Home » বরিশাল » শেবাচিম হাসপাতালের পাশে স্তূপ, দুর্গন্ধে চিকিৎসকদের দম বন্ধ

শেবাচিম হাসপাতালের পাশে স্তূপ, দুর্গন্ধে চিকিৎসকদের দম বন্ধ

বাংলার কন্ঠস্বর // বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতাল চত্বর এখন ময়লার ভাগাড়ে রুপ নিয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির বর্জ্য দীর্ঘদিন ধরে সিটি কর্পোরেশন অপসারণ না করায় দুর্গন্ধে হাসপাতালের আশপাশ থেকে চলাচল দায় হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে এই দুর্গন্ধ বাতাসে হাসপাতালের অভ্যন্তরে প্রবেশ করায় রোগীসহ চিকিৎসকের দম বন্ধ হয়ে প্রাণ যাওয়ার উপক্রম তৈরি হয়েছে। এমন দুরাবস্থা থেকে পরিত্রাণ পেতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বর্জ্য একটি নির্ধরিত স্থানে গর্তে করে মাটিচাপা দিলেও এতে হিতে বিপরিত ঘটছে। ফলে এখন ময়লার দুর্গন্ধে হাসপাতালের চারপাশের বাসিন্দাও নাকাল হয়েছেন, হচ্ছেন। 

হাসপাতাল সূত্র জানায়, করোনা মহামারি আকারে রুপ নেওয়ার পরে গত ৫ মাস ধরে ঝুঁকিপূর্ণ মেডিকেল বর্জ্য সিটি কর্পোরেশন অপরাসণ করেনি বা এখন করছে না। ফলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ উদ্যোগ নিয়ে পাশে একটি বিশালাকায় গর্ত করে সেখানে সকল ময়লা ফেলা হচ্ছে। কিছু দিন না যেতেই গর্তটি বর্জ্যে পরিপূর্ণ হয়ে মেডিকেলের আশপাশে ছড়িয়ে পড়ে, সেই সাথে দুর্গন্ধও বাতাসে ভাসতে থাকে। এমন উদ্ভুত পরিস্থিতিতে সিটি কর্পোরেশনকে এরপর একাধিক ময়লা অপসারণ করতে বলা হলেও সেখান থেকে সাড়া মেলেনি। ফলে অনেকটা বাধ্য হয়ে হাসপাতালের ময়লা সেখানেই ফেলতে হচ্ছে।

হাসপাতালের চিকিৎসক জানান, পাশে ময়লার স্তূপ থেকে দুর্গন্ধ বাতাসে ভেসে বেড়ানোর কারণে এখন শেবাচিম হাসপাতালের অভ্যন্তরে রোগীদের চিকিৎসা দেওয়া কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে জরুরি বিভাগে বসে রোগী দেখতে গেলে দুর্গন্ধে দম বন্ধ হয়ে আসছে। বিষয়টি সমাধানে এখন পর্যন্ত বেশ কয়েক বার পরিচালককে অবহিত করলেও সমাধানে উদোগ নেই।

এদিকে হাসপাতাল পরিচালক ডা. মো. বাকির হোসেন বলছেন, করোনা পরিস্থিতি ভাল না হওয়া পর্যন্ত বর্জ্য সরানো হবে না, জানিয়ে দিয়েছে সিটি কর্পোরেশন। ফলে ময়লা সরিয়ে না নেয়ায় আমরা হাসপাতালের ভেতরেই গর্ত করে সেখানে ময়লা ফেলে ঢেকে রেখেছি। সাড়ে চার মাসের বেশি সময় ধরে এভাবে ময়লা সংরক্ষণ করে আসছি। এই কারণে দুর্গদ্ধ কিছুটা বাতাসে ছড়িয়ে পড়ছে, এবং এতে স্বাস্থ্যঝুঁকিরও আশঙ্কা রয়েছে।

হাসপাতালটির আউটডোর ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ডা. সৌরভ সুতার জানান, হাসপাতালে প্রতিদিন দেড় হাজারের বেশি রোগী থাকেন। ডাক্তার, নার্স ও রোগীর স্বজনসহ গড়ে অন্তত ১০ হাজার মানুষের কয়েক মেট্রিক টন বর্জ্য এখানে জমা হয় । ময়লা সংরক্ষণ করার জন্য গর্ত করতে করতে হাসপাতালের ভেতর আর জায়গা নেই। কর্তৃপক্ষের উচিত দ্রুত এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নেওয়া। না হলে হাসপাতালের স্বাস্থ্য সুরক্ষার বিষয়টি হুমকির মুখে পড়বে। এক্ষেত্রে পরিচালকের ভাষ্য হচ্ছে, বিষয়টি নিয়ে আরও একবার সিটি কর্পোরেশনের সাথে আলোচনা করবেন।

তবে করোনা দুর্যোগের মাঝে এখনই ময়লা অপসারণ করা যাচ্ছে না জানিয়ে বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের প্রধান পরিচ্ছন্নতা কর্মকর্তা রবিউল ইসলাম বরিশালটাইমসকে বলেন, হাসপাতালের এই ময়লা-আবর্জনা মেইন শহর থেকে নিয়ে গিয়ে উন্মুক্ত স্থানে ফেলা হয়। সেখানেও মানুষের বসবাস রয়েছে। সেখানকার মানুষের স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণ হতে পারে হাসপাতালের বর্জ্য।

এ প্রসঙ্গে প্যানেল মেয়র ও ১৯ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর গাজী নইমুল ইসলাম লিটু বরিশালটাইমসকে বলেন- করোনাসহ কোন রোগ মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়তে না পারে সেজন্য হাসপাতালের বর্জ্য হাসপাতালের ভেতরই মাটি চাপা দিয়ে রাখা হচ্ছে।’

পাঠকের মতামত...

Print Friendly, PDF & Email
Total Page Visits: 5 - Today Page Visits: 1

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*