ্চাদালতের নির্দেশে বরিশাল নদী বন্দর এলাকায় উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়েছিল। তবে দখলদারদের তালিকা প্রস্তুত করতে না পারায় থমকে যায় সেই অভিযান। পরবর্তীতে মুজিববর্ষ উপলক্ষে চলতি বছরের ৯ জানুয়ারি কীর্তনখোলার তীরে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে সীমিত আকারে অভিযান পরিচালনা করেছিল বিআইডব্লিউটিএ। প্রসংগত, ১৯৬০ সালের মৌজা অনুযায়ী পূর্ণ জোয়ার থাকাকালীন নদী তীরের জলরেখা থেকে উপরের দিকে দেড়শ ফুটের মালিক বিআইডব্লিউটিএ।

এদিকে গত বছর বিশ্ব নদী দিবস উপলক্ষে আয়োজিত মানববন্ধন কর্মসূচিতে জেলা প্রশাসক এসএম অজিয়র রহমান কীর্তনখোলা নদী রায় প্রশাসনের প থেকে পদক্ষেপ গ্রহণের বিষয়ে আশ্বস্ত করেছিলেন। এসময় বক্তারা নদী-খাল দখল ও দূষণ রোধে ‘বিশেষ ট্রাইব্যুনাল কোর্ট’ গঠন করে অভিযুক্তদের কাছ থেকে তিপূরণ আদায়সহ কারাদ-ের বিধান নিশ্চিতের দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি নগরীর মধ্যে অবস্থিত ওষুধ শিল্প-কারখানাগুলো নির্দিষ্ট শিল্পজোনে স্থানান্তর, প্রতিমাসে ন্যূনতম একবার মোবাইল কোর্ট পরিচালনাসহ ১৭ দফা দাবি আদায় ও দ্রুত কার্যকরের আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

সম্প্রতি উচ্চ আদালত এক পর্যবেক্ষণে দেশের নদ-নদীগুলোকে ‘জীবন্ত সত্তা’ হিসেবে আখ্যায়িত করে অবৈধ দখল বন্ধে নির্দেশনা দেন। তবে কীর্তনখোলার তীরের দখলদারদের উচ্ছেদে কোনো ধরনের স্থায়ী কার্যক্রম এখন পর্যন্ত পরিলক্ষিত হয়নি। নদীর তীরে অপরিকল্পিত ও অপ্রয়োজনীয় অবৈধ লো-কসট্ অবকাঠামো নির্মাণ, নদীর তীরকে বর্জ্য অপসারণের ভাগাড় হিসেবে ব্যবহার প্রভৃতি কারণে কীর্তনখোলা নদী বিপর্যস্ত রূপ ধারণ করেছে।

ছাড়া নৌযানের পোড়া জ্বালানি, পলিথিন নিক্ষেপ ও মনুষ্য বর্জ্য নির্গমন, নদীখেকো ভূমিদস্যুদের দৌরাত্ম্য সর্বোপরি সংশ্লিষ্টদের নজরদারির অভাবে নদী তার নিজস্ব চরিত্র হারিয়ে ফেলছে। ভরাট ও দখল দৌরাত্ম্যে সংকুচিত হয়ে পড়ছে কীর্তনখোলা নদী। রসুলপুর বাঁকে নাব্যতার কারণে চর পড়ছে এবং দখল হয়ে যাচ্ছে। এ অবস্থায় নদীর তীর রক্ষায় উচ্চাদালতের নির্দেশনা অনুসরণে সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন নগরবাসী।

এ প্রসংগে শহীদ আবদুর রব সেরনিয়াবাত বরিশাল প্রেসকাবের সাবেক সহ-সভাপতি এমএম আমজাদ হোসাইন বলেন, নদী রক্ষায় উচ্চাদালতের রায় অনুসরণে নদীর জোয়ারকালীন সীমানা নির্ধারণ ও হালনাগাদকরণ করতে হবে। ডাটা ব্যাংক গঠন করে নদী সংরক্ষণে উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরি। পাশাপাশি নদীর ‘ফোরসোর’ এলাকা কোনোভাবেই লিজ দেয়া যাবেনা। সমন্বিত এসব উদ্যোগ গ্রহণ এবং কার্যকরের মাধ্যমে কীর্তনখোলার দখল-ভরাট রোধ করা সম্ভব বলে অভিপ্রায় ব্যক্ত করেন তিনি।

এ বিষয়ে বরিশাল জেলা প্রশাসক এসএম অজিয়র রহমান বলেন, আমরা বসে নেই। আমাদের সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। বরিশালের নদী-খালের সৌন্দর্য বর্ধনের কাজ অচিরেই শুরু হবে। এছাড়া কীর্তনখোলাকে কেন্দ্র করে পর্যটন স্পট গড়ে তোলা হবে বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক এসএম অজিয়র রহমান।

পাঠকের মতামত...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*