Home » বরিশাল » বরিশালে লিফটের নীচে চিকিৎসকের লাশ: রহস্যের জালে নতুন আলামত

বরিশালে লিফটের নীচে চিকিৎসকের লাশ: রহস্যের জালে নতুন আলামত

বাংলার কন্ঠস্বর // লিফট এর নীচ থেকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালের বার্ন এন্ড প্লাস্টিক সার্জারি বিভাগের সিনিয়র কনসালট্যান্ট (সহকারী অধ্যাপক) ডা. এম এ আজাদ সজল এর মৃতদেহ উদ্ধারের ৩৬ ঘন্টা পেরিয়ে গেছে অনেক আগেই।

তবে এখন পর্যন্ত তার মৃত্যু রহস্যের কুল কিনারা খুজে বের করতে পারেনি র‌্যাব, পুলিশ বা গোয়েন্দা সংস্থা। বরং ডা. আজাদের অস্বাভাবিক মৃত্যু আর মমতা স্পেসালাইজড হাসপাতালের লিফট নিয়ে গোলক ধাধায় পড়েছেন তারা।

একজন স্বাস্থ্যবান এবং সচেতন মানুষ কিভাবে লিফটের নীচে পড়ে যেতে পারে সে রহস্য পীড়া দিচ্ছে তদন্ত কর্মকর্তাদের। আর তাই এই রহস্যের জাল ভেদ করতে বুধবার পুনরায় ঘটনাস্থলে যান র‌্যাব এবং পুলিশের পৃথক টিম। পুংখানুপুংখভাবে তারা তদন্ত করেছেন।

তবে হাসপাতাল কর্তপক্ষের দৃঢ় বিশ্বাস এটি দুর্ঘটনা ছাড়া কিছু নয়। কিন্তু তাদের সেই বিশ্বাসকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সামনে এসে পড়ে দুটি গুরুত্বপূর্ণ আলামত। যার একটি মমতা স্পেশালাইড হাসপাতালের তৃতীয় তলায় অপারেশন থিয়েটারের সামনে লিফটের দরজায় রক্তের দাগ এবং অপরটি লিফটের দরজায় আঘাতের চিহ্ন।

এ দুটি আলামত রহস্যের জাল আরও ঘনিভূত করে তুলেছে ঘটনাস্থলে তদন্তে যাওয়া র‌্যাব এবং পুলিশের দুটি চৌকস টিমকে। তাদের মতে ‘যিনি আগে লিফটে উঠতে চেয়েছেন, তিনি আগে থেকেই আহত ছিলেন। তার হাত থেকেই এই রক্ত লাগতে পারে। আবার ধস্তাধস্তির কারণে দরজায় আঘাত লাগতে পারে।

অবশ্য এটি দুর্ঘটনা কিনা সে বিষয়টিও তদন্তের ক্ষেত্রে প্রাধান্য পাচ্ছে। তবে ‘লিফট দরজার অর্ধেকে এসে থেমে ছিল, ডাক্তার আজাদ দরজা খুলে লিফট দেখতে না পেয়ে নীচে পড়ে যান, সেটিও তদন্ত টিমের কাছে খাপছাড়া লাগছে। যদি লিফট দরজার মাঝে থেমে থাকে, তবে ভুল করে উঠতে গেলে তার মাথায় আঘাত পাওয়ার কথা। অথবা হাতের কবজিতে। কিন্ত তার মাথায় আঘাত ছিল না। বরং হাতের সোল্ডার ভাঙ্গা ছিল।

এদিকে তদন্তকারীরা এসব রহস্যের উত্তর খোঁজতে গিয়ে গোলা ধাঁধার মধ্যে পড়েছেন। আর এই গোলক ধাঁধা থেকে বেরিয়ে আসতে মমতা স্পেসালাইজড হাসপাতালে লিফট সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের লোকেদের বরিশালে আনার বিষয়টিতে গুরুত্ব দিচ্ছেন আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

