ঢাকাWednesday , 25 May 2022
  1. অপরাধ
  2. অর্থনীতি
  3. আইন ও আদালত
  4. আন্তর্জাতিক
  5. এক্সক্লুসিভ
  6. করোনা আপডেট
  7. খুলনা
  8. খেলাধুলা
  9. গণমাধ্যম
  10. চট্টগ্রাম
  11. জাতীয়
  12. ঢাকা
  13. তথ্য-প্রযুক্তি
  14. প্রচ্ছদ
  15. প্রবাসে বাংলাদেশ

কাগজের বাক্স তৈরি করে স্বপ্নার ভাগ্যবদল

Mohammed Amin
May 25, 2022 2:36 pm
Link Copied!

নিজস্ব প্রতিবেদক // নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ উপজেলার সুয়াইর ইউনিয়নের ডিঙ্গাপুতা হাওরের পাশে ভরাম গ্রামের স্বপ্না আক্তার (৩৪)। নিজের সামান্য একফসলি জমি ও অন্যের কিছু জমি বর্গা চাষ করে কোনোরকমে চলছিলেন স্বামী ও দুই সন্তানকে নিয়ে।

স্বপ্না ও তার স্বামী ভাবতে থাকেন কীভাবে দুই সন্তান নিয়ে তাদের সংসার চলবে। এমন সময় স্বপ্নার সাথে পরিচয় হয় এলজিইডির আওতায় বাস্তবায়নাধীন হাওরাঞ্চলের অবকাঠামো ও জীবনমান উন্নয়ন প্রকল্প (হিলিপ)-এর এক মাঠকর্মীর সাথে।

২০১৭ সালের নভেম্বর মাসে হিলিপ-এর উপপ্রকল্প ‘জলবায়ু অভিযোজন ও জীবনমান সুরক্ষা (কেলিপ)-এর কার্যক্রমে স্বপ্না আক্তার প্রকল্পের ‘প্যাকেজিং ও ক্যান্ডেল মেকিং প্রশিক্ষণ’ বিষয়ে প্রশিক্ষণ নেন। সফলভাবে প্রশিক্ষণ শেষে স্বপ্না আক্তার প্রকল্প কর্মকর্তাদের পরামর্শে একজন প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত সদস্যা নিয়ে মাত্র ১,৮০০ টাকা দিয়ে মিষ্টির প্যাকেট তৈরির কাজ শুরু করেন।

স্বপ্না আক্তার প্রথম ধাপে ৮০০ পিস মিষ্টির প্যাকেট তৈরি করে স্থানীয় বাজারে মিষ্টির দোকানে প্রতিপিস ৮ টাকা দরে মোট ৬ হাজার ৪০০ টাকায় বিক্রি করে মুনাফা পান দুই হাজার ৫০০ টাকা। এতে স্বপ্নার প্যাকেট তৈরির কাজে আগ্রহ আরও বেড়ে যায়। প্রথম পুঁজির লভ্যাংশ দিয়ে আরও বেশি প্যাকেট তৈরির কাজ শুরু করেন।

পরবর্তীতে হিলিপ প্রকল্পের কর্মকর্তা এবং তার স্বামীর সহযোগিতায় আদর্শনগর বাজারের ৬-৭টি দোকানসহ পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন বাজারের হোটেল ও মিষ্টির দোকানে প্যাকেট বিক্রির জন্য লিংকেজ স্থাপন করা হয়; যার মাধ্যমে তার উৎপাদিত পণ্যের বিপণন সহজ হয় এবং সঠিক মূল্য পাওয়া যায়। স্বপ্না আক্তার বর্তমানে প্রতিদিন গড়ে ৩০০-৪০০ পিস প্যাকেট তৈরি করেন।

আনুষঙ্গিক খরচ বাদ দিয়ে মাসিক ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা মুনাফা হয়। স্বপ্না আক্তারের কর্মকাণ্ড এবং জীবনযাত্রার উন্নতি দেখে প্রতিবেশী কয়েকজন দরিদ্র মহিলা মিষ্টির প্যাকেট তৈরির কাজ শুরু করেন এবং স্বপ্না আক্তার তাদের কাজ শিখিয়ে ও পরামর্শ দেন।

স্বপ্না আক্তার প্যাকেট তৈরির ব্যবসা থেকে সঞ্চিত টাকা দিয়ে ইতোমধ্যে কিছু জমি বন্ধক নিয়েছেন, মোবাইল ফোন কিনেছেন, থাকার ঘর সংস্কার করেছেন, স্বামীর নেয়া ঋণের কিস্তি পরিশোধ এবং সংসারের যাবতীয় খরচসহ ছেলেমেয়েদের লেখাপড়ার খরচ বহন করছেন। আত্মবিশ্বাসী এই সফল নারী উদ্যোক্তা বলেন, ‘ক্ষুদ্র পরিসরে ব্যবসা শুরু করতে বেশি বিনিয়োগের প্রয়োজন নেই। স্বল্প পুঁজি, সাহস আর করিতকর্মা হলে অতি অল্পেও সফলতা আসে।’ তিনি তার জীবনসংগ্রামে হিলিপ প্রকল্পকে সহযোগী বন্ধু মনে করেন।

তিনি মনে করেন, ইচ্ছাশক্তি আর ক্ষুদ্র জ্ঞান প্রয়োগের মাধ্যমে এ ধরনের প্রকল্প সহযোগিতায় অসচ্ছল ও অসহায় নারীরা ঘরে বসেই স্বাবলম্বী হতে পারে। আজকের এই সফল জীবিকায়নের জন্য তিনি আন্তরিকভাবে হিলিপ প্রকল্পের প্রতি কৃতজ্ঞ। ভরাম গ্রামের স্বপ্না স্বল্প বিনিয়োগে সফল নারী উদ্যোক্তার এক সফল দৃষ্টান্ত।

তিনি ভরাম গ্রামের অন্যান্য পরনির্ভর নারীদের মধ্যে কিছু করার অনুপ্রেরণা জাগিয়ে তুলেছেন। আন্তর্জাতিক নারী দিবস ২০২১-এ স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর কর্তৃক স্বীয় কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ স্বপ্না আক্তার শ্রেষ্ঠ আত্মনির্ভরশীল নারী নির্বাচিত হন এবং শ্রেষ্ঠ আত্মনির্ভরশীল নারী সম্মাননা-২০২১ অর্জন করেন। স্বপ্না আক্তারের মেয়ে সপ্তম শ্রেণিতে এবং ছেলে তৃতীয় শ্রেণিতে পড়ছে করছে।

তার এখন পরিকল্পনা ছেলেমেয়েদের লেখাপড়া শেখানোর মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত করা ও নিজের তৈরিকৃত পণ্যের বাজার বৃদ্ধি করা। বর্তমানে বেশ কয়েকজন লোকের কর্মসংস্থানসহ তার অর্থনৈতিক অবস্থার উত্তরোত্তর উন্নতি হচ্ছে। এলজিইডি কর্তৃক বাস্তবায়িত হিলিপ প্রকল্প হতে এমন কাজের সুযোগ পেয়ে স্বপ্না আক্তার খুবই আনন্দিত।

উল্লেখ্য, এ প্রকল্পের আওতায় এ পর্যন্ত মোট ৪২ ব্যাচে ৮৪০ জন সুবিধাভোগীকে ‘প্যাকেজিং ও ক্যান্ডেল মেকিং’-এর ওপর সাত দিনের হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়েছে। তন্মধ্যে ৭৫৭ জনই নারী। উক্ত প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণকারীদের প্রায় ৬০ শতাংশই আত্মকর্মসংস্থানে নিয়োজিত।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।