Home » সর্বশেষ সংবাদ » সরফুদ্দনি আহম্মদে সান্টুর বনাট্য জীবন !

সরফুদ্দনি আহম্মদে সান্টুর বনাট্য জীবন !

বাংলার কন্ঠস্বর // গুঠিয়া ইউনিয়নের চাংগুরিয়া গ্রামের মৃত: আহম্মদ মজিদ সরদারের মেঝ ছেলে সান্টু। মৃত আব্দুল মজিদ সরদারের পেশায় ছিলেন একজন ঘোষ “গ্রামে কলসি করে গরুর দুধ বিক্রি করতেন সান্টু ছাত্র জীবনে মেয়েলি কেলেংকারির কারনে তার বাবা ত্যাজ্য পুত্র ঘোষনা করিলে এলাকা এবং দেশ ত্যাগ করে। এর পর আর কোন গুঠিয়াবাসী সান্টুকে দেখে নাই। ১৯৮৬ সালের বন্যার পরে হঠাৎ ত্রাণ দিতে আসেন উজিরপুরে কিছু পরিকল্পনা নিয়ে। তখন সান্টুর থেকে হয়ে গেল এস সরফদ্দিন আহম্মেদ সান্টু। ধামুরার মৃত ছোমেদ কাজীকে ধর্ম বাবা এবং তার ছেলে কবির কাজীকে ভাই ডেকে যাত্রা শুরু .. …** স্যাডো নিজস্ব সংগঠন তৈরী করেন এবং এর সদস্য বানানো হয় এলাকার সর্বহারা ক্যাডার বাহিনী দিয়ে। আস্তে আস্তে উজিরপুর বিভিন্ন ইউনিয়নে কলেজ নির্মান, অসহায় মানুষের মাঝে ভ্যানগাড়ী বিতরন এবং অর্থনৈতিক সাহায্য করে দানবীর খ্যাত অর্জন করে। এগুলোর পিছনে তার রাজনৈতিক উদ্দেশ্য ছিল .১৯৮৮ সালে উপজেলা নির্বাচনে অংশ গ্রহন করতে না পেরে অন্য দল করার মিশন নিয়ে মাঠে নামে সান্টু। ১৯৯১ সালে তার পয়সায় পরিচালিতদের নিয়ে কেন্দ্রের কিছু নেতাদের হাত ধরে ঢাকডোল বাজিয়ে হ্যালিকাপ্টারে উজিরপুরে এসে বিএনপিতে যোগদান করেন। মাত্র ২/৩ মাস টিকে বিএনপিতে। আবারও দলপাল্টিয়ে আওয়ামীলীদে যোগদেন দানবীর সান্টু। কিছুদিন ধুমধারাক্কা আওয়ামীলীগের সংগঠন করে বিএনপি নেতাদের উপর যুলুম নির্যাতন চালিয়ে সংগঠনের কর্ম পরিচালিত করে নির্বাচনে এমপি নমিনেশন পাওয়ার আশায়।১৯৯৬ সালে আওয়ামীল থেকে এমপি নমিনেশন না পেয়ে আবারও আওয়ামীলীগ ছেড়ে অন্য দল করার মিশন নিয়ে মাঠে নামে সান্টু.. ..। কোন দলের মনোনয়ন না পেয়ে স্বন্ত্র ভাবে টেলিভিশন মার্কা নিয়ে নির্বাচন করেন তিনি। জানামত ফেরত না পেয়ে দুঃখে কষ্টে আবারও অন্য কোন দল করার সিদ্ধান্ত নিল সান্টু সরদার। ২০০৮ সালে সেনা সমর্থিত ত্বত্তাবধায়ক সরকারের সময় পিডিপিতে যোগদান করে বরিশালে সিটিকর্পোরেশন নির্বাচন করেন সান্টু মার্কা ছাতা। বিজয়ী হতে না পেরে ৩য় বারের মত অনেক টাকার বিনিময়ে বিএনপিতে যোগদান করে সান্টু। তবে এবারের ধরনটা ছিল ভিন্ন কৌশল। এইবার বিএনপিতে যোগদান করে নিজের একান্ত লোক যারা ছিল তাদেরকে কমিটি করার জন্য প্রথমে এম.এ রহমান মল্লিককে হটিয়ে উজিরপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতির পদ দখল করেন নিজেই। এরপর সকল ইউনিয়ন বিএনপির কমিটি গঠন শুরু করে তার নিজ বাসভবন গুঠিয়া বসে।
তার বিবরণ
১নং সাতলা ইউনিয়নঃ বহুদিনের পরিক্ষিত সাতলা ইউনিয়নের বিএনপির সভাপতি জাহিদ হোসেন ফারুককে কমিটি থেকে সরিয়ে দেন সান্টু । তার কারন মাজেদ তালুকদার মান্নান মাষ্টারের ঘনিষ্ট বলে। ২নং হারতা ঃ হারতা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মাওঃ ছিদ্দিকুর রহমান সান্টুর সাথে বিবাদ করে রাগে খোভে দুঃখে আওয়ামীলীগে যোগদান করেন। ৩নং জল্লাঃ জল্লা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি বানিয়েছেন উজিরপুর আওয়ামীলীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি করিম মল্লিকের ছেলে মোঃ জালাল