ঢাকাMonday , 11 January 2016
  1. অপরাধ
  2. অর্থনীতি
  3. আইন ও আদালত
  4. আন্তর্জাতিক
  5. এক্সক্লুসিভ
  6. করোনা আপডেট
  7. খুলনা
  8. খেলাধুলা
  9. গণমাধ্যম
  10. চট্টগ্রাম
  11. জাতীয়
  12. ঢাকা
  13. তথ্য-প্রযুক্তি
  14. প্রচ্ছদ
  15. প্রবাসে বাংলাদেশ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

পেটের টান দূর হয়েছে, এখন প্রেস্টিজ নিয়ে টানাটানি : শেখ হাসিনা

Link Copied!

বাংলার কন্ঠস্বরঃ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আমরা সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন ১২৩ ভাগ বৃদ্ধি করেছি। প্রত্যেকে দ্বিগুণের কাছাকাছি বেতন পেয়েছে। তারপরও দেখি অসন্তোষ। পেটে যখন খাবারের টান থাকে, তখন পেটের খাবারের কথা চিন্তা থাকে। সেই পেটের খাবারের চিন্তা আমরা দূর করে দিয়েছি বলে, এখন প্রেস্টিজ নিয়ে টানাটানি- এটাই বাঙালির স্বভাব।

আজ সোমবার বিকেলে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আওয়ামী লীগ আয়োজিত এক সমাবেশে তিনি এ কথা বলেন। ১০ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রতাবর্তন দিবস উপলক্ষে এই সমাবেশের আয়োজন। তাবলিগ জামাতের ইজতেমা থাকায় সমাবেশ একদিন পিছিয়ে আজ করা হয়।

বেলা আড়াইটায় জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন এবং চার ধর্মীয়গ্রন্থ পাঠের মধ্য দিয়ে সভার কার্যক্রম শুরু হয়। দুপুর ৩টা ২০ মিনিটের দিকে সভার সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মঞ্চে ‍উপস্থিত হন।

শেখ হাসিনা বলেন, ১০ জানুয়ারি বাঙালির ইতিহাসে একটি ঐতিহাসিক দিন। সারা বাংলার মানুষের জন্য তিনি আপন মাটিতে ফিরে এসেছিলেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশকে দারিদ্র্যমুক্ত করে সোনার বাংলা গড়াই ছিল বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন। বাংলাদেশ যখন অর্থনৈতিক মুক্তির পথে এগিয়ে যাচ্ছিল, সেই সময় চরম আঘাত আনা হয়। ’৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুকে স্বপরিবারে হত্যা করা হয়।

শেখ হাসিনা বলেন, ৭ মার্চ বঙ্গবন্ধু মহান মুক্তিযুদ্ধে ঝাপিয়ে পড়ার নির্দেশনা দিয়েছিলেন। সেই নির্দেশেই সাধারণ মানুষ যুদ্ধে ঝাপিয়ে পড়েন। ২৫ মার্চ রাতে নির্বিচারে গণহত্যা শুরু পাক হানাদাররা। তখন ২৬ মার্চ বঙ্গবন্ধুকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারের আগে ইপিআরের ওয়ারলেসের মাধ্যমে সারা দেশে স্বাধীনতার ঘোষণা দেন। ইয়াহিয়া তার (বঙ্গবন্ধু) বিচার করে ফাঁসির আদেশ দিয়ে দেয়। কিন্তু বৈশ্বিক চাপে তা পারেনি। দেশের মানুষ যুদ্ধ করে দেশকে মুক্ত করে। স্বাধীনতা অর্জনের পর বঙ্গবন্ধুকে মুক্তি দেয় পাকিস্তান।

সমাবেশে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে উদ্দেশ্য করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ওনার দিম হে পেয়ারে পাকিস্তান। তাই তো তিনি সেই সুরেই কথা বলেন। ওনার কত বড় দুঃসাহস, তিনি মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের নিয়ে বিতর্ক করেন!

শেখ হাসিনা বলেন, ওনার মনে শান্তি নেই। দেশ যখন উন্নয়নের দিকে তখন তিনি শান্তিতে নেই। তাই তো তিনি মানুষ মারলেন।

শেখ হাসিনা বলেন, এই দেশে সব ধর্মের মানুষ, যার যার ধর্ম স্বাধীনভাবে পালন করবে। বাংলাদেশ আজ উন্নয়নের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু একটি শ্রেণি (বিএনপি), একটি দলের শান্তি আসেনি।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমরা সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন ১২৩ ভাগ বৃদ্ধি করেছি। পৃথিবীর ইতিহাসে কোনো দেশ কখনো ১২৩ ভাগ বেতন বাড়াতে পারে নাই। কিন্তু আওয়ামী লীগ সরকার ১২৩ ভাগ বেতন বৃদ্ধি করেছে। প্রত্যেকে দ্বিগুণের কাছাকাছি বেতন পেয়েছে। এমন দৃষ্টান্ত আর নেই। তারপরও দেখি কেউ কেউ অসন্তোষ। তাদের অসন্তোষ যায় না। কেন অসন্তোষ এটা আমার কাছে বোধগম্য না। পেটে যখন খাবারের টান থাকে, তখন পেটের খাবারের কথা চিন্তা থাকে। সেই পেটের খাবারের চিন্তা আমরা দূর করে দিয়েছি বলে, এখন প্রেস্টিজ নিয়ে টানাটানি- এটাই বাঙালির স্বভাব।’

প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, ‘কোনো কিছুতেই বোধ হয় সুখী করা যায় না, এটাই বোধ হয় আমাদের দুর্ভাগ্য। যতই দেই, কিছু কিছু লোক কেন জানি সুখী হয় না। কেন হয় না সেটাই হচ্ছে আমাদের চিন্তার বিষয়।’

