Home » লিড নিউজ » বরিশালের সন্তান বরেণ্য অভিনেতা কে এস ফিরোজ আর নেই

বরিশালের সন্তান বরেণ্য অভিনেতা কে এস ফিরোজ আর নেই

ডেক্স রিপোর্ট // মারা গেছেন দেশের বরেণ্য অভিনেতা কে এস ফিরোজ। বুধবার (০৯ সেপ্টেম্বর) সকাল ৬টা ২০ মিনিটে রাজধানীর সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিমএইচ) শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন। ‘ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন’। জনপ্রিয় নির্মাতা চয়নিকা চৌধুরী সাংবাদিকদের এই খবর নিশ্চিত করেছেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিলো ৭৬ বছর। চলতি বছরের ৭ জুলাই তিনি জীবনের ৭৫ বছর পার করেছিলেন।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, অভিনেতা কে এস ফিরোজ বেশ কয়েকদিন ধরেই নিউমোনিয়ায় ভুগছিলেন। সম্প্রতি তিনি নিউমোনিয়ার ইঞ্জেকশন নিতে আইসিডিডিআরবিতে গিয়ে সেখান থেকে ফিরেই জ্বরে আক্রান্ত হন।

জ্বর নিয়ে একটি হাসপাতালে কয়েকদিন ভর্তি ছিলেন। অবস্থা খারাপ হলে তাকে মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) সিমএইচে ভর্তি করা হয়। সেখানে ভর্তি হয়েই লাইফ সাপোর্টে রাখা হয় তাকে। আজ সকালে পৃথিবী ছেড়ে না ফেরার দেশে পাড়ি জমান কে এস ফিরোজ।

এ অভিনেতার স্ত্রী মাধবী ফিরোজ সাংবাদিকদের জানান, কে এস ফিরোজকে কখন কোথায় দাফন করা হবে সে বিষয়ে এখনো পারিবারিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।

জানা গেছে, এই গুণী অভিনেতার গ্রামের বাড়ি বরিশালের উজিরপুরের মশাং গ্রামে। তবে তার জন্ম তার ঢাকার লালবাগে। তার বাবার নাম এ জে এম সাইদুর রহমান। অবশ্য এলাকার মানুষ তার বাবাকে উজির মিয়া নামেই চিনতেন।

 

মঞ্চ নাটক দিয়ে শুরু হয়েছিল কে এস ফিরোজের অভিনয় যাত্রা। নাটদ্যল ‘থিয়েটার’র সাথে সম্পৃক্ত হয়ে অভিনয় শুরু করেন। এই দলের হয়ে তিনি অভিনয় করেছেন ‘সাত ঘাটের কানাকড়ি’, কিংলিয়ার’ ও ‘রাক্ষসী’ নাটকে।

কে এস ফিরোজ প্রথম টিভিতে অভিনয় করেন দিলারা জামানের স্বামী শফিউজ্জামানের রচনায় ও জামান আলী খানের প্রযোজনায় ‘দীপ তবুও জ্বলে’ নাটকে। এতে তার বিপরীতে ছিলেন ডলি ইব্রাহীম।

কে এস ফিরোজ অল্প কিছু চলচ্চিত্রেও কাজ করেছেন। তার প্রথম সিনেমা ‘লাওয়ারিশ’। অভিনয় করেছেন আবু সাইয়ীদের ‘শঙ্খনাদ’, ‘ বাশি’, মুরাদ পারভেজের ‘চন্দ্রগ্রহণ’ ও ‘বৃহন্নলা’র মতো প্রশংসিত সিনেমায়।

অভিনয়ের বাইরেও এক বর্ণিল ক্যারিয়ার কে এস ফিরোজের। ১৯৬৭ সালে কে এস ফিরোজ বাংলাদেশে সেনাবাহিনীতে কমিশন পদে চাকরি নেন। ১৯৭৭ সালে মেজর পদে চাকরি থেকে অব্যাহতি নেন। তার আগে ১৯৭৪ সালের ১ নভেম্বর মাধবীর সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। কে এস ফিরোজের তিন মেয়ে। তারা হচ্ছেন নাদিয়া, সাদিয়া ও রাবেয়া জাহান ফিরোজ।

পাঠকের মতামত...

Print Friendly, PDF & Email
Total Page Visits: 51 - Today Page Visits: 1

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*