Home » লিড নিউজ » পরীক্ষা দিতে আগ্রহী শিক্ষার্থীর

পরীক্ষা দিতে আগ্রহী শিক্ষার্থীর

বাংলার কন্ঠস্বর// করোনা পরিস্থিতির এখনও কোনো উন্নতি নেই, আর করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ের ধাক্কা নিয়ে শঙ্কিত বিশেষজ্ঞরা। এমন পরিস্থিতিতে সামনে আরেকটি এসএসসি পরীক্ষার সময় এগিয়ে আসছে। সেই সঙ্গে সঙ্গে আসছে পরের বছরের এইচএসসি পরীক্ষার সময়ও। সেসব পরীক্ষা কি অনুষ্ঠিত হবে, নাকি এবারও স্থগিত হবে? এসএসসি ও এইচএসসি শিক্ষার্থীরা কী চান? তাদের অভিভাবকরা কী চান? এবিষয়ে শিক্ষাবিদদের মতামত কী? এ বিষয়গুলো জানার চেষ্টা করেছে দেশের একটি বেসরকারি টেলিভিশনের অনলাইন নিউজ গণমাধ্যম।এসএসসি পরীক্ষার্থী শাফায়াত জামির সায়েম মনে করেন, বিগত পরীক্ষার ভিত্তিতে পরীক্ষার ফলাফল দিয়ে দিলে মেধার ঠিকমতো মূল্যায়ন বাধাগ্রস্ত হবে। তাতে হয়তো অনেকের অনেক ভালো প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হওয়ার ইচ্ছে থাকবে কিন্তু ফলাফলের ভিত্তিতে তারা সেখানে ভর্তি হতে পারবে না।সেজন্য এই শিক্ষার্থীর পরামর্শ, খানিকটা প্রস্তুতির সময় দিয়ে পরীক্ষা নিয়ে নেওয়া উচিত। করোনা পরিস্থিতির কারণে এবছর এখনও স্কুলগুলোতে টেস্ট পরীক্ষা হয়নি। তাই ২ মাস পিছিয়ে, কিছুদিন ক্লাস নিয়ে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হলেই শিক্ষার্থীদের জন্য ভালো হবে।দুয়ারীপাড়া সরকারি মহাবিদ্যালয়ের এইচএসসি শিক্ষার্থী রওশন আরা অমি মনে করেন, অটো পাস নয়, পরীক্ষার নিয়েই ফলাফল দেওয়া উচিত। কারণ এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের সামনে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির একটি বিষয় থাকে। অটোপাস দিয়ে দিলে প্রস্তুতি সেভাবে নেওয়া হয় না। তাছাড়া এতে মেধার মূল্যায়নও হচ্ছে না। অনেকের প্রস্তুতি বেশি বা কম থাকতে পারে। অটোপাস দিয়ে সেটা বিবেচনার কেনো সুযোগ নেই।স্বাস্থ্যবিধি মেনে কিছুদিন ক্লাস করিয়ে পরীক্ষা নেওয়ার পক্ষে মত জানিয়ে পক্ষে এ শিক্ষার্থী বলেন, জুম অ্যাপে এখন ক্লাস হচ্ছে। কিন্তু তাতে সবাই ঠিকমতো অংশ নিতে পারে না। অনেক সময় কোনো প্রশ্ন থাকলেও করা যায় না। আবার যদি ক্লাসের ভিডিও আপলোড করা হয়, কোনোকিছু না বুঝতে পারলে কমেন্ট করলে রিপ্লাই দেরিতে পাওয়া যায়। এসব নানা সমস্যার কারণে কয়েকদিন ক্লাস নিয়ে তারপরে পরীক্ষা নেয়াই ভালো হবে শিক্ষার্থীদের জন্য।আরেকজন শিক্ষার্থীর অভিভাবক আজিজুল হকও পরীক্ষা নেওয়ারই পক্ষে। তার মতে, একটা পরীক্ষাতে কারো ফলাফল খারাপ হতে পারে। সেটার ভিত্তিতেই পরের পরীক্ষার ফলাফল দিলে শিক্ষার্থীর উঠে আসার কোনো সুযোগ থাকে না। প্রতিযোগিতাটাও হয় না। ফলে পড়াশোনার উন্নয়ন হয় না।শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের চাওয়ার বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইন্সটিটিউটের পরিচালক ড. সৈয়দা তাহমিনা আখতার বলেন, এভাবে অটোপাস দিয়ে দিলে শিক্ষার্থীর মূল্যায়ন হবে না, আবার করোনা পরিস্থিতির কারণে না দিয়ে কোনো উপায়ও থাকছে না। করোনার দ্বিতীয় ঢেউ যদি তীব্র হয়, তাহলে বিকল্প ভাবনা ভাবতেই হবে। তখন হয়তো এসএসসি পরীক্ষার্থীদের জন্য স্কুলগুলোতে টেস্ট পরীক্ষা নিয়ে সেই অনুযায়ী ফলাফল দিয়ে দিতে হবে।তবে আরো কিছু পরামর্শ রয়েছে এই অধ্যাপকের। তার মতে, পরীক্ষা নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে আরো কিছু শিক্ষাবিদের সঙ্গে কথা বলে নেওয়া প্রয়োজন। সমস্যা সমাধানে পরীক্ষার দিনগুলো ভাগ করে নেওয়া যেতে পারে। যেমন হয়তো একদিন বিজ্ঞানের পরীক্ষার্থীদের পরীক্ষা হলো, অন্যদিন মানবিকের। আবার চাইলে বিষয় কমিয়েও পরীক্ষা নেওয়া যেতে পারে। যেমন চতুর্থ বিষয়গুলোর পরীক্ষা না নেওয়া বা দুই পত্রের পরীক্ষা বাদ দেওয়া ইত্যাদি।পরীক্ষার কেন্দ্র আরো বাড়ানোর পক্ষপাতি এ শিক্ষাবিদ বলেন, পরীক্ষার কেন্দ্র বাড়ালে স্বাস্থ্যবিধি মেনে দূরত্ব বজায় রেখে পরীক্ষা নেওয়া সম্ভব হবে। তাছাড়া পরীক্ষা কেন্দ্রে অতিরিক্ত অভিভাবক আগমন নিষিদ্ধ করতে হবে। তাহলেও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা অনেকাংশে সম্ভব হবে।বেশ কয়েক বছর ধরে ১ ফেব্রুয়ারি থেকে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা এবং ১ এপ্রিল থেকে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরু হয়। এবছর করোনা পরিস্থিতির কারণে স্থগিত হয়ে যায় এইচএসসি পরীক্ষা।২০২০ সালে এসএসসি ও সমপর্যায়ের পরীক্ষা শুরু হয়েছিল ৩ ফেব্রুয়ারি। শেষ হয় ২৭ ফেব্রুয়ারি। গত ১০/১২ বছর ধরে পরীক্ষা শেষ হওয়ার ৬০ দিনের মধ্যে ফল প্রকাশের রেওয়াজ তৈরি হলেও করোনা পরিস্থিতির কারণে এক মাস পিছিয়ে ৩১ মে এই পরীক্ষার ফল প্রকাশ হয়। দেরিতে ফল প্রকাশ করা সম্ভব হলেও একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি কার্যক্রম স্থগিত রাখতে হয় অন্তত সাত মাস।

পাঠকের মতামত...

Print Friendly, PDF & Email
Total Page Visits: 45 - Today Page Visits: 1

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*