Home » আন্তজাতিক » পেটের দায়ে বাধ্য হয়ে অটো চালাচ্ছেন সরকারি চিকিৎসক

পেটের দায়ে বাধ্য হয়ে অটো চালাচ্ছেন সরকারি চিকিৎসক

বাংলার কন্ঠস্বর // রোনা পরিস্থিতিতে প্রত্যেক মানুষের একমাত্র ভরসা চিকিৎসকরাই। তারাই একেবারে প্রথম সারিতে দাঁড়িয়ে অদৃশ্য ভাইরাসের সঙ্গে লড়াই করে চলেছেন। আক্রান্তও হচ্ছেন অনেকে। তবু লড়াই থামছে না।

কিন্তু তারাই যদি বেতনের অভাবে প্রিয়জনদের মুখে খাবার জোগাতে না পারেন। তবে কী সত্যিই আর প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে লড়াই করার কোনো মানে হয়? তাই অভিমানে ২৪ বছরের চাকরি ছেড়ে অটো চালাচ্ছেন ভারতের বেঙ্গালুরুর ৫৩ বছরের এক চিকিৎসক।

বল্লারি জেলায় গত ২৪ বছর ধরে স্বাস্থ্য এবং পরিবার মন্ত্রণালয়ের অধীনে চাইল্ড হেলথ অফিসার পদে কর্মরত রবীন্দ্রনাথ এমএইচ। গত ১৫ মাস ধরে বেতন পাননি তিনি। প্রথম প্রথম সঞ্চিত অর্থ দিয়ে সংসার চালাচ্ছিলেন। বর্তমানে তার আর কোনো গতি নেই। আয় না থাকায় প্রিয়জনদের মুখে দু’বেলা দু’মুঠো অন্ন জোগাতে হিমশিম অবস্থা তার। তাই বাধ্য হয়ে দাভানগর এলাকায় অটো চালাচ্ছেন।

কিন্তু কেন এমন দুরবস্থা তার? বছর দুয়েক আগে তিনি এক আইএএস কর্মকর্তার কাছে বদলির দাবি জানান। ১৭ বছর ধরে গ্রামীণ এলাকায় কাজ করে হাঁপিয়ে উঠেছিলেন তিনি। তবে সেই আবেদন গ্রাহ্য হয়নি। বর্তমানে তিনি বল্লারি জেলার প্রশাসনিক কার্যভার নিয়েছেন। তাই সম্ভবত তিনি ওই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে নানা বেআইনি কাজ করার অভিযোগ তোলেন।

গত বছর ৬ জুন ওই চিকিৎসককে সাসপেন্ড করা হয়। সে ঘটনার জল অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ ট্রাইবুন্যাল পর্যন্ত গড়ায়। গত অক্টোবরে ট্রাইবুনালের রায়েই পুনর্বহাল করা হয় ওই চিকিৎসককে। ডিসেম্বরে কালাবুর্গির সেদাম জেনারেল হাসপাতালে পুনর্বহাল করা হয় তাকে। তবে কাগজপত্রে কিছু ত্রুটি থাকার ফলে গত ১৫ মাস ধরে বেতন আটকে রয়েছে ওই চিকিৎসকের। জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য কর্মকর্তা জাভেদ আখতার ঘটনাটি জানার পর প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের আশ্বাস দিয়েছেন।

তবে প্রাইভেট ক্লিনিক খুলছেন না কেন তিনি? সে বিষয়ে ওই চিকিৎসক বলেন, ‘‌ঋণ নিয়ে প্রাইভেট ক্লিনিক খোলার চেষ্টা করছি। আদতে হবে কি না, তা নিয়েই দুশ্চিন্তায় রয়েছি। কারণ লাইসেন্সের জন্য ওই অফিসারের কাছেই যেতে হবে। জানি উনি আমায় লাইসেন্স দেবেন না।’‌
তার সংযোজন, ‘‌অটো কিনেছি ঋণের টাকা নিয়ে। কষ্ট করে দিন চালাচ্ছি। জানি না এভাবে আর কতদিন চলবে।’‌ আজকাল

পাঠকের মতামত...

Print Friendly, PDF & Email
Total Page Visits: 30 - Today Page Visits: 1

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*