Home » বরিশাল » বরিশালে করোনা ল্যাবে যোদ্ধার ভুমিকায় রাব্বি আল মামুন (ফয়সাল)

বরিশালে করোনা ল্যাবে যোদ্ধার ভুমিকায় রাব্বি আল মামুন (ফয়সাল)

সৈয়দ জিহাদ,বরিশাল : সারা বিশ্ব এখন এক আতংকের নাম COVID-19(করোনা ভাইরাস)। নেই কোন প্রতিষেধক। মৃত্যু ছড়িয়ে দুই লাখের উর্ধে। দিন যত এগোচ্ছে করোনা রোগী তত বাড়ছে। বিশ্বের চিকিৎসকদের মুখে বিষাদের ছাপ।সব মিলিয়ে করোনার থাবায় কুপোকাত মানুষ।

তবে হাল ছাড়েননি চিকিৎসকরা সাথে স্বাস্থ্য কর্মিরা। মহামারী দুর্যোগ করোনাভাইরাস যুদ্ধে বীরের খেতাবে রয়েছেন তারা।দিনরাত সার্বক্ষনিক জীবন-মৃত্যুর সন্ধিখানে আক্রান্ত মানুষের সেবা দিয়ে যাচ্ছেন করোনা যুদ্ধের নায়করা।সকল দেশের ন্যায় চিকিৎসা সেবা অব্যাহত রয়েছে খোদ বাংলাদেশেও। তবে এ রোগ শনাক্ত করতে,মহামারী করোনাভাইরাস এর সকল সরঞ্জাম দেশের বিভিন্ন বিভাগিয় শহরে ইতিমধ্যে পৌঁছে গেছে।

তারই ধারবাহিকতায় বরিশালে শেবাচিম হাসপাতালে শুরু হয়েছে করোনা রোগীদের চিকিৎসা সেবা ও রোগ নির্ণয় করা, থেমে নেই চিকিৎসকরা। পাশাপাশি বরিশাল বিভাগ এর প্রতিটি জেলা থেকে দেওয়া নমুনা সংগ্রহ করে নিয়মিত কম্পিউটারাইজড কাজ করে যাচ্ছে RT-PCR(করোনা ল্যাবের) এক সাহসী যোদ্ধা রাব্বি আল মামুন (ফয়সাল)। নিয়মিত শতকের উপর টেস্ট রিপোর্ট কম্পিউটারাইজড করে তা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের আক্রান্তদের মাঝে সঠিক সময়ে দিয়ে সেবার মান অক্ষুণ্ণ করে যাচ্ছেন এই বীর যোদ্ধা।

জানা যায়, রাব্বি আল মামুন(ফয়সাল) দীর্ঘদিন যাবত শেরে-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের এন্ডোসকপি বিভাগে অফিস সহায়ক পদে কাজ করতেন। তবে কাজে চৌকস দক্ষতা-সম্পুর্ন হওয়ায় শের ই বাংলা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের পরিচালক ডাঃ বাকির হোসেন ও কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডাঃ অসিত ভূষন দাস এর নির্দেশ মোতাবেক (RT-PCR)করোনা ল্যাবে কাজে যোগাদান করে। যেখানে বর্তমানে বেশি স্বাস্থ্যকর্মীরা ভয়ে চাকরি ছেড়ে কিংবা নানা অজুহাতে এড়িয়ে যাচ্ছেন সেখানে রাব্বি আল মামুন (ফয়সাল) এর মত করোনা যোদ্ধারা দেশের এই দুঃসময়ে রোগীদের সেবা ও দেশের চিকিৎসা খাতে প্রশংসার দাবীদারে ভুমিকা রাখছেন। বর্তমানে সাহসিকতার সাথে করোনা ল্যাব(RT-PCR LAB) এ কম্পিউটার অপারেটর কর্মরত রয়েছেন। প্রতিনিয়ত ১০০-১৫০ টির মত করোনা রোগীদের রিপোর্ট কম্পিউটারাইজড করছেন তিনি ।
এরমধ্যে,ডাটাএন্ট্রি, কম্পিউটারইজড রিপোর্ট তৈরি , করোনা উপসর্গ নিয়ে ভর্তি হওয়া রোগীদের নমুনা নিয়ে নির্ভুল তথ্য সংরক্ষনের মাধ্যমে মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের এই RT PCR ল্যাবের সুনাম অক্ষুণ্ন রাখতে অক্লান্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছে। সর্বপরি বরিশাল বিভাগের কোভিড-১৯ করোনাভাইরাস আক্রান্ত রোগীদের সকল টেস্ট (শেবামেক)RT-PCR ল্যাবেই সম্পন্ন হয়।

তবে দিনরাত জীবনের ঝুকি নিয়ে দায়িত্ব পালন করে যাওয়া ফয়সালদের উৎসাহ দেওয়ার মত কেউই নেই। ঠিক এমনটাই মনে করছেন করোনার সাথে যুদ্ধকরা সৈনিকরা। দেশের এই দুঃসময়ে তারা পরিবার ছেড়ে যখন মানুষের সেবায় নিজেকে নিয়োজিত রাখতে সর্বদা চেষ্টা করে। কিন্ত দিনশেষে তাদের উৎসাহ দেওয়ার মত লোকের খুবিই অভাব। এছাড়া নিজের কাছেই অবাক লাগে দেশের এই ক্রান্তিকালে তাদের কাজকে ছোট করে সবাই নীরবতার ভুমিকা পালন করে। আমি মনে করি, সকলের যদি একটু উৎসাহ কিংবা উদ্দিপনার খোরাক তাদের প্রতি থাকে থাকলে করোনা নামক এই ভয়াল থাবাকে সম্মিলিত প্রচেষ্টায় জয় করা যাবে।

বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালের করোনা ল্যাব স্থাপনের শুরু থেকে এ পর্যন্ত বরিশাল বিভাগ থেকে আগত সকল করোনা টেষ্ট সমপন্ন হয়েছে বলে ল্যাব সুএে যানা যায়। তবে অফিস সহায়ক পদে থেকেও কম্পিউটার অপারেটর হিসেবে কাজ করে দেশের এই ক্রান্তিকালে দেশকে দিচ্ছে যারা প্রান তারা সবাই প্রকৃত করোনা যোদ্ধা।

পাঠকের মতামত...

Print Friendly, PDF & Email
Total Page Visits: 13 - Today Page Visits: 1

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*