ঢাকাSunday , 10 April 2016
  1. অপরাধ
  2. অর্থনীতি
  3. আইন ও আদালত
  4. আন্তর্জাতিক
  5. এক্সক্লুসিভ
  6. করোনা আপডেট
  7. খুলনা
  8. খেলাধুলা
  9. গণমাধ্যম
  10. চট্টগ্রাম
  11. জাতীয়
  12. ঢাকা
  13. তথ্য-প্রযুক্তি
  14. প্রচ্ছদ
  15. প্রবাসে বাংলাদেশ

নতুন নেতৃত্বে নতুন নামে সক্রিয় আনসারুল্লাহ

Link Copied!

বাংলার কন্ঠস্বরঃ

আল-কায়েদার বাংলাদেশ শাখা দাবি করে ব্লগার হত্যার দায় স্বীকারকারী ‘আনসার আল ইসলাম’ হচ্ছে আনসারুল্লাহ বাংলা টিমেরই নতুন নাম। নতুন নেতৃত্বে পুনর্গঠিত হয়ে এই জঙ্গি সংগঠন আবার সক্রিয় হয়েছে।

 

শুধু ব্লগার হত্যা নয়, তারা চাকরিচ্যুত ও পলাতক একজন সেনা কর্মকর্তার নেতৃত্বে নাশকতার পরিকল্পনাও করছে। সম্প্রতি ঢাকায় সংগঠনটির তিনটি আস্তানা থেকে উদ্ধার করা বিপুল বিস্ফোরক ও বিভিন্ন ধরনের বোমা এবং তাদের কাগজপত্র থেকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এমন আলামত পেয়েছে। এর আগে কখনো এই গোষ্ঠীর কাছে বোমা-বিস্ফোরক পাওয়া যায়নি।

২০০৭ সালে জন্ম নেওয়া আনসারুল্লাহ বাংলা টিম এত দিন এ দেশে আল-কায়েদার মতাদর্শ অনুসারীদের প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করছিল। শুরুতে এই গোষ্ঠীটি পাঠচক্র ও ইন্টারনেটে প্রচারে যুক্ত ছিল। ২০১৩ সাল থেকে সংগঠনটি ব্লগার হত্যায় নামে। ওই বছরের ১৫ ফেব্রুয়ারি ঢাকার পল্লবীতে ব্লগার রাজীব হায়দারকে হত্যার মধ্য দিয়ে এ গোষ্ঠীটি প্রথম আলোচনায় আসে। পরে তারা বিভিন্ন গ্রুপে ভাগ হয়ে (স্লিপার সেল) সক্রিয় হয়। এবং এ পর্যন্ত নয়জন ব্লগার, প্রকাশক ও ছাত্র-শিক্ষককে হত্যার দায় স্বীকার করেছে। গত বছরের ২৫ মে আনসারুল্লাহকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে সরকার।

সংগঠনটির ওপর নজরদারি এবং এর সদস্যদের জিজ্ঞাসাবাদ ও তদন্তে যুক্ত একাধিক কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, আনসারুল্লাহ শুরু থেকেই আল-কায়েদার নীতি-কৌশলকে অনুসরণ করে আসছে। শুরুতে আল-কায়েদা আরব উপদ্বীপের প্রয়াত নেতা ইয়েমেনের আনোয়ার আওলাকিকে আধ্যাত্মিক নেতা মানত। গত বছর আল-কায়েদা ইন ইন্ডিয়ান সাব-কনটিনেন্ট বা একিউআইএসের অধিভুক্ত হওয়ার পর থেকে আধ্যাত্মিক নেতা মানছে আয়মান-আল জাওয়াহিরিকে।

শুরুতে সংগঠনটির প্রধান ও তাত্ত্বিক নেতা ছিলেন মুফতি জসীমুদ্দিন রাহমানী। ২০১৩ সালে ৪০ সহযোগীসহ বরগুনায় গ্রেপ্তার হন তিনি।

এরপর আসনারুল্লাহর পরিচালনায় যুক্ত হন এজাজ হোসেন ওরফে সাজ্জাদ ওরফে কারগিল। তিনি আগে জামাআতুল মুসলেমিনের নেতা ছিলেন। তাঁর বাসা ঢাকার কলাবাগানে। দেশে জঙ্গিবিরোধী ধরপাকড়ের পর তিনি পাকিস্তান চলে যান। পাকিস্তানে থেকে আনসারুল্লাহকে ইন্টারনেটভিত্তিক নানা সহযোগিতা দেন। তিনি একই সঙ্গে আল-কায়েদার একিউআইএসে যুক্ত হন।

