ঢাকাMonday , 29 February 2016
  1. অপরাধ
  2. অর্থনীতি
  3. আইন ও আদালত
  4. আন্তর্জাতিক
  5. এক্সক্লুসিভ
  6. করোনা আপডেট
  7. খুলনা
  8. খেলাধুলা
  9. গণমাধ্যম
  10. চট্টগ্রাম
  11. জাতীয়
  12. ঢাকা
  13. তথ্য-প্রযুক্তি
  14. প্রচ্ছদ
  15. প্রবাসে বাংলাদেশ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

বরিশাল নগরীতে কৌটা হাতে এরা কারা?

Link Copied!

বাংলার কন্ঠস্বরঃ চরকাউয়া খেয়া থেকে উঠে আজগর আলী যাচ্ছিলেন তার গন্তব্যে। পথ আগলে দাড়ালো ২ নারী। কৌটা হাতে এই নারীদের বায়না পূরন না করলে কোথাও যাওয়া হচ্ছে না। আচমকা কি করবেন ভেবে পাচ্ছিলেন না আজগর আলী।   নগরীতে হঠাৎ করে বেড়ে গেছে কৌটা বাহিনীর আনাগোনা। নগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ন সড়কে অফিস আদালত এবং ধর্মীয় উপাসনালয়ের সামনে বেশীরভাগ চোখে পরে। তবে এটা ভিক্ষাবৃত্তির একটা নতুন কৌশল মাত্র। এই কৌটা বাহিনীর বেশীরভাগ সদস্যই নারী। যারা ইতিপূর্বে বিভিন্ন সাপের খেলা, সিংগা লাগানোসহ বিভিন্ন ওঝালী চিকিৎসা করতেন।  মূলত এসব মানুষেরা বেদে সম্প্রদায়ের লোক। এক সময় গ্রাম গঞ্জের মানুষদের ভুলভাল বুঝিয়ে চিকিৎসার নামে সর্বস্ব কেড়ে নেওয়ায় অভিজ্ঞ এই মানুষগুলোই এখন কৌটা হাতে দেখাযায়। ধারনা করা হচ্ছে, মানুষ অনেকটা সচেতন হওয়ায় এদের সেই ব্যবসায় এখন ভাটা পরেছে। জীবন ও জীবিকার তাগিদে শত বছরের পুরনো পেশা ছেড়ে এসব বেদে নারী এখন ভিক্ষাবৃত্তিতে নেমেছে। তাছাড়া বিভিন্ন উপজেলায় গেলে দেখা যায় বেদে দলের কয়েকজন মেয়ে হাতে একটি কাঠের বাক্স নিয়ে ভাই আমার ময়নারে একটি টাকা দেন। এমন দৃশ্য বরিশাল শহরসহ আশপাশের এলাকাগুতোও দেখা যায়। বরিশাল সদর উপজেলার লাহারহাট ফেরী ঘাটে গেলে দেখা যায় বেশ কয়েকটি বেদের নৌকা অর্থাৎ তাদের বাস স্থান। তারা জীবন জিবিকার তাগিদে মাছ ধরার কাজে ব্যস্ত থাকেন। বরিশাল সদর উপজেলার চরকাউয়া হিরন নগরের পাশে গড়ে উঠেছে এক দল বেদে বহর। বছরের সর্বসময়ই প্রায় থাকেন এখানে। তারা এখানে থেকে নগরীতে নামে ভিক্ষাবৃত্তি করতে। আগেকার দিনে  বেদেদের গান ‘আমরা সাধের বাইদানী এক ঘাটেতে রান্দিবাড়ি অন্য ঘাটে খাই মোদের শুখের শিমা নাই’। এমন গান বর্তমানে শোনাই যায় না বললে চলে।  