ঢাকাThursday , 14 April 2016
  1. অপরাধ
  2. অর্থনীতি
  3. আইন ও আদালত
  4. আন্তর্জাতিক
  5. এক্সক্লুসিভ
  6. করোনা আপডেট
  7. খুলনা
  8. খেলাধুলা
  9. গণমাধ্যম
  10. চট্টগ্রাম
  11. জাতীয়
  12. ঢাকা
  13. তথ্য-প্রযুক্তি
  14. প্রচ্ছদ
  15. প্রবাসে বাংলাদেশ

অবক্ষয়ের ইতি টেনে মঙ্গলের যাত্রায়

Link Copied!

বাংলার কন্ঠস্বরঃ

বিশাল টেপা পুতুলে মা ও শিশুর অবয়ব ফুটিয়ে তুলে অবক্ষয়ের পৃষ্ঠা উল্টে নবজাগরণের ডাক এসেছে এবারের বর্ষবরণের ‘মঙ্গল শোভাযাত্রায়’।

 

‘অন্তর মম বিকশিত করো অন্তরতর হে’- প্রার্থণায়  বঙ্গাব্দ ১৪২৩ কে বরণ করে নিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদ প্রতিবারের মতো এবারও এই বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রার আয়োজন করে।

 

বৃহস্পতিবার সকাল ৯টায় চারুকলা অনুষদের সামনে থেকে শুরু হয় শোভাযাত্রা। শাহবাগ দিয়ে রুপসী বাংলার মোড় ঘুরে টিএসসি হয়ে ফের চারুকলার সামনে এসে এই বর্ণিল যাত্রার শেষ হয়।

 

সামনে-পেছনে ঢাকের বাদ্যের তালে তালে নৃত্য, আর হাতে হাতে ধরা বড় আকারের বাহারি মুখোশ। টেপা পুতুল আর বাঁশের কাঠামোতে মাছ, পাখি,  হাতির মতো নানা লোকজ মোটিফে ফুটে উঠেছে বাংলার ইতিহাস-ঐতিহ্য। সেই প্রতীক আবার ধারণ করেছে সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহের চিহ্ন, অমঙ্গলের আঁধার ঘোচানোর প্রত্যয়।

 

শোভাযাত্রার বিশাল ময়ূরপঙ্খী নাও নদীমাতৃক বাংলাদেশের সমৃদ্ধির প্রতীক হয়ে এসেছে। দুর্নীতি ও জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ দেখিয়েছে একরোখা ষাঁড়। গাছ আর পাখি, গরুর শিল্প-কাঠামো মনে করিয়ে দিয়েছে প্রকৃতি আর পরিবেশের প্রতি দায়িত্বের কথা।

 

বর্ষবরণের এই শোভাযাত্রা এরইমধ্যে বাঙালির বর্ষবরণের কেন্দ্রীয় আয়োজনের একটি হিসাবে স্থান করে নিয়েছে। ঢাক-ঢোল পিটিয়ে, নেচে-গেয়ে তাতে অংশ নিয়েছেন সব বয়সের সব শ্রেণি-পেশার হাজারো মানুষ। বৈশাখের লাল-সাদার ভিড়ে দেখা গেছে বিদেশি মুখও।

 

আয়োজকরা জানান, গত বছরজুড়ে শিশুহত্যা, মা ও সন্তানের মধ্যে সম্পর্কে অবনতি আর ধর্মান্ধ শক্তির ‘আস্ফালনের’ প্রেক্ষাপটে এবারের মঙ্গল শোভাযাত্রার ‘থিম’ হিসেবে তারা বেছে নেন ‘সামাজিক অবক্ষয়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ’।

 

মঙ্গল শোভাযাত্রার উদ্বোধন করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক বলেন, “পুরাতন বছরকে বিদায় জানিয়ে নতুনের দিকে ধাবিত হচ্ছি আমরা। এর মাধ্যমে আগের বছর যে ভুলগুলো আমরা করেছি সেগুলো শুধরে নিয়ে নতুন করে পথ চলতে হবে।”

 

তিনি বলেন, “এবারের শোভাযাত্রায় মা ও সন্তানের সম্পর্কের উপর ভিত্তি করে সামাজিক অবক্ষয়ের বিরুদ্ধে কাজ করার একটা আহ্বান আছে। আজকের শিশুরা আগামী দিনে নেতৃত্ব দেবে। নতুন বছরে তাদের জন্য সুন্দর ও শান্তিময় বাংলাদেশ গড়ার দিকেও খেয়াল রাখতে হবে।”

 

এর আগে চারুকলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক নিসার হোসেন বলেন, “প্রতিবারই আমরা শুভ কামনা নিয়ে মঙ্গল শোভাযাত্রার আয়োজন করি। এ বছর আমাদের মূল ভাবনার জায়গাটা সামাজিক মূল্যবোধের অবক্ষয়। যার ফলে এখন মায়ের হাতে সন্তান, সন্তানের হাতে মা খুন হচ্ছে। সেই সঙ্গে ধর্ম ব্যবসায়ীদের আস্ফালনসহ নানা অবক্ষয় চলছে।”

 

“আমরা এসব থেকে মুক্তি চাই, আলোর দিকে যেতে চাই।”

 

শোভাযাত্রার নিরাপত্তা দিতে র‌্যাব ও পুলিশ সদস্যরা নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিএনসিসির সদস্যরাও ছিলেন।

 

মুখে মুখোশ এঁটে শোভাযাত্রায় অংশগ্রহণে নিষিদ্ধ করা হয়েছিল এবার। তবে চারুকলার বানানো বড় মুখোশ ছিল হাতে হাতে।

 

অন্যদের মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় নববর্ষ উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক উপ-উপাচার্য(প্রশাসন) অধ্যাপক সহিদ আকতার হুসাইন, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক কামাল উদ্দীন, কলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক আখতারুজ্জামান, চারুকলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক নিসার হোসেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক এ এম আমজাদ শোভাযাত্রায় উপস্থিত ছিলেন।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।