Home » শিক্ষা » ক্যাম্পাস » ফেসবুকে ভিডিও দেখে দুই এতিম শিশুর জন্য খাদ্যসামগ্রী পাঠালেন ববি উপাচার্য

ফেসবুকে ভিডিও দেখে দুই এতিম শিশুর জন্য খাদ্যসামগ্রী পাঠালেন ববি উপাচার্য

বাংলার কন্ঠস্বর // বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ভিক্ষা করে ছোট বোনসহ নিজের রুটিরুজি চালাতো শিশু ইয়াসিন। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ থাকায় ছোট বোনকে নিয়ে বিপাকে পড়ে সে। শনিবার (৯) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম-ফেসবুকে ইয়াসিনের অসহায়ত্বের একটি ভিডিও চোখে পড়ে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. ছাদেকুল আরেফিনের। এর পরপরই বিকালে কর্মচারী পাঠিয়ে ইয়াসিন ও তার বোনের খোঁজ-খবর নেন তিনি। তাদের জন্য ব্যক্তিগত তহবিল থেকে প্রয়োজনীয় খাদ্য ও করোনা প্রতিরোধসামগ্রী পাঠান উপাচার্য।

ইয়াসিনের খালা নূরজাহান জানান, ইয়াসিনের বয়স যখন তিন ও ছোট বোনের বয়স এক বছর, তখন তাদের মা মারা যান। স্ত্রী মারা যাওয়ার পর ইয়াসিনের বাবা অন্যত্র বিয়ে করে লাপাত্তা হয়ে যান। সেই থেকে গত ৭ বছর ধরে ইয়াসিন ও তার বোনকে দেখাশোনা করছেন তিনি। কিন্তু অর্থ সংকটে তাদের নিজেদেরই ঠিকভাবে চলে না। তাই বাধ্য হয়ে ইয়াসিনকে ভিক্ষা করতে হয়। বেশিরভাগ সময় সে ভিক্ষা করতো বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে। সেই টাকা দিয়ে তাদের সঙ্গেই থাকা খাওয়া করে ইয়াসিন ও তার বোন।

জানা যায়, করোনার কারণে বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ। লকডাউনের কারণে বাইরে মানুষের আনাগোনাও কম। এতে সংকটে পড়ে ইয়াসিন ও তার বোন এবং তাদের আশ্রয়দাতা খালা। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের কাছ থেকেও তারা কোনও সাহায্য পায়নি।

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মচারী আকবর আলী জানান, শিশু ইয়াসিনকে নিয়ে কিছুদিন আগে তৈরি ফেসবুকে পোস্ট করা একটি ভিডিও উপাচার্য স্যারের চোখে পড়ে। করোনা পরিস্থিতিতে শিশুটির খোঁজ নিতে বলেন তিনি। গত বৃহস্পতিবার মনিরুল ইসলাম নামে বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন নিরাপত্তা প্রহরীর মাধ্যমে ইয়াসিনের বাসার ঠিকানা সংগ্রহ করা হয়। খোঁজ-খবর নিয়ে উপাচার্যের পক্ষ থেকে তাদের বাসায় চাল, ডাল, আলু, পেঁয়াজ ও তেল এবং কিছু সুরক্ষা ও পরিচ্ছন্নতা সামগ্রী পৌঁছে দেওয়া হয়।

নূরজাহান বেগম বলেন, ‘করোনার কারণে নিজের ছেলে-মেয়ে নিয়ে বিপদে পড়েছি। এর ওপর আবার ইয়াসিন ও তার বোন। সবকিছু মিলিয়ে অর্ধাহারে-অনাহারে আমদের দিন কাটছে। ভিসি স্যার ফেসবুকে ইয়াসিনকে দেখে বাজার পাঠিয়েছেন। এতে কয়েকটি দিন চলে যাবে।’

উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. ছাদেকুল আরেফিন বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের তৈরি করা একটি ভিডিও দেখার পর ইয়াসিনের ব্যাপারে খোঁজ নিই। এরপর কর্মচারী পাঠিয়ে ব্যক্তিগতভাবে কিছু খাদ্যসামগ্রী পাঠিয়েছি।’ যারা ওই ভিডিওটি তৈরি করেছে তাদের ধন্যবাদ জানান উপাচার্য।

পাঠকের মতামত...

Total Page Visits: 3 - Today Page Visits: 1

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*