Home » সর্বশেষ সংবাদ » ছেলের আশায় ৮ মেয়ে!

ছেলের আশায় ৮ মেয়ে!

বাংলার কন্ঠস্বর // অভাবের সংসার। দিনমজুর স্বামীর সামান্য আয়ে চলে তিনবেলার আহার। বলা যায়, নুন আনতে পানতা ফুরায় অবস্থা। সংসারে টানাটানি বেশি হয় যখন ফাতেমা-সাইফুর দম্পতির সংসারে একে একে পাঁচ কন্যা সন্তান আসে। এরপরও সাধ ছিলো একটা ছেলে সন্তানের। কিন্তু বিধি বাম, এবারও ছেলে হলো না। গত ১২ অক্টোবর একসঙ্গে তিন কন্যা সন্তানের জন্ম দেন ফাতেমা। অভাবের সংসারে আট সন্তান নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় পড়েছেন ওই দম্পতি।

জানা যায়, ফাতেমার বাড়ি কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার হাসনাবাদ ইউনিয়নের দক্ষিণ নওদাপাড়া গ্রামে। ২০ বছর আগে ফুলবাড়ী উপজেলার ভাঙ্গামোড় ইউনিয়নের নগরাজপুর গ্রামের দিনমজুর সাইফুর রহমানের সঙ্গে তার বিয়ে হয়।

বিয়ের পর তাদের সংসারে একে একে জন্ম নিয়েছে পাঁচ কন্যা সন্তান। ছেলের আশায় আবারও গর্ভধারণ করেন ফাতেমা। কিন্তু এবার একসঙ্গে জন্ম নিয়েছে তিন কন্যা। আট কন্যা সন্তানের ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তিত সাইফুর ও ফাতেমা।  এ ছাড়া, একসঙ্গে তিন সন্তানের জন্ম দিয়ে ফাতেমা অসুস্থ হয়ে পড়েছেন।

 

পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বড় মেয়েকে এক বছর আগে বিয়ে দিয়েছেন। বাকি চারজনের একজন নবম শ্রেণি, একজন সপ্তম শ্রেণি এবং দুইজন শিশু শ্রেণিতে পড়ে।  ফাতেমার মা রহিমা বেগম বলেন, ‘ছেলের আশায় একে একে ৫ মেয়ে হওয়ার পর এবার একসঙ্গে তিন মেয়ের জন্ম হইছে।  ফাতেমার শরীর-মন দুটোই খারাপ। অভাবের সংসারে এতগুলা বাচ্চা মানুষ করবে কেমন করি!’

এদিকে তাদের ওই তিন কন্যা শিশুর ভরণ-পোষণের সামর্থ্য না থাকায় ফেসবুকে শিশু তিনটিকে দত্তক দেওয়ার কথা জানিয়েছেন তার এক আত্মীয়। তবে ফাতেমার মামা মেহের আলী জানান, দত্তকের  সিদ্ধান্ত নিয়ে আপাতত ভাবছি না।  ফাতেমা সুস্থ হলে সিদ্ধান্ত নেওয়া যাবে।

মেহের আলী জানান, ‘জন্মের পর তিন শিশুর শারীরিক অবস্থা ভালো। তবে ফাতেমার অবস্থা খুব ভালো না। এক সপ্তাহ ধরে সে অসুস্থ।  পল্লী চিকিৎসককে দেখানো হয়েছে। তার উন্নত চিকিৎসা প্রয়োজন। কিন্তু অর্থের অভাবে তা সম্ভব হচ্ছে না। এদিকে ছেলের আশা করলেও একসঙ্গে তিন কন্যা সন্তানের জন্ম হওয়ায় ফাতেমার মনও ভালো নেই। সাইফুরও অসন্তুষ্ট, অসংলগ্ন কথা  বলছে।

সাইফুর রহমান বলেন, ‘আল্লাহ যা করছে তা ভালো হইছে। কখনও কামলা দিয়া আবার কখনও শাক-সবজি বিক্রি করি সংসার চালাই। কষ্ট করি হইলেও বাচ্চাদের মানুষ করার চেষ্টা তো করা লাগবে।’’

এ ব্যাপারে নাগেশ্বরী উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা জিন্নাতারা ইয়াছমিন বলেন, ‘আট সন্তানের জননী হওয়ায় নীতিমালা অনুযায়ী তাকে মাতৃত্বকালীন ভাতা দেওয়া সম্ভব নয়। তার স্বামীর বাড়ি ফুলবাড়ী উপজেলায় হওয়ায় তাকে ওই উপজেলায় ভিজিডি প্রকল্পে অন্তর্ভুক্ত করা যেতে পারে।’

ফুলবাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তৌহিদুর রহমান বলেন, ‘তিনি যেহেতু এখন নাগেশ্বরী উপজেলায় রয়েছে তাই তার স্বাস্থ্যগত বিষয়ে কোনো ব্যবস্থা নিতে হলে সেখানকার প্রশাসন নেবে।  আর সে ফুলবাড়ীতে তার বাড়িতে ফিরলে আমরা তার ব্যবস্থা নেবো। ‘

নাগেশ্বরী উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) নুর আহমেদ মাছুম বলেন, ‘বিষয়টি আমি শুনেছি। তিনি ফুলবাড়ী উপজেলার স্থায়ী বাসিন্দা হলেও আমাদের উপজেলা প্রশাসন থেকে তার জন্য সহযোগিতার ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। ‘

পাঠকের মতামত...

Print Friendly, PDF & Email
Total Page Visits: 43 - Today Page Visits: 1

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*