শেখ হাসিনা বলেন, জিয়াউর রহমান অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল করেছিলেন। উচ্চ আদালত সেই বিষয়ে রায় দিয়েছেন। ফলে উচ্চ আদালতের রায় মানলে জিয়াউর রহমানকে এখন আর রাষ্ট্রপতি হিসেবে গণ্য করা উচিত হবে না। একইসাথে জিয়াউর রহমান ক্ষমতায় গিয়ে যে দল গঠন করেছেন, সেই দলকে অবৈধ বলে গণ্য করা উচিত।

তিনি বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তীকালে মানবতাবিরোধী অপরাধে ২২ হাজার লোককে বন্দী করা হয়। এর মধ্যে ১১ হাজারের সাজা হয়। সে সময় গোলাম আযম পাকিস্তানের পাসপোর্ট নিয়ে দেশ ছেড়ে পালিয়ে যায়। সে সময় যুদ্ধাপরাধীদের ভোটের অধিকার ছিল না। সেই গোলাম আযমকে জিয়াউর রহমান দেশে ফিরিয়ে নিয়ে আসেন। আর খালেদা জিয়া তার পদাঙ্ক অনুসরণ করে গোলাম আযমকে নাগরিকত্ব দেন। মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ধ্বংস করে দেয়া হয়।’

প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, আওয়ামী লীগ ২১ বছর পর ক্ষমতায় এসে বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার শুরু করে। ২০০৯ সালে এসে যুদ্ধপরাধীদের বিচার শুরু করে। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার শুরু করার পর অনেক মহল এর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র শুরু করে। কিন্তু কোনো মহলের ষড়যন্ত্রই সেই বিচারকাজ বন্ধ করতে পারবে না।

বিডিআর বিদ্রোহের ঘটনায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ও তার ছেলে তারেক রহমান জড়িত ছিল দাবি করে, ষড়যন্ত্রের বিচার করার কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

বিএনপিনেত্রী প্রায়ই বিডিআর বিদ্রোহ নিয়ে প্রশ্ন তোলেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘২০০৯ সালে সরকার গঠন করলাম। দুই মাসের মধ্যে শুধু পিলখানায় নয়; সমগ্র বাংলাদেশে সেই যুদ্ধ শুরু হয়েছিল। আমরা মাত্র দুই দিনে কন্ট্রোল করি।’

নতুন সেই সরকার কেন একটা বাহিনীতে বিদ্রোহ ঘটাবে- এমন প্রশ্ন রেখে খালেদা জিয়াকে ইঙ্গিত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘তিনি তখন ক্যান্টনমেন্টের বাসায় থাকতেন। বিডিআর বিদ্রোহ ৯টার দিকে শুরু হয়। সকাল সাড়ে ৭-৮টর মধ্যে কেন বাসা থেকে বের হয়ে উনি আন্ডারগ্রাউন্ডে চলে গেলেন? এর জবাব জনগণকে দিতে হবে।’

বিদ্রোহের আগের রাতে খালেদা জিয়ার বড় ছেলে তারেক রহমান লন্ডন থেকে ফোন করেন দাবি করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘তার পুত্র লন্ডন সময় রাত ১-২টার মধ্যে ৪৫ বার ফোন করে তার মাকে বাসা থেকে বের হয়ে যেতে বলে। কেন তার মাকে ঘর থেকে বের হয়ে যেতে বলেছে? তারও সম্পৃক্ততা থাকতে পারে।

২০০৯ সালের ফ্রেব্রুয়ারির ওই বিদ্রোহে নিহত ৫৭ জন সেনা অফিসারের মধ্যে ৩৩ জনই আওয়ামী লীগ পরিবারের সন্তান- একথা জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ‘তাদেরকে কেন সেখানে পোস্টিং দেয়া হয়েছিল- সেটাও একটা প্রশ্ন। আমরা তখন মাত্র দুই মাস ক্ষমতায়।’

হাই কোর্টে এই হত্যামামলার বিচার চলছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এই ষড়যন্ত্রের মূলোৎপাটন একদিন করব।’

অনুষ্ঠানে বিএনপি ক্ষমতায় থাকাকালে বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে হামলার প্রসঙ্গও তুলে ধরেন শেখ হাসিনা।

বাংলাদেশ উন্নয়নের পথে এগিয়ে যাচ্ছে মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা কথা দিয়েছিলাম নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মাসেতু করবো। আমরা সেই কাজ শুরু করেছি।’

এর আগে বক্তব্যে, আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম বলেন, বঙ্গবন্ধু এমন একজন ব্যক্তি যিনি একটি জাতিকে তৈরি করেছেন। তিনি বলেছেন তখনই- ভারতীয় সৈন্য এদেশ ছেড়ে চলে যায়। এটি তিনি পেরেছিলেন।

আরেক প্রেসিডিয়াম সদস্য, কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী বলেছেন, কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ বঙ্গবন্ধুকে দেখে লিখেননি। কিন্তু তিনি অনাগত ভবিষ্যত দেখতে পেয়ে বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে লিখেছেন।

জনপ্রশাসন মন্ত্রী ও দলের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফ বলেন, শেখ হাসিনাকে আরো সময় দিতে হবে। তাকে আরো এক টার্ম নয়, কয়েক টার্ম সময় দিতে হবে। আরও কয়েকটা টার্ম তার প্রধানমন্ত্রী হওয়া দরকার। এটি শেখ হাসিনার জন্য নয়, বাংলাদেশের জন্য, বাংলাদেশের মানুষের জন্য, উন্নয়নের জন্য। বঙ্গবন্ধুকে কেউ দমাতে পারেনি আর শেখ হাসিনাকেও কেউ দমাতে পারবে না।

সভায় সভাপতিত্ব করেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।