1. faysal.rakib2020@gmail.com : admin :
  2. thelabpoint2022@gmail.com : Rifat Hossain : Rifat Hossain
ইলিশের রাজ্যেও ভরা মৌসুমে ইলিশের আকাল, প্রশ্নের মুখে মৎস্য বিভাগের নজরদারি - বাংলার কন্ঠস্বর ।। Banglar Konthosor
শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ১১:৫৪ পূর্বাহ্ন
নোটিশ :
বিভিন্ন জেলা,উপজেলা-থানা,পৈারসভা,কলেজ পর্যায় সংবাদকর্মী আবশ্যক ।

ইলিশের রাজ্যেও ভরা মৌসুমে ইলিশের আকাল, প্রশ্নের মুখে মৎস্য বিভাগের নজরদারি

  • প্রকাশিত : রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • ৮৭ 0 বার সংবাদি দেখেছে

ফয়সাল রাকিব, বরিশাল।।

একসময় ‘ইলিশের রাজ্য’ হিসেবে পরিচিত ছিল বরিশাল অঞ্চল। নদী-খাল ও মোহনায় জেলেদের জালে নিয়মিত ধরা পড়ত রুপালি ইলিশ। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সেই চিত্র অনেকটাই বদলে গেছে। ভরা মৌসুমেও কাঙ্ক্ষিত ইলিশ না পাওয়ায় হতাশ জেলেরা। একই সঙ্গে ধারাবাহিকভাবে উৎপাদন কমে যাওয়ায় মৎস্য বিভাগের কার্যক্রম ও মাঠপর্যায়ের নজরদারি নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

মৎস্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২২-২৩ অর্থবছরে বরিশাল বিভাগে ইলিশ উৎপাদন হয়েছিল ৩ লাখ ৭২ হাজার ৩৪৩ মেট্রিক টন। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে তা কমে দাঁড়ায় ৩ লাখ ৪৮ হাজার ৮৩৪ মেট্রিক টনে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে উৎপাদন আরও কমে হয় ৩ লাখ ৩৪ হাজার ৭৮৩ মেট্রিক টন। সর্বশেষ ২০২৫-২৬ অর্থবছরে উৎপাদন নেমে এসেছে ২ লাখ ৬৬ হাজার ৫৯৭ মেট্রিক টনে।

অর্থাৎ ২০২২-২৩ অর্থবছরের তুলনায় ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বরিশাল বিভাগে ইলিশ উৎপাদন কমেছে ১ লাখ ৫ হাজার ৭৪৬ মেট্রিক টন।

মাঠপর্যায়ের চিত্রও জেলেদের হতাশার কথা বলছে। বরিশালের বিভিন্ন নদী ও মোকামে ইলিশের সরবরাহ কমে যাওয়ায় অনেক জেলেকে দীর্ঘ সময় নদীতে জাল ফেলেও কাঙ্ক্ষিত মাছ না পেয়ে ফিরতে হচ্ছে।

জেলেদের অভিযোগ, নদীতে নিষিদ্ধ জালের ব্যবহার, অবৈধ ট্রলিং, ছোট ইলিশ ও জাটকা নিধন, নদীর নাব্যতা সংকট এবং দূষণের কারণে ইলিশের স্বাভাবিক বিচরণ ও প্রজনন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এসব বিষয়ে নিয়মিত অভিযান ও কার্যকর নজরদারি আরও জোরদারের দাবি জানিয়েছেন তারা।

এদিকে হিজলা এলাকায় নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ইলিশ ও পাঙাশের পোনা ধরার ঘটনায় চলতি বছর ৩০ জেলেকে জরিমানা করা হয়েছে।

তবে ইলিশ উৎপাদন কমে যাওয়ার একক কারণ হিসেবে মৎস্য বিভাগের অবহেলাকে দায়ী করার সুযোগ নেই বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। তাদের মতে, নদীর তলদেশে পলি জমে নাব্যতা কমে যাওয়া, মোহনা ভরাট, ডুবোচর, অবৈধ ট্রলিং, নিষিদ্ধ জালের ব্যবহার ও নদী দূষণসহ নানা কারণে ইলিশের চলাচল ও উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে।

জেলা মৎস্য কর্মকর্তা(ডিএফও) ড. হাদি উজ্জামান  বলেন, “ডুবোচর সৃষ্টি, সাগর ও নদীতে অবাধে ইলিশ শিকার এবং নদী দূষণসহ বিভিন্ন কারণে ইলিশের স্বাভাবিক বিচরণে সমস্যা হচ্ছে। তবে গত দুই সপ্তাহে ইলিশের আহরণ আগের তুলনায় বেড়েছে। আগস্ট মাসের তুলনায় বর্তমানে আহরণ প্রায় চার থেকে পাঁচ গুণ বেড়েছে।”

মৎস্য বিভাগের কর্মকর্তারা আরও জানান, বরিশাল বিভাগের সঙ্গে বঙ্গোপসাগরের সংযোগকারী নদীগুলোর নাব্যতা ফিরিয়ে আনতে ড্রেজিংসহ দীর্ঘমেয়াদি পদক্ষেপ প্রয়োজন।

এদিকে নিষেধাজ্ঞার সময় নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন কয়েকজন জেলে। মেহেন্দিগঞ্জের এক জেলে জানান, দীর্ঘ সময় জাল ফেলেও অনেক সময় মাত্র একটি ইলিশ পাওয়া যাচ্ছে। এ কারণে নিষেধাজ্ঞার সময় কিছুটা পেছানোর দাবি উঠেছে। বিষয়টি জেলেদের দাবি ও নদীর বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে আলোচনা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে মৎস্য বিভাগ।

বিশেষজ্ঞ ও সংশ্লিষ্টদের মতে, শুধু অভিযান পরিচালনা কিংবা জেলেদের সহায়তা দিলেই ইলিশ উৎপাদন বাড়ানো সম্ভব নয়। নদীর নাব্যতা রক্ষা, ইলিশের বিচরণক্ষেত্র সংরক্ষণ, নিষিদ্ধ জাল ও অবৈধ ট্রলিং বন্ধ, জাটকা ও মা-ইলিশ সংরক্ষণ এবং মাঠপর্যায়ে নিয়মিত নজরদারি—সবগুলো বিষয় সমন্বিতভাবে কার্যকর করা প্রয়োজন।

বরিশালে ইলিশ উৎপাদনের ধারাবাহিক পতন তাই শুধু জেলেদের জীবিকা নয়, গোটা মৎস্য অর্থনীতির জন্যও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। একই সঙ্গে সাম্প্রতিক সময়ে আহরণ বাড়ার তথ্যও সামনে এসেছে। এখন মূল প্রশ্ন—ইলিশের প্রাকৃতিক বিচরণ ও প্রজননক্ষেত্র রক্ষায় সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর সমন্বিত কার্যক্রম কতটা কার্যকর হচ্ছে এবং উৎপাদন বাড়াতে দীর্ঘমেয়াদে কী পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

নিউজটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

Comments are closed.

‍এই ক্যাটাগরির ‍আরো সংবাদ
Theme Customized By BreakingNews