ঢাকাThursday , 11 February 2016
  1. অপরাধ
  2. অর্থনীতি
  3. আইন ও আদালত
  4. আন্তর্জাতিক
  5. এক্সক্লুসিভ
  6. করোনা আপডেট
  7. খুলনা
  8. খেলাধুলা
  9. গণমাধ্যম
  10. চট্টগ্রাম
  11. জাতীয়
  12. ঢাকা
  13. তথ্য-প্রযুক্তি
  14. প্রচ্ছদ
  15. প্রবাসে বাংলাদেশ

‘দ্বি-কক্ষের’ ছাত্রদলে অস্বস্তিতে নেতারা

Link Copied!

ঢাকা : ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটিকে এখন দ্বি-কক্ষের কমিটি বলে অভিহিত করছেন সংগঠনটির নেতাকর্মীরা। ২০১৪ সালের ১৪ অক্টোবর ছাত্রদলের ১৫৩ সদস্যবিশিষ্ট আংশিক কমিটি ঘোষণা করা হয়। তখন জানানো হয়েছিল পূর্ণাঙ্গ কমিটির আকার হবে ২০১ সদস্যের। কিন্তু ওই কমিটিতে আরও ৫৮৩ জনকে অন্তর্ভুক্ত করে গত ৬ ফেব্রুয়ারি ৭৩৬ সদস্যবিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণা করা হয়।

বিশাল আকারের এ কমিটি ঘোষণার মধ্য দিয়ে ছাত্রদলের অতীতের সব রেকর্ড ও রীতিনীতি ভঙ্গ করা হয়েছে। অতীতে বহুবার ছাত্রদলের গঠনতন্ত্র লঙ্ঘিত হলেও এবার গঠনতন্ত্রের তোয়াক্কাই করা হয়নি। এছাড়া পদ বণ্টনে চরম অসঙ্গতি ও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, পূর্ণাঙ্গ কমিটি ১৫১ সদস্যবিশিষ্ট হওয়ার কথা।

অতীতের ধারাবাহিকতায় এবারের কমিটিতেও অছাত্র, বিবাহিত, সন্তানের বাবা ও ব্যবসায়ীদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ডাকাতি মামলার আসামিকেও পদায়ন করার অভিযোগ উঠেছে। সদস্যপদে হাতেগোনা কয়েকজন নিয়মিত ছাত্রকে অন্তর্ভুক্ত করা হলেও বাকিদের কারোরই ছাত্রত্বই নেই। কমিটিতে বিদ্রোহ প্রতিরোধে সকল পক্ষকে সন্তুষ্ট করতে গিয়ে এ ধরনের অস্বাভাবিক কমিটি দেয়া হয় বলে জানা গেছে।

এর আগে সোহেল-পিন্টু (হাবিব-উন-নবী সোহেল ও নাসির উদ্দিন আহমেদ পিন্টু) কমিটি আকারে ছিল ছাত্রদলের সর্ববৃহৎ কমিটি। ওই কমিটি ছিল ৪২০ সদস্যবিশিষ্ট। এরপর চিঠি দেয়ার মাধ্যমেও অনেককে ওই কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। দ্বিতীয় সর্ববৃহৎ ছিল জুয়েল-হাবিবের (আবুদল কাদের ভুইয়া জুয়েল ও হাবিবুর রশিদ হাবিব) নেতৃত্বাধীন কমিটি। ওই কমিটির সদস্য সংখ্যা ছিল ২৯১।

এদিকে ছাত্রদলের আংশিক কেন্দ্রীয় কমিটিতে (১৫৩ সদস্যবিশিষ্ট) যারা নেতা ছিলেন তারা এখন নিজেদেরকে সংগঠনটির ‘উচ্চ কক্ষের নেতা’ হিসেবে পরিচয় দিচ্ছেন। ৭৩৬ সদস্যবিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ কমিটির নেতা হিসেবে নিজেদের পরিচয় দিতে সংকোচবোধ করছেন তারা। একইসঙ্গে তারা পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে নতুন করে যাদেরকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে তাদেরকে ছাত্রদলের ‘নিম্ন কক্ষের নেতা’ হিসেবে আখ্যায়িত করছেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ছাত্রদলের বর্তমান (প্রথম ঘোষিত) কমিটির তিনজন সহ-সভাপতি ও চারজন যুগ্ম-সম্পাদক বাংলামেইলকে বলেন, ছাত্রদল এখন দ্বি-কক্ষবিশিষ্ট সংগঠনে পরিণত হয়েছে। সবাইকে মূল্যায়নের নামে বিশাল আকারের কমিটি দিয়ে ছাত্রদলকে পরিণত করা হয়েছে একটি ‘হাস্যকর’ সংগঠনে। অথচ ছাত্রদলের গৌরবময় ঐতিহ্য রয়েছে। পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে টাকার বিনিময়ে ওয়ার্ডের নেতাকে যেমন পদ দেয়া হয়েছে, তেমনি ইউনিয়নের নেতাকেও পদায়ন করা হয়েছে। এজন্য প্রেসিডেন্ট-সেক্রেটারিকে ইতিহাসের কাঠগড়ায় দাঁড়াতেই হবে।

