Home » বরিশাল » পটুয়াখালী » পটুয়াখালীতে নিরাপত্তার ব্যবস্থা নেই অ্যাম্বুলেন্স চালকদের

পটুয়াখালীতে নিরাপত্তার ব্যবস্থা নেই অ্যাম্বুলেন্স চালকদের

বাংলার কন্ঠস্বর // অসুস্থ রোগীকে বহনে সবার আগে প্রয়োজন হয় অ্যাম্বুলেন্সের। কিন্তু বর্তমানে করোনা ঝুঁকিতে অনেক চালকই অ্যাম্বুলেন্স চালাচ্ছেন না। রোগী বহনে ফোন এলেই সবার আগে জানতে চাচ্ছেন রোগীর লক্ষণ কী কী। এর প্রধান করাণ হচ্ছে সুরক্ষা সরঞ্জামের অভাব। অ্যাম্বুলেন্স চালকরা বলছেন, তারা ঝুঁকিমুক্ত নিরাপদ সেবা দিতে চান। তাই সংশ্লিষ্টদের কাছে চিকিৎসক, নার্সসহ স্বাস্থ্যকর্মীদের মতো বিশেষ ব্যবস্থার দাবি জানিয়েছেন তারা।

এদিকে অ্যাম্বুলেন্স চালকদের বিরুদ্ধে রোগী কিংবা স্বজনদের ঝুড়ি ঝুড়ি অভিযোগ থাকলেও থেমে নেই তারা। সুরক্ষা সরঞ্জামের অভাব মানবসেবা থেকে বিরত রাখতে পারেনি অনেক চালককে। তেমনই একজন অ্যাম্বুলেন্স চালক মো. মোস্তফা হাওলাদার।

প্রতিবেদকের সঙ্গে আলাপকালে মোস্তফা বলেন, ১৯৯৬ সাল থেকে অ্যাম্বুলেন্স ব্যবসার সঙ্গে জড়িত তিনি। বাসায় বলেছি, মানব সেবা, বড় সেবা। বাসা থেকে হাসপাতালে ভাত দিয়ে যায়। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে রোগী বহন করি। খুবই ঝুঁকি, সবার জীবনের মায়া আছে। এরপরও জীবনের মায়া ছেড়ে সেবা দিচ্ছি মানুষকে।

তিনি বলেন, করোনার আগে রোগী নিয়ে গেলে পুলিশ কাছে আসত, চেক করত। এখন পুলিশ কাছে আসতে চায় না। তারা বলে, দূরে সর, দূরে সর। তারাও আমাদের ভয় পাচ্ছে। আমি নিজে রোগী ধরে উঠাই নামাই। সেও একজন মানুষ। তার সঙ্গে কোনো লোক থাকে না। তাকে ধরবে কে? বাধ্য হয়ে ধরতে হয়। মানুষ মারা যাবে আমি ধরবো না এটা হতে পারে না। এটা কোনো মানুষের কাজ? আমাদের কাজ সেবা করা।

এ সময় তিনি বলেন, ২৫ এপ্রিল দুমকীর এক ভদ্রলোক কল দিয়ে বললেন টাকা যা লাগে আমি দিবো, প্রয়োজনে পিপিই কিনে নিয়ে আসুন। তার কথায় বোঝা গেল রোগী করোনা আক্রান্ত। সদর হাসপাতালসহ বিভিন্ন অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিসের মোবাইল নম্বর দিয়েছিলাম কিন্তু কেউ রাজি হয়নি। আমার যদি পিপিই থাকতো তাহলে আমি নিজে গিয়ে নিয়ে আসতাম। মানুষের জান বাঁচানো ফরজ। যে অসুস্থ সে চিকিৎসা পেয়ে মরুক। কিন্তু কী করব, আমারতো সেফটি পোশাক নেই। কল করলে কিভাবে যাব?

নিরাপত্তা সরঞ্জাম ব্যবহার সম্পর্কে তিনি বলেন, নিজেদের টাকা নেই যে পিপিই বা রেইনকোট কিনব। নিজের সাধ্যের মধ্যে মাস্ক, গ্লোবস, হ্যান্ড সেনিটাইজার কিনে ব্যবহার করি।

জানা গেছে, পটুয়াখালী ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে ২টি অ্যাম্বুলেন্সের দুটিই নষ্ট। মেরামত করানো হয়নি। এছাড়া জেলায় ১২০টি বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স রয়েছে। এরমধ্যে পটুয়াখালী ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালের মধ্যে ২০টি অ্যাম্বুলেন্স রোগী বহন করে।

মো. মোহন নামে আরেক অ্যাম্বুলেন্স চালক বলেন, সবাই চিকিৎসকের পরামর্শ পায়। আমরা কোনো ধরনের পরামর্শ পাচ্ছি না। করোনাভাইরাসে ঝুঁকির কারণে অনেকে গাড়ি বন্ধ রাখছে।

পটুয়াখালী গ্রিনভিউ হাসপাতালের পরিচালক নব কুমার দাস বলেন, পরিবহন সংকটের কারণে রোগীরা উন্নত চিকিৎসার জন্য ভালো ক্লিনিক বা হাসপাতালে আসতে পারছে না। জ্বর, হাঁচি-কাশির কথা শুনলে অ্যাম্বুলেন্স চালকরা রোগী বহন করতে চাচ্ছে না। এছাড়া এক এলাকার অ্যাম্বুলেন্স চালককে অন্য এলাকায় প্রবেশ করতেও দেয় না।

তিনি আরও বলেন, বর্তমানে অ্যাম্বুলেন্স চালকরা শুধু গর্ভবতী রোগী বহন করে। মেডিসিনের কোনো রোগী বহন করতে চায় না। ফলে ক্লিনিকে রোগীর চাপ কম।

পটুয়াখালী ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. আবদুল মতিন বলেন, ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে দুটি অ্যাম্বুলেন্স রয়েছে। দুটিই অকেজো অবস্থায় আছে।

পাঠকের মতামত...

Print Friendly, PDF & Email
Total Page Visits: 15 - Today Page Visits: 1

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*