Home » বরিশাল » বিসিসি মেয়র সাদিকের ক্ষুদ্ধতায় ধোপে টিকলোনা সুজনের ত্রাস, হতে পারেন গ্রেফতার

বিসিসি মেয়র সাদিকের ক্ষুদ্ধতায় ধোপে টিকলোনা সুজনের ত্রাস, হতে পারেন গ্রেফতার

ফয়সাল রাকিব //  একের পর এক বিতর্ক রাজনীতির জন্ম দিয়ে নিজেকে আলোচিত করে এখন বেকায়দায় ছাত্রলীগ নেতা সুজন। কীর্তনখোলার পার ঘেষা পুর্বাঞ্চল জনপদের এই নেতা লক্ষাধিক টাকার মালিক হয়েছেন বটে।কিন্ত এগুলাই ঘুরপাক খাচ্ছে এখন ওপার জনপদের বাতাসের মাধ্যমে মানুষের কানকানিতে । বেড়িয়ে এলো থলের বিড়ালের কাহিনী। জানা যায়, বেশ কয়েক বছর আগে স্টিমারঘাট সংলগ্ন একটি মনিহারির দোকানে কাজ করতো সুজন।একটি দোকানের কর্মচারী থেকে ছাত্রলীগ নামক এই শীর্ষ সংগঠনে লবিং তদবিরের ন্যায় হয়ে উঠে উপজেলা ছাত্রলীগের কান্ডারী। হয়তবা অর্থের ভাগ্য খুলে গেছে এই শীর্ষপদ থেকে। মাত্র অল্প কিছুদিনের ভিতর বনে গেছেন লক্ষ থাকার সমাহার । অবশ্য সুত্র বলেছে কোটি টাকা ছুই ছুঁই। একটি উপজেলার সম্পাদক মাত্র উচ্চ প্রভাবশালী হওয়ার কারনতো আছেই বটে। একটি নির্ভরযোগ্য সুত্র নিশ্চিত করে, নদীর ওপারের ভাড়া মোটরযানের ৪০% মোটরসাইকেল ছাত্রলীগ নেতা সুজনের নিজস্ব মালিকানাধীন। অনেকটা সময় দেখা যায়,বিলাসবহুল খাটের আদলে বসে নিজস্ব ফেসবুকে ছবি আপলোড দেয়। যেখানে দিন রাত পরিশ্রমী ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা সামান্য আবাসিক হলে স্থান পেতে বেগ পেতে হয়। সুজনের বিলাসিতা সেখানে ভাবিয়ে তোলে। অনুসন্ধানে আরও বলছে,সুজনের নিজ বসতবাড়িতে মালামাল রয়েছে কয়েক লক্ষাধিক টাকার। তবে এত টাকার আয়ের উৎস কোথায়? অবশ্য এই প্রতিবেদকের হাতে সংশ্লিষ্ট তথ্য প্রমান রয়েছে। সুত্র বলছে,একটি ইউনিয়নের ফেরিঘাট সম্পুর্ন যুবক বয়সী এই নেতার ইজারা নেওয়া। সেখান থেকে মাসিক চুক্তিতে আসে লাখ টাকার উপরে। পাশাপাশি রাতের আধারে দুরমখী গনপরিবহন থামিয়ে টাকা নিতে ভুলতেন এই নেতা। বেশকদিন আগে বরিশালের এক সিনিয়র সাংবাদিকের কলমের শিরোনাম হয়েছেন সুজন। সেই শিরোনামে বলা হয়েছে,মেয়রের নাম ভাংগিয়ে,রাতের আধারে মাছ খুঁজছে সুজন। বিভিন্ন জেলামুখী মাছের ট্রাক আটকে মোটা অংকের বিনিময়ে ছেড়ে দিতেন সুজন। অবশ্য টাকা দিতে না চাইলে তাকে বেধম প্রহার দিয়ে আটকে রাখার অভিযোগ রয়েছে এই নেতার বিরুদ্ধে। পাশাপাশি,জমি দখলের মহোৎসব তো চলছেই। তার কালো অধ্যায়ের পাতা পুর্বাঞ্চলের জনপদটিতে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে। তবে লাগাম আর বেশি দুর টানতে দেননি বরিশালের শীর্ষনেতা মেয়র সাদিক আবদুল্লাহ। কিছুটা মারমুখী হয়েই সুজনের বিরুদ্ধে শীতল এ্যাকশন নিয়েছেন এই তরুন নেতা। কৌশলী এই মেয়রের পদক্ষেপকে অনেকে সাধুবাদ জানিয়েছেন। তবে একটি সুত্রের দাবী,মেয়রের সাদিকের টেবিলে সুজনকে নিয়ে একাধিক নালিশের পরিপ্রেক্ষিতে ক্ষুদ্ধ বেজায়। অবশ্য একচুল ছাড় দেননি এই নেতা। মেয়র সাদিকের ভাষ্য হচ্ছে,সুজন আমাকে নিয়ে ফেসবুকে যে লাইভ করেছে,সেটা প্রশ্ন’র সম্মুখীন করে তুলেছে আমায়। আমাকে ভাল পাওয়া হলোনা উল্টো বাঁশ দিল। যদিও মেয়রের পক্ষ থেকে সময়ের সঠিক সিদ্ধান্ত মোতাবেক সুজনকে বহিস্কার আদেশ কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ বরাবর পাঠিয়েছে জেলা ছাত্রলীগ নেতৃবৃন্দ। তবে মেয়রের এমন কঠোর পদক্ষেপে কিছুটা নড়েচড়ে বসেছেন বিতর্কিত নেতা সুজন। তারই প্রেক্ষাপটে,এই প্রতিবেদকের খোজে জানা যায়, পল্লি বিদুৎ অফিসের এক লাইনম্যানকে বেধরক পিটিয়ে আহত করার অভিযোগে তাকে ১ নং আসামী করে বন্দর থানায় মামলা দেয় সরকারী ওই কতৃপক্ষটি। পাশাপাশি জেলার উচ্চ কর্মকর্তা ডিসিকে নিয়ে নেতিবাচক মন্তব্য করায় বেশ প্রশাসনের চাপমুখী রয়েছেন এই নেতা। সংশ্লিষ্ট সুত্র বলেছে, কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ বহিস্কারের পরই যেকোনো মুহুর্তে গ্রেফতার হতে পারেন ছাত্রলীগ নেতা সুজন।তবে নিজেকে বাচাতে মরিয়া হয়ে উঠেছে।থেমে নেই তার ফোনালাপের মাধ্যমে আত্নরক্ষার কৌশল। জেলা ছাত্রলীগের এক শীর্ষনেতার সাথে সুজনের ফোনালাপ হলেও,সেই ছাত্রলীগ নেতা বিন্দুমাএ পরোয়া করেনাই তাকে। এতে সম্পুর্ন একাকীত্ব হয়ে পড়ে সুজন। তদ্রুপ প্রশাসন থেকে নিজেকে আড়াল করতে বর্তমানে আত্নগোপনে রয়েছেন। সর্বশেষ একটি বিশ্বস্থ সুএ জানান দেয়,সুজনের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ ও মামলা থাকার কারনে যেকোনো মুহুর্তে আটক হতে পারেন এই যুবক বয়সী নেতা।

পাঠকের মতামত...

Print Friendly, PDF & Email
Total Page Visits: 11 - Today Page Visits: 1

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*