এছাড়া রহস্য উদঘাটনে জিজ্ঞাসাবাদ কার্যক্রম থেমে নেই। এই ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নেয়া মমতা স্পেসালাইজড হাসপাতালের ৯ জন কর্মকর্তা কর্মচারীকে এখনো জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। এর বাইরে আরও ৩-৪ জনকে নজরদারীতে রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছে কোতয়ালী মডেল থানা পুলিশ। সবশেষ বুধবারও দিনভর তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। কিন্তু এ বিষয়ে চাঞ্চল্যকর কোন তথ্য উপাথ্য এসেছে কিনা তদন্তের স্বার্থে সে বিষয়ে মুখ খলতে নারাজ পুলিশ।

যদিও ডা. আজাদের মরদেহ উদ্ধারের পর থেকেই একটি গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে সর্বমহলে। বলা হচ্ছে ডা. আজাদ মমতা হাসপাতালের দ্বিতীয় তলায় ব্যক্তিগত চেম্বারে রোগী দেখতেন। আর একই ভবনের সপ্তম তলার একটি কক্ষে ব্যাচেলর জীবন যাপন করতেন। ওই কক্ষেই তার দুই মাসের প্রচুর টাকা ছিল। যা রোগী দেখা এবং অপারেশনের ফি বাবদ তিনি উপার্জন করেছেন।

তবে এমন গুঞ্জন শুধুই গুজব বলে উড়িয়ে দিচ্ছেন হাসপাতালটির কর্ণধার বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সার্জারি বিভাগের প্রধান ডা. জহিরুল হক মানিক। তিনি বলেন, ‘ডা. আজাদের রোগীর সংখ্যা নিতান্তই কম ছিল। আর দুই মাসে ২টি অপারেশনও করেননি তিনি। তার কাছে অনেক টাকা থাকার বিষয়টি ঠিক নয়। তাই এখনও হাসপাতাল কর্তপক্ষ দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন এটি দুর্ঘটনা ছাড়া কিছু নয়।

তবে ডা. এম এ আজাদকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে বলে মনে করছেন তাঁর পরিবারের লোকেরা। আর র‌্যাব এবং পুলিশের তদন্তকারী টিমগুলোও সেভাবেই তাদের তদন্ত কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। তাছাড়া এই ঘটনায় নিহতের ভাই ডা. শাহরিয়ার  ইচ্ছ্বাস বাদী হয়ে মঙ্গলবার রাতে কোতয়ালী মডেল থানায় একটি হত্যা মামলাও দায়ের করেছেন।

এদিকে নিহতের স্বজন এবং কয়েকজন সহকর্মী ঘটনাটিকে রহস্যজনক এবং পরিকল্পিত উল্লেখ করে বলেন, ‘ডা. আজাদ যদি আহত হয়ে তিন তলা থেকে নীচে পড়ে যান, তবে তার চিৎকার করার কথা। হাসপাতালের লোকজনও নাকি তাকে সন্ধা থেকেই খুঁজছে। লিফট তার চেম্বারের কাছেই। তার আর্তনাদ কারো কানে পৌছুলো না এটিই রহস্যজনক। আর রহস্যজনক ঘটনা হলো অত্যাধুনিক এ হাসপাতালটিতে নেই কোন সিসি ক্যামেরা। ছিল না কোন লিফটম্যানও।

প্রসঙ্গত, সোমবার ইফতারের পূর্বে রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ থাকা ডা. এম এ আজাদ সজল এর মৃতদেহ মঙ্গলবার সকালে নগরীর কালীবাড়ি রোডের বেসরকারি মমতা স্পেশালাইজড হাসপাতালের লিফটের নীচ থেকে উদ্ধার করা হয়। এ সময় তার ডান পা ভাঙ্গা ছিল। টিঠে আঘাতের চিহ্ন ছিল, দুই হাতের সোল্ডরও ভাঙ্গা ছিল। এ নিয়ে রহস্য ঘনিভূত হয়।

পাঠকের মতামত...

Total Page Visits: 8 - Today Page Visits: 1

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*