Home » শিক্ষা » করোনায় ক্ষতির মুখে উচ্চশিক্ষা

করোনায় ক্ষতির মুখে উচ্চশিক্ষা

বাংলার কন্ঠস্বর // করোনার কারণে বেশ ক্ষতির মুখে পড়েছে উচ্চশিক্ষার কার্যক্রম। শিক্ষার্থীরা দিনকে দিন পিছিয়ে পড়ছে। আগে যেখানে সেপ্টেম্বর ও অক্টোবরে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ভর্তি পরীক্ষার কার্যক্রম চলতো এবার সেখানে করোনার কারণে, উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষাই নেয়া সম্ভব হয়নি। চলমান পরিস্থিতিতে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো তুলনামূলক কিছুটা সচল হলেও পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাস চলছে নামমাত্র। বেশিরভাগ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ই শতভাগ শিক্ষার্থীদের অনলাইন ক্লাসে অংশ নিতে দেখা যায়নি। কোনো কোনো ক্ষেত্রে উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে ৫০ শতাংশেরও কম।

 

ইউজিসি সূত্র জানায়, দেশে উচ্চশিক্ষায় মোট শিক্ষার্থী প্রায় ৪১ লাখ। এর মধ্যে ৪৪টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে রয়েছে প্রায় তিন লাখ। ১০৩টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে এই সংখ্যা চার লাখের মতো। এর বাইরে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত দুই হাজার ২৫৮টি কলেজে শিক্ষার্থী রয়েছেন ২৮ লাখ। উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঁচ লাখ। আর আরবি বিশ্ববিদ্যালয়সহ অন্যান্য উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে রয়েছেন আরো প্রায় এক লাখ শিক্ষার্থী।

সূত্র বলছে, করোনার এই সময়ে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত কলেজের ২৮ লাখ শিক্ষার্থীর বেশির ভাগই পড়ালেখার বাইরে রয়েছেন। সরকারি কলেজ ও জেলা শহরের বড় বেসরকারি কলেজে কিছু অনলাইন ক্লাস হলেও মফস্বলের কলেজগুলো শিক্ষার্থীদের কোনো খবর নিচ্ছে না। বিশেষ করে প্রত্যন্ত অঞ্চলের শিক্ষার্থীদের ইন্টারনেট সংযোগ না থাকা বা ইন্টারনেটের ধীরগতি, ডিজিটাল ডিভাইসের অভাবসহ নানা কারণে অনলাইন ক্লাস সেভাবে চালু করা যায়নি। শিক্ষকদেরও তথ্য-প্রযুক্তিতে দক্ষতার ঘাটতি আছে।

তবে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের এ ব্যাপারে তেমন কোনো উদ্যোগ নেই। তারা শুধু কলেজগুলোকে অনলাইন ক্লাস শুরু করার তাগিদ দিয়েই দায়িত্ব শেষ করেছে। আগামী দিনে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে দীর্ঘ সেশনজটের আশঙ্কা প্রকাশ করছেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। উন্মুক্ত ও আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থা প্রায় একই।

সার্বিক বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. কাজী শহীদুল্লাহ বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় খুললে একজনের করোনা হলে আরো ১০ জন আক্রান্ত হতে পারে। এ জন্য আমরা আরো পর্যবেক্ষণ করতে চাই। আর সরকারের নির্দেশনার অপেক্ষায়ও আমরা রয়েছি। তবে অনলাইন ক্লাস কিভাবে জোরদার করা যায়, সে চেষ্টা আমরা করছি। যেসব শিক্ষার্থীর ডিভাইস নেই তাদের ব্যাপারে তথ্য চাওয়া হয়েছে। শিক্ষার্থীরা যাতে কম দামে ইন্টারনেট পেতে পারে সে ব্যাপারেও আমরা মন্ত্রণালয়কে চিঠি দিয়েছি।’

ইউজিসির সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. আবদুল মান্নান বলেন, বিশ্বের ৯০ শতাংশ শিক্ষার্থী ক্ষতির সম্মুখীন। অর্থনীতির ক্ষতি হয়তো একসময় কাটিয়ে ওঠা যাবে, কিন্তু শিক্ষার ক্ষতি কাটিয়ে ওঠা সম্ভব নয়। কারণ একজন শিক্ষার্থীর জীবন থেকে যে সময়গুলো চলে যাবে তা আর ফেরত দেওয়া যাবে না। অনলাইন শিক্ষায় জোর দেওয়ার পরামর্শ দিয়ে এই শিক্ষাবিদ বলেন, সব বিশ্ববিদ্যালয়ের সব শিক্ষার্থীর পক্ষে অনলাইনে ক্লাস করা সম্ভব হচ্ছে না, ঠিক কথা। তবে পরীক্ষার বিষয় কমিয়ে, সময় কমিয়ে ও কেন্দ্র বাড়িয়ে সম্ভব হলে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা গ্রহণের প্রস্তুতি নেওয়া যেতে পারে।

পাঠকের মতামত...

Print Friendly, PDF & Email
Total Page Visits: 47 - Today Page Visits: 1

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*