তাদের দাবি, পদ বণ্টনে চরম অনিয়ম হয়েছে। ওয়ার্ড, ইউনিয়নের নেতাদেরকেও কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। কমিটিতে ঢাকার বাইরে থেকে পদায়নে হয়েছে চরম অনিয়ম। টাকার বিনিময়ে এদের অধিকাংশকে কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করায় আগামীতে আন্দোলন-সংগ্রামে তাদেরকে পাওয়া যাবে না।

চরম অসঙ্গতি : 
পদ বণ্টনে চরম অসঙ্গতি ও অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। জানা যায়, রাজধানীর দুটি ওয়ার্ডের সভাপতিকে কমিটিতে সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক করা হয়েছে। অন্যদিকে, রবিশাল বিভাগের একটি জেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ককে করা হয়েছে কেন্দ্রীয় সদস্য। অভিযোগ উঠেছে, ময়মনসিংহ বিভাগের এক জেলা বিএনপির সহ-ছাত্রবিষয়ক সম্পাদককে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক করা হয়েছে। তবে তিনি সংশ্লিষ্ট জেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক বলেও জানা যায়।

 

চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণ থানার নারায়ণপুর ইউনিয়নের সাইফুল ইসলাম। অতীতে ছাত্রদলের কোথাও কোনো কমিটির নেতা ছিলেন না। বেশ কিছুদিন আগে একবার ইউনিয়ন কমিটিতে ঢুকতে বিএনপির এক নেতার কাছে তদবির করেন। সেখানেও নেতা হতে পারেননি। পরে ঢাকায় এসে সেন্ট্রাল ল’ কলেজে পড়াশোনা করেন। তিনি এখন সরাসরি আইন পেশায় যুক্ত। সৌভাগ্যের বিষয়, এবার তিনি ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য। ওই থানায় ইমরান নাজিরেরও একই সৌভাগ্য। অতীতে কোথাও কমিটিতে না থাকলেও তদবির করে কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য হয়েছেন। পাশের কচুয়া থানার আরিফুর রহমান, নাসির উদ্দিন ও অন্য একজন পেয়েছেন কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সম্পাদকের পদ।

শুধু এরাই নয়, কমিটিতে এ ধরনের আরো অনেক অসঙ্গতি রয়েছে। এসব ঘটনায় বিএনপির ভবিষ্যৎ আন্দোলন সফলে ছাত্রদলকে গতিশীল করতে সংগঠনটির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের আন্তরিকতা নিয়ে অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন।

সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক : 
ছাত্রদল সভাপতি রাজীব আহসানের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) ভর্তির সেশন ১৯৯৫-৯৬। অন্যদিকে, সাধারণ সম্পাদক আকরামুল হাসানের ঢাবি ভর্তি সেশন ১৯৯৭-৯৮।

সহ-সভাপতি : 
ছাত্রদলের খসড়া গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, ১২ জন সহ-সভাপতি থাকার কথা থাকলেও নতুন-পুরাতন মিলিয়ে ৬৯ জনকে পদায়ন করা হয়েছে। তাদের সবাই অছাত্র। কমপক্ষে দশ বছর আগে তাদের ছাত্রত্ব শেষ হয়ে গেছে। ব্যবসায়ীরাও রয়েছেন। অধিকাংশই বিবাহিত। অনেকে আবার সন্তানের বাবাও। ন্যূনতম সাতজন নেতা রয়েছেন যারা বয়সে ছাত্রদল সভাপতির চেয়েও বড়। দুইজন রয়েছেন যারা পাঁচ বছরের বড়।