কাঠের তৈরি ছোট্ট বাক্স অথবা অ্যালুমিনিয়ামের গোল কৌটা এগিয়ে দিয়ে এই আবদার জানানো মানুষগুলো ভিক্ষুক নন। এরা নিজেদের ঐতিহ্যগত পেশা ছেড়ে নতুন করে ভিক্ষাবৃত্তিতে আসা বেদে নারী। জীবন ও জীবিকার তাগিদে শত বছরের পুরনো পেশা ছেড়ে এসব বেদে নারী কেন ভিক্ষাবৃত্তিতে নেমেছেন তা জানতে চলে অনুসন্ধান। অনুসন্ধানে জানা যায়, আদিকাল থেকে বেদে নারীরা চুড়ি-ফিতা-খেলনা বিক্রি, শিঙা লাগানো, দাঁতের পোকা তোলা, তাবিজ-কবজ বিক্রি, সাপেকাটা রোগীর চিকিৎসা, সাপের খেলা দেখানো, সাপের ব্যবসা করা, আধ্যাত্মিক স্বাস্থ্যসেবাদান, ভেষজ ওষুধ বিক্রি, মৃত পশুর শরীরের অংশ এবং গাছগাছড়ার ওষুধ তৈরি করে বিক্রি, বানরখেলা ও জাদু দেখানো, মাছ ধরা, পাখি শিকার ইত্যাদি হরেক উপায়ে জীবন ও জীবিকা নির্বাহ করতেন। কিন্তু জ্ঞান-বিজ্ঞানের প্রভুত উন্নতি, আর্থ-সামাজিক অবস্থার ব্যাপক পরিবর্তনের ফলে বেদে নারীদের এসব সেবা গ্রহণ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে সাধারণ মানুষ। তাই জীবনের তাগিদে নিজেদের ঐতিহ্যবাহী পেশা থেকে ধীরে ধীরে সরে আসছেন বেদে সম্প্রদায়ের নারীরা। বিকল্প পেশা হিসেবে বেছে নিচ্ছেন স্থানীয় বাজারে দোকান করা, হাঁস-মুরগী বা কবুতর পালন, মাছ চাষ ও কাঁথা-কাপড় সেলাইয়ের মতো গেরস্থঘরের কাজ। কেউ কেউ চলচিত্রের শুটিংয়ের জন্য সাপ ভাড়া এবং ক্ষেত্র বিশেষ শরীরী সৌন্দর্য কাজে লাগিয়ে চলচ্চিত্র শিল্পে পার্শ¦ চরিত্রে অভিনয়ের সুযোগও পাচ্ছেন। বেদেকন্যা শেফালি বলেন, আমার মা-খালারা গ্রামে  গ্রামে ‘গাওয়াল’ করে সিঙ্গা লাগিয়ে, দাঁতের পোকা তুলে, তাবিজ-কবজ বিক্রি করে সংসারের খরচ জোগাতো। আমিও এক সময় ওই কাম করছি। এখন চা বিক্রি করি। আগের চেয়ে ভালোই আছি। মা-খালার পেশা ছাড়লেন কেন?-এমন প্রশ্নের জবাবে শেফালি বলেন, এহন আর মানুষ তাবিজ-কবজ কিনতে চায় না। এ ছাড়া অন্য সমস্যাও আছে!  কিন্তু শেফালির মতো দোকান করার জায়গা বা পুঁজি কোনোটিই যাদের নেই। নেই নিজস্ব ঘর-দুয়ার-মাথা গোজার ঠাঁই অথবা নৌকা-বৈঠা, সেসব বেদে নারী বরিশাল শহরের পার্ক-উদ্যান, বাস স্টপেজ, বিনোদন কেন্দ্র বা ব্যস্ততম এলাকায় ভিক্ষাবৃত্তি চর্চা করছেন। কেউ কেউ পা বাড়াচ্ছেন পঙ্কিল পথে। তাছাড়া বিনোদনের নতুন নতুন ব্যবস্থার প্রচলন হওয়ায় সাপ খেলা দেখে আগের মতো এখন আর আনন্দ পায় না মানুষ। বন-জঙ্গল উজাড় হয়ে যাওয়ায় সাপও পাওয়া যায় না। তাই বেদেদের ঐতিহ্যগত পেশায় ধস নেমেছে। এতোদিনকার সংস্কার-বিশ্বাসে আঘাত এসেছে। আর এতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন বেদে নারীরা। কীর্তন খোলা নদীর ভাসমান বেদেপল্লীর সরদার মো. কালাম জানান, শহরে যে মেয়েরা মানুষের কাছ থেকে টাকা ওঠায় তারা বেদে সম্প্রদায়েরই লোক। তবে ওরা ভাসমান বেদে পল্লীর কেউ না। ওদের অবস্থা আমাদের চেয়েও খারাপ। ওরা থাকে বস্তি অথবা ডেরায়। আমাদের মেয়েরা শহরে ঢুকে তাবিজ-কবজ-ওষুধপত্তর বিক্রি করে। সিঙ্গা লাগায়, দাঁতের পোকা খসায়।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।