Home » বরিশাল » ভোলা » করোনায় দুর্বিষহ চরফ্যাসনের বেড়ীবাঁধের জনজীবন

করোনায় দুর্বিষহ চরফ্যাসনের বেড়ীবাঁধের জনজীবন

আকতারুজ্জামান সুজন, চরফ্যাসন (ভোলা) প্রতিনিধিঃ ভোলা জেলার চরফ্যাসন উপজেলার তেঁতুলিয়া নদীর বেড়ীবাঁধে বসবাসরত মানুষের জীবন খুব কাছ থেকে দেখেছি। দেখেছি ওদের দুঃখ গাথার বাস্তব চিত্র। সভ্যতার বিকাশ হয়, সেই আলোয় ওরা বিকশিত হয় না। ওদের কোন উন্নতি হয় না। ওরা ঘিঞ্জি আর নোংড়া পরিবেশে বসবাস করে। ওদের ঘরের বেড়া দিয়ে কুকুর ঢোকে। বাদলার দিনে চালের ফুটো দিয়ে জল পড়ে। ঝড়ে ঘর ভাঙে। কোন বেলা খেতে পায়, কোন বেলা পায় না। ভাতের খিদে মেটাতে মাছ বিক্রি করে ওরা। ছেলেমেয়েরা কাদা-মাটি মেখে উলঙ্গ থাকে রাতদিন। উৎসব-পার্বণে একটা লাল জামার জন্য চোখের জলে ভাসে ওদের অবুঝ শিশুরা। আজও ওদের পরনে তেল চিটচিটে ছেঁড়া ময়লা কাপড়। বউরা দুই কাপড়ে বছর কাটায়। দিনরাত পরিশ্রম করার পরও নিত্যদিনের অভাব যেন ওদের ছায়াসঙ্গী। তারপরও চোখমুখে অন্ধকারে রাস্তা খোঁজার প্রাণান্তকর চেষ্টা।

চরফ্যাসন উপজেলার তেঁতুলিয়া নদীর বেড়ীবাঁধে বসবাসরত পরিবারগুলোর সাদা-কালো জীবনে বাঁক নিয়েছে প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাস। বিশেষকরে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ রোধে জনসমাগম ও চলাচলের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করায় কাজ হারিয়ে বিপাকে পড়েছেন তেঁতুলিয়ার বেড়ীবাধের জেলেপল্লীর জেলেরা ও খেটে খাওয়া মানুষ।পুরো বেড়ীবাঁধ জুড়ে বাড়ছে ক্ষুদার জ্বালা।জেলে পল্লীতে চলছে চরম অভাব অনটন। এ পর্যন্ত উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ অঞ্চলে যে ত্রাণ দেওয়া হয়েছে প্রয়োজনের তুলনায় তা অনেক কম। ফলে পরিবার-পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে কয়েক হাজার মানুষ।

চরফ্যাসন উপজেলার নীলকমল, নুরাবাদ ও অাহম্মপুর ইউনিয়নের তেঁতুলিয়া নদীর বেড়ীবাঁধ ঘুরে জানা যায়, এখানে জেলে-মাঝি সহ খেটে খাওয়া মানুষের এখন দুর্বিষহ জীবন চলছে। মাছ ধরতে ও কাজ করতে পারছেন না। যে কারণে অনেকের চুলাও জ্বলছে না আগুন।
জেলেরা জানান, ঝড়, জলোচ্ছ্বাস সবকিছুই মোকাবিলা করে মেঘনা ও তেঁতুলিয়া নদীতে এসব জেলেরা মাছ শিকার করে থাকেন। জীবিকার জন্য জীবন বাজি রেখে প্রকৃতির সঙ্গে যুদ্ধ করে অনেক সময় তাদের অথৈ সাগরে যেতে হয় মাছ শিকারে। বর্তমানে করোনার কারণে তারা কাজে যেতে পারছেন না। এর কারণে তিন বেলা খাবারও জুটছে না এসব কর্মহীন জেলেদের।

নীলকমল ইউনিয়নের ৮ নং ওয়ার্ডের তেঁতুলিয়া নদীর বেড়ীবাঁধে বসবাসরত জেলে মোঃ জুলহাস (৩৭) শাহানুর পাটোয়ারি (৪৪) ও সালাম (৩৮) জানান, করোনা ভাইরাস প্রতিরোধের চেয়ে তাদের কাছে তিনবেলা খাবার খেয়ে জীবন বাঁচানোটাই এখন দায় হয়ে পড়েছে। দীর্ঘদিন তারা নদীতে মাছ ধরতে পারছেন না। সংসার চালাতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছেন তারা। সবমিলিয়ে গত কয়েক দিনে তাদের জীবন হয়ে উঠেছে দুর্বিষহ।

নুরাবাদ ইউনিয়নের ৯ নং ওয়ার্ডের বেড়ীবাঁধে বসবাসরত দিনমজুর অাবু কালাম (৩৮) সেলিম (৪০) ও সিরাজ (৪২) জানান, করোনায় তারা একদিকে আতঙ্কিত। অপরদিকে কাজ না করলে পরিবার নিয়ে বেঁচে থাকার দায়। সব মিলিয়ে ভালো নেই তারা।

অাহাম্মদুর ইউনিয়নে চৌকিদার খাল সংলগ্ন বেড়ীবাঁধে বসবাসরত জেলে শফিজল (৪২) বলেন, কী করবো, ঘরে বসে থাকলে তো আর পেট চলবে না। ছেলে-মেয়েদের মুখে আহার দিতে হবে। কারও কাছে ধার চেয়েও পাইনি।

এ ব্যাপারে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ রুহুল আমিন বলেন, চরফ্যাসন উপজেলা তেঁতুলিয়া নদীর বেড়ীবাঁধে বসবাসরত মানুষের জন্য বিশেষ কোনো ত্রানের বরাদ্ধ নেই, তবে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশ অনুযায়ী উপজেলা প্রশাসন ইউপি চেয়ারম্যানদের মাধ্যমে ইতিমধ্যে উপজেলার সকল ইউনিয়নে ত্রান বিতরণ করেছে এবং ধারাবাহিকভাবে এ ত্রান বিতরণ অব্যাহত থাকবে।

পাঠকের মতামত...

Total Page Visits: 5 - Today Page Visits: 1

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*