Home » লিড নিউজ » পুলিশি হেফাজতে জনি হত্যা মামলার রায় আজ

পুলিশি হেফাজতে জনি হত্যা মামলার রায় আজ

বাংলার কন্ঠস্বর // রাজধানীর পল্লবী থানা হেফাজতে ইশতিয়াক হোসেন জনি নামে এক যুবককে পিটিয়ে হত্যার মামলায় আজ বুধবার রায় ঘোষণা করবেন ঢাকা মহানগর দায়রা জজ কেএম ইমরুল কায়েশ। গত ২৪ আগস্ট মামলাটির যুক্তিতর্কের শুনানি শেষে এ বিচারকই রায় ঘোষণার দিন ঠিক করেছিলেন। মামলার ৫ আসামি হলেন পল্লবী থানার আলোচিত এসআই জাহিদুর রহমান জাহিদ, এসআই রাশেদুল ইসলাম, এসআই কামরুজ্জামান মিন্টু এবং পুলিশের সোর্স রাশেদ ও সুমন। আসামিদের মধ্যে এসআই জাহিদ ও সুমন কারাগারে এবং বাকিরা জামিনে আছেন।

রায়ের প্রত্যাশা সম্পর্কে বাদী পক্ষের আইনজীবী আবু তৈয়ব বলেন, পুলিশ হেফাজতে নির্যাতনে মৃত্যুর আইনে সর্বোচ্চ যাবজ্জীবন কারাদ- অথবা ১ লাখ টাকা অর্থদ- বা উভয় দ- এবং ভিকটিমের পরিবারকে ২ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার বিধান রয়েছে। আমরা পাঁচ আসামির সর্বোচ্চ শান্তি যাবজ্জীবন কারাদ- এবং দুই লাখ টাকা ক্ষতিপূরণের রায় প্রত্যাশা করছি। অন্যদিকে জাহিদের পক্ষের আইনজীবী মো. ফারুক আহমেদ বলেন, রায়ে তার মক্কেল খালাস পাবেন বলে প্রত্যাশা করছেন। মামলাটিতে আদালত মোট ২১ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ করেছেন।

এ মামলায় ২০১৬ সালের ১৭ এপ্রিল এসআই জাহিদসহ ৫ আসামির বিরুদ্ধে চার্জগঠন করেন আদালত। পরে হাইকোর্টে আসামিদের আবেদনে দীর্ঘদিন মামলাটির বিচার বন্ধ ছিল। পুলিশ হেফাজতে নির্যাতন করে জনিকে হত্যার অভিযোগে ২০১৪ সালের ৭ আগস্ট নিহতের ভাই ইমতিয়াজ হোসেন রকি ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতে এ মামলা করেন।

 

মামলার অভিযোগে বলা হয়, ২০১৪ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি রাতে পল্লবী থানার ইরানি ক্যাম্পে জনৈক বিল্লালের গায়ে হলুদের অনুষ্ঠান ছিল। জনি ও তার ভাই রকিসহ অন্য সাক্ষীরা সে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। রাত ২টার দিকে পুলিশের সোর্স সুমন মাতাল অবস্থায় স্টেজে উঠে মেয়েদের উত্ত্যক্ত করছিলেন। জনি তাকে স্টেজ থেকে নামিয়ে দেন। কিন্তু দ্বিতীয়বার সুমন একই কাজ করলে তার সঙ্গে জনির কথাকাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে জনি সুমনকে চড় দেয়। এ ঘটনার আধা ঘণ্টা পর এসআই জাহিদসহ ২৫/২৬ জন পুলিশ নিয়ে বিয়ে বাড়িতে এসে ভাঙচুর করে সুমন। এ সময় পুলিশ জনি, রকিসহ বেশ কয়েকজনকে ধরে নিয়ে যায়। এর পর রাতে এসআই জাহিদসহ আসামিরা জনি ও অন্য আটককৃতদের পল্লবী থানাহাজতে হকিস্টিক ও ক্রিকেটের স্ট্যাম্প দিয়ে মারধর করে। এসআই জাহিদ একপর্যায়ে জনির বুকের ওপর উঠে লাফালাফি করেন। মারাত্মক আহত জনি সে সময় পানি খেতে চাইলে জাহিদ তার মুখে থুথু ছুড়ে মারে। নির্যাতনে মামলার বাদী রকি জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। জনিকে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় ঢাকা ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পুলিশি নির্যাতনে এ মৃত্যুর ঘটনা ধামাচাপা দিতে ইরানি ক্যাম্প ও রহমত ক্যাম্পের মধ্যে মারামারির সময় জনি নিহত হয়েছে বলেও সে সময় পুলিশ মিথ্যা কাহিনী সাজায়।

২০১৪ সালের ১৩ জুলাই রাতে মিরপুর থানা হেফাজতে একই কায়দায় ঝুট ব্যবসায়ী সুজনকে নির্যাতন করে হত্যা মামলারও আসামি এসআই জাহিদ। তবে ওই মামলাটি বর্তমানে উচ্চ আদালতের নির্দেশে স্থগিত আছে।

পাঠকের মতামত...

Print Friendly, PDF & Email
Total Page Visits: 42 - Today Page Visits: 2

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*