Home » লিড নিউজ » এখনো পানিবন্দি শরণখোলার চার সহস্রাধিক পরিবার

এখনো পানিবন্দি শরণখোলার চার সহস্রাধিক পরিবার

বাংলার কন্ঠস্বর // গত ২১ অক্টোবর থেকে টানা তিন দিন ভারি বর্ষণে তলিয়ে যায় বাগেরহাটের শরণখোলার প্রায় ৯০ ভাগ এলাকা। পানিবন্দি হয়ে পড়েছিল উপজেলার প্রায় অর্ধ লক্ষাধিক পরিবার। কিন্তু এক সপ্তাহ পার হলেও সেই বৃষ্টির পানিতে এখনো বন্দি অবস্থায় রয়েছে চার সহস্রাধিক পরিবার। তুলনামূলক নিচু এলাকার বাড়ির আঙিনা, চলাচলের পথ, পুকুর, নালা, বাগান এখনো তলিয়ে আছে পানিতে। স্বাভাবিক কাজকর্ম ব্যাহত হচ্ছে পানিবন্দি এসব মানুষের।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের ৩৫/১ পোল্ডারের ৬৩ কিলোমিটার টেকসই বাঁধ নির্মাণকাজ চলমান থাকায় পানি নিষ্কাশনের ২৬টি স্লুইস গেটের কাজ অসম্পন্ন রয়েছে। কিছু কিছু গেট জরুরিভাবে খুলে দেওয়া হলেও তা গোটা উপজেলার পানি নিষ্কাশনে পর্যাপ্ত নয়। যার ফলে এই দীর্ঘ জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। গতকাল বুধবার ও আজ বৃহস্পতিবার উপজেলার চারটি ইউনিয়নের জলাবদ্ধ বিভিন্ন এলাকা ঘুরে এমন দুর্ভোগের চিত্র চোখে পড়ে।

সরেজমিনে উপজেলার ধানসাগর ইউনিয়নের কালিবাড়ি গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, বিধবা কোহিনুর বেগমের ঘরের আশপাশে এখনো কোমর সমান পানি জমে আছে। সুপারি গাছের সাঁকো দিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে তাদের। কোহিনুর বেগম জানান, ছেলেবউ ও দুই বছরের নাতিকে নিয়ে ওই ঘরে বসবাস করেন তিনি। ঘরের চার পাশে পানি জমে থাকায় সাপ, ব্যাঙসহ বিভিন্ন পোকামাকড় ঘরে উঠে আসে। ভয়ে রাতে ঠিকমতো ঘুমোতে পারেন না।

স্থানীয় ইউপি সদস্য তপু বিশ্বাস জানান, তার ওয়ার্ডের হোগলপাতি, ছৈলাবুনিয়া ও কালিবাড়ি গ্রামে প্রায় ৩০টি পরিবার চরম দর্ভোগে রয়েছে। ধানসাগর ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান স্বপন জানান, তাদের ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে এখনো পানিবন্দি রয়েছে দেড় শতাধিক পরিবার।

খোন্তাকাট ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জাকির হোসেন খান মহিউদ্দিন জানান, তার ইউনিয়নে দুই হাজারেরও বেশি পরিবারের বাড়িতে পানি জমে আছে। হাঁস-মুরগি ও গবাদি পশু নিয়ে বিপাকে পড়েছে পরিবারগুলো। কাদা-পানিতে স্বাভাবিক কাজকর্ম করতে পারছে না। দ্রুত পানি নিষ্কাশন না হলে নানা সংকট দেখা দেবে এলাকায়।

রায়েন্দা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান মিলন জানান, তার ইউনিয়নে একনো সহস্রাধিক পরিবার পানিবন্দি। জলাবদ্ধতার কারণে তার ইউনিয়নসহ উপজেলার সমস্ত রবি শস্য শেষ হয়ে গেছে। গাছপালার ওপরও ক্ষতিকর প্রভাব পড়তে শুরু করেছে।

সাউথখালী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. মোজাম্মেল হোসেন জানান, তার ইউনিয়নের দক্ষিণ খুড়িয়াখালী, চালিতাবুনিয়া, দক্ষিণ সাউথখালী, উত্তর সাউথখালী, বকুলতলা, দক্ষিণ তাফাবাড়ী ও উত্তর তফালাবাড়ী গ্রামের সহস্রাধিক পরিবারের বাড়ির আঙিনা, চলাচলের পথ ও বাগানবাড়িতে পানি জমে আছে। পর্যাপ্ত পানি সরতে না পারায় জলাবদ্ধতা স্থায়ী আকার ধারণ করেছে। এতে মানুষের দুর্ভোগ দিন দিন বাড়ছে। এব্যাপারে প্রশাসনের দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।

শরণখোলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সরদার মোস্তফা শাহিন বলেন, দ্রুত যাতে পানি নেমে যায় সেজন্য পানি উন্নয়ন বোর্ড ও বেড়িবাঁধ নির্মান সংশ্লিষ্টদের স্লুইস গেটগুলো খুলে দিয়ে তদারকি করতে বলা হয়েছে। বাঁধের কাজ চলমান থাকায় কিছুটা সমস্যা হচ্ছে। জলাব্ধতার বিষয়টি প্রশাসনের নজরদারিতে রয়েছে। তাছাড়া, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের জন্য ইতিমধ্যে ২০মেট্রিকটন চাল বরাদ্দ দিয়েছে সরকার।

পাঠকের মতামত...

Print Friendly, PDF & Email
Total Page Visits: 38 - Today Page Visits: 1

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*