মল্লিককে। এটা জল্লা বাসী আগেই টের পেয়ে ঐ কমিটি গঠন প্রক্রিয়ায় ৯টি ওয়ার্ডের মধ্যে ৮টি ওয়ার্ডে কাউন্সিলরবৃন্দ বয়কট করে ১টি ওয়ার্ডে ৪জন লোক উপস্থিত হলে তাদেরকে দিয়ে কমিটি তৈরী করে সান্টুর বাসায় বসে তিনি নিজেই। ৪নং ওটরা ঃ ওটরা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি বহুদিনের পরিক্ষিত লোক সরোয়ার গাজী তাকে বাদ দিয়েছেন। তিনি তার একান্ত অনুসারী নন। শুধু তাই নয় হাউজে সহ-সাংগঠনিক ঘোষনা করা হয় মাসুদ মোল্লা কে। এখন শোনা যাচ্ছে যে, সে সাংগঠনিক সম্পাদক ওটরা বাসী তার কোন কারণ খুজে পেল না। ৫নং শোলক ঃ শোলক ইউনিয়ন বিএনপির সাধারন সম্পাদক আলাচোদ্দারের পরে বহুদিনের পরিক্ষিত লোক সাধারন সম্পাদক জামাল মেম্বরকে বাদ দিয়েছেন কারন তিনি তার একান্ত অনুসারী নন। জামাল মেম্বরের অনুসারীরা সান্টুর কাছে গেলে তিনি উত্তর দেন শোলকের ভোট আমার লাগবে না এবং পরবর্তীতে দুঃখ কষ্টে আলাচোকদার মারা যান। ৬নং বড়াকোঠা ঃ বড়াকোঠা ইউনিয়ন বিএনপি সভাপতি জনাব হালিম মাষ্টার বহুদিনের পরিস্থিত লোক। তাকে বাদ দিয়েছেন কারন তিনি তার একান্ত অনুসারী নন। ৭নং বামরাইল ঃ বামরাইল ইউনিয়ন বিএনপির একটি শস্তিশালী কমিটি থাকার পরও তার মামাতো ভাই হালিম মাষ্টারকে সভাপতি ও ভাগিনা শাহিনকে সাধারণ সম্পাদক বানানো হয়। দুঃখের বিষয় এই ২জন একই গ্রামের বাসিন্দা। ৮নং শিকারপুর ঃ শিকারপুর ইউনিয়ন বিএনপির নির্বাচিত সভাপতি এবং সাবেক থানা ছাত্রদলের সভাপতি জনাব রফিকুল ইসলাম লিটন বহুদিনের পরিক্ষিত লোক। তাকে বাদ দিয়েছে কারন তিনি তার একান্ত অনুসারী নন বলে। ৯নং গুঠিয়া ঃ ২০১৮ সালে গুঠিয়া ইউনিয়ন দলের আদর্শ নেতাকর্মীদের বাদ দিয়ে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে জাতীয় পার্টি করা শাহিন হাওলাদারকে নমিনেশন দেয়। জাতীয় পার্টি করা শাহিন হাওলাদার নির্বাচনে বিজয় হওয়ার জন্য যুবলীগের কেন্দ্রীয় সদস্য তার বড় ভাই আজাদকে নিয়ে আওয়ামীলীগের বরিশাল জেলার সভাপতি আবুল হাসনাত আব্দুল্লার শেরালের বাসায় যায়। তার পা ধরে গুঠিয়ার চেয়ারম্যান বানানোর আবদার করে। অত্যান্ত দুঃখের ও পরিতাপের বিষয় হলো এই শাহিন হাওলাদারকে তার ১মাস পরই ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি বানায় সান্টুর বাসায় বসে।
এরপর শুদ্ধ করে অঙ্গ সংগঠনের প্রক্রিয়া
** উজিরপুর উপজেলা যুবদলের সভাপতি আহাম্মেদুল কবির বিপ্লবকে ঐ পদ থেকে সরানোর জন্য ২০১৪ সাল থেকে চেষ্টা করেও সফল হতে পারে নাই।
***উজিরপুর উপজেলা ছাত্রদলের সাধারন সম্পাদক কবির হোসেন খানকে ঐ পদ থেকে সরানোর জন্য ২০০৮ সাল থেকে চেষ্টা করে সফল হতে পারে নাই।
* উজিরপুর উপজেলা স্বেচ্ছা সেবক দলের আহ্বায়ক মোঃ মনিরুজ্জামান লিখন কে ঐ পদ থেকে সরানোর জন্য ২০১০ সাল থেকে চেষ্টা করে সফল হতে পারে নাই।
* উজিরপুর উপজেলা পৌর বিএনপির সভাপতি মহাসিন ফকিরকে ঐ পদ থেকে সরানোর জন্য ২০১৪ সাল থেকে চেষ্টা করে সফল হতে পারে নাই। এই রকম অসংখ্যক উদাহরন আছে উজিরপুরে। যা বলে শেষ করা যাবে না। এখন বিএনপির লোকজনের ধারনা তিনি কি বিএনপি ধ্বংস করার জন্য বার বার বিএনপিতে আসেন ??

পাঠকের মতামত...

Total Page Visits: 6 - Today Page Visits: 1

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*