যুগ্ম-সম্পাদক : 
দুইজন যুগ্ম-সম্পাদকের স্থলে কমিটিতে রাখা হয়েছে ৬৬ জনকে। এদেরও কমপক্ষে দশ বছর আগে শেষ হয়ে গেছে ছাত্রত্ব। ব্যবসায়ীর পাশাপাশি রয়েছেন উপজেলা (বর্তমান) ভাইস চেয়ারম্যানও। বিবাহিতরা যেমন রয়েছেন, তেমনি রয়েছেন সন্তানের বাবারাও। ন্যূনতম তিনজন নেতা রয়েছেন যারা বয়সে ছাত্রদল সভাপতির চেয়েও বড়। এদের একজন সাত বছরের বড়।

সহ-সাধারণ সম্পাদক : 
সহ-সাধারণ সম্পাদকের পদ পাঁচটি, সেখানে ৬৪ জনকে পদায়ন করা হয়েছে। যার মধ্যে অনেকেই বিবাহিত। নিয়মিত ছাত্রত্ব নেই কারোরই। ন্যূনতম একজন রয়েছেন যিনি বয়সে রাজীব আহসানের চেয়ে পাঁচ বছরের বড়।

 

সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক : 
সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক থাকার কথা ৭ জন, রয়েছেন ১২৪ জন। কারোরই নিয়মিত ছাত্রত্ব নেই। ব্যবসায়ীর পাশাপাশি এ পদে সন্তানের বাবাও রয়েছেন। এখানে রাজধানীর যাত্রাবাড়ীর একটি ওয়ার্ড শাখা ছাত্রদলের সভাপতিকে পদায়ন করা হয়েছে। রয়েছেন অন্য আরেকটি ওয়ার্ডের বর্তমান সভাপতিও। ছাত্রদল সভাপতির চেয়ে বয়সে ৩-৪ বছরের বড়, ন্যূনতম এমন একজনকে এখানে পদায়ন করা হয়েছে। ডাকাতি মামলার একজন আসামিকেও এ পদে রাখার অভিযোগ উঠেছে। গত বছরের শেষের দিকে গাজীপুরে ডাকাতি করতে গিয়ে অন্যদের সঙ্গে মাইক্রোবাসসহ গ্রেপ্তার হন তিনি। আজ অবধি তিনি গাজীপুর জেলা কারাগারে বন্দি রয়েছেন বলে জানা গেছে।

এদিকে কমিটিতে একজন সম্পাদক ও দুইজন সহ-সম্পাদক রয়েছেন, যারা বিসিএস পরীক্ষার প্রশ্নপত্র জালিয়াতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন বলে অনেকেই অভিযোগ করেছেন। ভুয়া প্রশ্নপত্র সাপ্লাই দিতে গিয়ে এদের একজন (সম্পাদক) ২০০৯ সালের আগস্ট মাসে পুলিশের হাতে আটক হন।

এদিকে, কমিটি ঘোষণার ২৪ ঘণ্টা পার না হতেই সংগঠনটির সহ-আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক সাইফুল ইসলাম মেরাজ এবং সদস্য মাসুদুর রহমান মাসুদের পদ বাতিল করে কেন্দ্রীয় ছাত্রদল।

জানা গেছে, তারেক রহমানের রেফারেন্স দিয়ে তার কথিত উপদেষ্টা হিসেবে পরিচিত ব্যারিস্টার এম সায়েম এবং হুমায়ুন কবির ছাত্রদলের বিশাল বহরে ‘নিষ্ক্রিয়’ এ দুজনকে দিয়েছিলেন। তারেক বিষয়টি জানেন না বলে পরে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তারেকের নাম ব্যবহার করে দু’জনকে কমিটিতে দেয়ার বিষয়টি জানাজানি হলে তড়িঘড়ি করে তাদের বহিষ্কার করা হয়। তবে বহিষ্কারের কোনো কারণ আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি।

 

বিশাল আকারের কমিটি প্রসঙ্গে জানতে চাইলে ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আকরামুল হাসান বাংলামেইলকে বলেন, ‘বিগত সরকারবিরোধী আন্দোলনে ঢাকাসহ সারা দেশে সবচেয়ে বেশি ভূমিকা পালন করেছে ছাত্রদল। সংগঠনটির অসংখ্য নেতাকর্মী গুম-খুন, মামলাসহ নানাভাবে হয়রানির শিকার হয়েছেন। তাদের একটি পদ ছাড়া এ মুহূর্তে আমাদের দেয়ার কিছু নেই। তাছাড়া আমরা সবাইকে নিয়েই কাজ করতে চাই।’

কমিটির নানা অসঙ্গতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘অনেক যাচাই-বাছাইয়ের পর কমিটি দেয়া হয়েছে। আশা করছি, কমিটিতে তেমন কোনো অসঙ্গতি নেই।’

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।