বাংলাদেশের গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের কারও কারও ধারণা, এজাজের মাধ্যমে একিউআইএসের সঙ্গে আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের যোগাযোগ গড়ে ওঠে। পরে আনসারুল্লাহ আল-কায়েদার শাখা হিসেবে স্বীকৃতি পায়।

পাকিস্তানের ইংরেজি দৈনিক ডন-এর খবর অনুযায়ী, গত বছরের ৯ জানুয়ারি করাচিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে এক বন্দুকযুদ্ধে এজাজসহ আল-কায়েদার চার জঙ্গি নিহত হয়। ওই খবরে এজাজ ওরফে সাজ্জাদকে একিউআইএসের কমান্ডার বলে উল্লেখ করা হয়।

 

* ‘আনসার আল ইসলাম’ নামে পেয়েছে আল-কায়েদায় স্বীকৃতি * সামরিক শাখার প্রধান পলাতক সাবেক সেনা কর্মকর্তা

পরে বাংলাদেশের জঙ্গিবাদবিরোধী কার্যক্রমে যুক্ত গোয়েন্দারা এজাজ নিহত হওয়ার কথা নিশ্চিত হন। এজাজের মৃত্যুর পরে আনসারুল্লাহ নতুন নেতৃত্বে পুনর্গঠিত হয়। জসীমুদ্দিন রাহমানীর স্থলে তাত্ত্বিক নেতা হন পুরান ঢাকার ফরিদাবাদের এক মাদ্রাসা শিক্ষক। আর সামরিক শাখার নেতৃত্বে আসেন মেজর (বহিষ্কৃত) সৈয়দ মো. জিয়াউল হক। তিনি ২০১১ সালের ডিসেম্বরে সেনা অভ্যুত্থানে প্ররোচনা চালিয়ে ব্যর্থ হন। এরপর থেকে পলাতক। তাঁকে সেনাবাহিনী থেকে চাকরিচ্যুত করা হয়।

ওয়াকিবহাল একটি সূত্র জানায়, মেজর জিয়া আগে থেকেই উগ্রগোষ্ঠীর সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। মুফতি জসীমুদ্দিন রাহমানী গ্রেপ্তার হওয়ার পর জিজ্ঞাসাবাদে বলেছেন, ধরা পড়ার আগে তিনি একাধিকবার ঢাকা ও চট্টগ্রামে মেজর জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তাদের ধারণা, জিয়া এই জঙ্গিগোষ্ঠীর সামরিক শাখার দায়িত্ব নেওয়ার পর ২০১৫ সালে সবচেয়ে বেশি ব্লগার হত্যা ও হামলার ঘটনা ঘটেছে। এসব হামলা এত বেশি নিখুঁতভাবে হয় যে ঘাতকদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা কঠিন হয়ে পড়েছে। কর্মকর্তাদের ধারণা, নতুন নেতৃত্ব আসার পর আনসারুল্লাহ ‘আনসার আল ইসলাম’ নাম ধারণ করেছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার ও কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিটের প্রধান মনিরুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, আনসারুল্লাহ নতুন নেতৃত্বে এখন আনসার আল ইসলাম নামে তৎপরতা চালানোর বিষয়টি তাঁরা অবগত আছেন। তিনি বলেন, ‘এটা নতুন বোতলে পুরোনো মদ’।

গত বছর গ্রেপ্তার হওয়া আনসারুল্লাহর সদস্যদের জিজ্ঞাসাবাদ ও তদন্তে যুক্ত ছিলেন এমন একাধিক কর্মকর্তা গত বছরের জুনে এই প্রতিবেদককে বলেছিলেন, তখন আনসারুল্লাহর লক্ষ্য ছিল প্রতি মাসে অন্তত একজন ‘ইসলামবিরোধী’ (তাদের বিবেচনায়) ব্যক্তিকে হত্যা করা। ২০১৬ সালে এসে সংগঠনটি ব্লগার হত্যার পাশাপাশি বড় নাশকতার পরিকল্পনাও শুরু করে, যা জঙ্গি দমন-সংক্রান্ত কর্মকর্তারা টের পান গত ফেব্রুয়ারিতে। ১৯ ফেব্রুয়ারি রাজধান

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।