
ময়মনসিংহের ভালুকায় ধর্ম অবমাননার অভিযোগে পোশাক শ্রমিক দিপু চন্দ্র দাসকে হত্যার পর মরদেহে আগুন পুড়িয়ে ফেলার ঘটনায় মো. রাজিব (২২) নামের আরও একজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ নিয়ে এ ঘটনায় মোট ২২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এর মধ্যে ১১ জন আসামী আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী প্রদান করেছে।
শনিবার (২৪ জানুয়ারি) বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার গাজীপুর ইউনিয়নের নগর হাউলা এলাকায় থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার রাজিব ভালুকার কাশর পূর্বপাড়া এলাকার সোহরাব উদ্দিনের ছেলে।
এদিন রাতেই এসব তথ্য নিশ্চিত করেন ময়মনসিংহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) আবদুল্লাহ আল মামুন। তিনি বলেন, রাজিব ঘটনার সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে। সে রশি দিয়ে লাশ ঝুলানো অবস্থায় স্লোগান প্রদান করে উত্তেজিত জনতাকে উসকানি দেয় এবং দিপু চন্দ্র দাসের লাশের ওপর সংঘটিত অমানবিক নির্যাতনে সহযোগিতা করে।
ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যান্য পলাতক আসামীদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ১৮ ডিসেম্বর রাতে ভালুকার ডুবালিয়াপাড়া এলাকায় দিপু চন্দ্র দাসের বিরুদ্ধে ধর্ম অবমাননার অভিযোগ ওঠে। বিষয়টি জানাজানি হলে সেখানে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। তখন দিপু চন্দ্র দাস পাইওনিয়ার নিটওয়্যারস (বিডি) লিমিটেড কারখানার ভেতরে ছিলেন।
রাত ৯টার দিকে দিপু চন্দ্রকে কারখানা থেকে বের করে দিলে তাকে পিটিয়ে মেরে ফেলা হয়। এক পর্যায়ে দিপুর মরদেহ ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের পাশে গাছে ঝুলিয়ে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। এ ঘটনায় নিহতের ছোট ভাই অপু চন্দ্র দাস ভালুকা মডেল থানায় বাদী হয়ে ১৫০ জনকে অজ্ঞাতপরিচয় আসামি করে মামলা করেন।