1. faysal.rakib2020@gmail.com : admin :
  2. thelabpoint2022@gmail.com : Rifat Hossain : Rifat Hossain
ইউটিউবের ভিডিও দেখে শুরু, পেঁপে চাষে কামালের সাফল্য - বাংলার কন্ঠস্বর ।। Banglar Konthosor
শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ১২:১৯ অপরাহ্ন
নোটিশ :
বিভিন্ন জেলা,উপজেলা-থানা,পৈারসভা,কলেজ পর্যায় সংবাদকর্মী আবশ্যক ।

ইউটিউবের ভিডিও দেখে শুরু, পেঁপে চাষে কামালের সাফল্য

  • প্রকাশিত : বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • ৫৫ 0 বার সংবাদি দেখেছে

পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার লতাচাপলী ইউনিয়নের রসুলপুর গ্রামের কৃষক কামাল হোসেন প্রায় দুই বছর আগে ইউটিউব দেখে পেঁপে চাষে আগ্রহী হন। সে সময় কোনো বড় বিনিয়োগ নয়, বাড়ির আঙিনায় মাত্র ৩০টি গাছ দিয়ে শুরু করেছিলেন। ফলন ভালো হওয়ায় ধীরে ধীরে বাড়াতে থাকেন বাগানের পরিধি। বর্তমানে তার বাগানে রয়েছে ১৫০টিরও বেশি পেঁপে গাছ।

যে মাটিতে অনেক কৃষক নতুন ফসল ফলানোর সাহস পান না, সেই মাটিতেই সবুজ পাতার আড়ালে ঝুলছে সারি সারি পেঁপে। গাছের ডালে ডালে কাঁচা-পাকা পেঁপে। শখ থেকে শুরু করা এই পেঁপে চাষ এখন ৬০ বছর বয়সি কৃষক মো. কামাল হোসেনের পরিবারের অন্যতম আয়ের উৎস। এ পথে কুয়াকাটাগামী পর্যটকদের অনেকেই গাড়ি থামিয়ে কিনছেন টাটকা পেঁপে।

কামাল হোসেনের ভাষ্য, শুরুতে পেঁপে চাষকে তিনি ব্যবসা হিসেবে দেখেননি। ইউটিউবে পেঁপে চাষের ভিডিও দেখে মনে হয়, বাড়ির পড়ে থাকা জায়গায় কয়েকটি গাছ লাগিয়ে চেষ্টা করে দেখা যাক। সেই চিন্তা থেকেই চারা রোপণ। প্রথমে ৩০টা গাছ লাগিয়েছিলাম শখের বশে। তখন ভাবিনি এই গাছ থেকেই একদিন সংসারের এত বড় একটা আয় হবে। গাছগুলো ভালো হওয়া শুরু করলে বুঝলাম, আমাদের এলাকার মাটিতেও পেঁপে ভালো হতে পারে। এরপর আস্তে আস্তে গাছ বাড়াইছি।

কামাল আরও বলেন, এখন বাগানে ১৫০টির বেশি গাছ আছে। প্রায় প্রতিদিনই পেঁপে বিক্রি হয়। কোনো দিন দুই হাজার, কোনো দিন তিন হাজার টাকারও বেশি বিক্রি হয়। মাসে গড়ে ৪০ থেকে ৪৫ হাজার টাকা আয় হয়। আগে সংসারের খরচ চালাতে অন্য আয়ের ওপর নির্ভর করতে হতো। এখন পেঁপে বিক্রির টাকা দিয়ে সংসারের অনেক খরচ চলে যায়। তার ভাষায়, শখের কাজটা যে এতটা কাজে লাগবে, আগে বুঝিনি। এখন মনে হয়, জায়গা থাকলে আরও বড় করে পেঁপে চাষ করতাম।

কামালের পেঁপে বিক্রির সবচেয়ে বড় সুবিধা হল- তাকে উৎপাদিত পেঁপে নিয়ে দূরের বাজারে ছুটতে হয় না। কুয়াকাটায় বেড়াতে আসা পর্যটকরাই তার বাগানের সামনে গাড়ি থামিয়ে পেঁপে কিনে নেন। রসুলপুর থেকে রাখাইন পল্লী মিশ্রীপাড়ার দিকে যাওয়ার সড়কের পাশে বাগান হওয়ায় পর্যটকদের চোখে পড়ে সহজেই। পাকা পেঁপে দেখলেই অনেকে গাড়ি থামান। কেউ পরিবারের জন্য, কেউ আবার বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার জন্য পেঁপে কিনে নেন। এতে একদিকে যেমন কৃষকের পরিবহন খরচ কমছে, অন্যদিকে পর্যটকরাও পাচ্ছেন স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত টাটকা ফল।

কৃষক কামাল হোসেনের ছেলে বলেন, বাবা যখন প্রথম পেঁপে গাছ লাগান, তখন আমরা এটাকে বড় কিছু মনে করিনি। তিনি ইউটিউব দেখে শিখে নিজের মতো করে চেষ্টা শুরু করেন। পরে যখন গাছে ফল আসতে শুরু করল এবং নিয়মিত বিক্রি হতে লাগল, তখন আমরাও উৎসাহ পাই। এখন বাগানের কাজে পরিবারের সবাই কোনো না কোনোভাবে সহযোগিতা করি। পেঁপে পাড়া, পরিচর্যা করা, বিক্রির সময় ক্রেতাদের দেওয়া সব কাজেই আমরা থাকি। সবচেয়ে ভালো লাগে, বাবার শখের কাজটা এখন পরিবারের জন্য আয়ের একটা বড় উৎস হয়েছে। আমাদের এলাকায় অনেকেই ভাবেন লবণাক্ততার কারণে সব ধরনের ফসল করা সম্ভব নয়। কিন্তু বাবার বাগান দেখে এখন অনেকেই জানতে চান কীভাবে চাষ করছেন, কী ধরনের চারা লাগিয়েছেন, কত খরচ হয়েছে। আমরা চাই আরও মানুষ এভাবে চাষে আগ্রহী হোক।

প্রতিবেশী মো. মহিবুল্লাহ বলেন, কামালের বাগান হওয়ার আগে এভাবে বাড়ির আঙিনায় পেঁপে চাষ করে আয় করার বিষয়টি আমরা দেখিনি। প্রথমে কয়েকটা গাছ ছিল। এখন দেখি পুরো জায়গায় পেঁপে গাছ আর ফল। সবচেয়ে ভালো বিষয় তার বাগানের সামনে বসেই পেঁপে বিক্রি হচ্ছে। তার বাগান দেখে আশপাশের মানুষের মধ্যে আগ্রহ তৈরি হয়েছে। অনেকেই এখন নিজের জায়গায় পেঁপে চাষ করার কথা ভাবছেন। আমাদের মতো এলাকায় কৃষকরা যদি বাড়ির আশপাশের খালি জায়গা কাজে লাগাতে পারেন, তাহলে বাড়তি আয় করা সম্ভব।

ঢাকা থেকে মিশ্রীপাড়ায় ঘুরতে আসা এক পর্যটক বলেন, কুয়াকাটায় ঘুরতে এসে রাস্তার পাশে এমন পেঁপের বাগান দেখে গাড়ি থামিয়েছি। বাজারের তুলনায় এখানে সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে ফল কেনার অভিজ্ঞতাটা আলাদা। সাধারণত পর্যটন এলাকায় গিয়ে দোকান থেকেই ফল কিনি। কিন্তু এখানে গাছ থেকে পেড়ে দেওয়া টাটকা পেঁপে কেনার সুযোগ পাচ্ছি। পরিবারের জন্য কয়েকটি পেঁপে নিয়েছি। এ ধরনের স্থানীয় কৃষি উদ্যোগ পর্যটকদের জন্যও আকর্ষণীয় হতে পারে।

ট্যুর অপারেটস অ্যাসোসিয়েশন অব কুয়াকাটা (টোয়াক) এর জয়েন্ট সেক্রেটারি আবুল হোসেন রাজু বলেন, কুয়াকাটায় পর্যটকের সংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পর্যটকদের আগ্রহের জায়গাতেও পরিবর্তন আসছে। তারা শুধু সমুদ্রসৈকত দেখতে চান না, স্থানীয় মানুষের জীবনযাপন, সংস্কৃতি ও কৃষির সঙ্গেও পরিচিত হতে চান। কামাল হোসেনের পেঁপে বাগানের মতো উদ্যোগ পর্যটন ও স্থানীয় কৃষিকে একসঙ্গে যুক্ত করার সুযোগ তৈরি করছে। পর্যটকরা বাগান দেখছেন, কৃষকের কাছ থেকে সরাসরি পণ্য কিনছেন। এতে কৃষক ন্যায্য দাম পাচ্ছেন এবং পর্যটকরাও স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত তাজা পণ্য কেনার সুযোগ পাচ্ছেন।

কলাপাড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আরাফাত হোসেন বলেন, উপকূলীয় এলাকায় লবণাক্ততা কৃষির জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ। এ কারণে অনেক কৃষক নতুন ফসল চাষে ঝুঁকি নিতে চান না। তবে সঠিক জাত নির্বাচন, মাটি ও পানির ব্যবস্থাপনা, জৈব সার ব্যবহার এবং নিয়মিত পরিচর্যার মাধ্যমে অনেক ফসলই প্রতিকূল পরিবেশে উৎপাদন করা সম্ভব। কামাল হোসেনের পেঁপে বাগানটি একটি ভালো উদ্যোগ। বাড়ির আঙিনা বা পতিত জায়গাকে কাজে লাগিয়ে তিনি যে আয় করছেন, তা অন্য কৃষকদের জন্য অনুপ্রেরণার। তবে পেঁপে চাষ সম্প্রসারণের ক্ষেত্রে কৃষকদের অবশ্যই স্থানীয় পরিবেশ, মাটির লবণাক্ততা, সেচের পানির গুণগত মান এবং রোগবালাই ব্যবস্থাপনার বিষয়গুলো বিবেচনায় নিতে হবে।

নিউজটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

Comments are closed.

‍এই ক্যাটাগরির ‍আরো সংবাদ
Theme Customized By BreakingNews