ঢাকাMonday , 11 April 2016
  1. অপরাধ
  2. অর্থনীতি
  3. আইন ও আদালত
  4. আন্তর্জাতিক
  5. এক্সক্লুসিভ
  6. করোনা আপডেট
  7. খুলনা
  8. খেলাধুলা
  9. গণমাধ্যম
  10. চট্টগ্রাম
  11. জাতীয়
  12. ঢাকা
  13. তথ্য-প্রযুক্তি
  14. প্রচ্ছদ
  15. প্রবাসে বাংলাদেশ

মন্ত্রিত্ব ছাড়ছেন না দণ্ডিত মায়া চৌধুরী

Link Copied!

বাংলার কন্ঠস্বরঃ

দুর্নীতির মামলায় ১৩ বছরের দণ্ড পাওয়ায় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী বীর মুক্তিযোদ্ধা মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়ার মন্ত্রিত্ব এবং এমপি পদ বাতিল হয়ে যাওয়ার কথা। কিন্তু নিম্ন আদালতের দণ্ডের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে করা আপিলের পুনঃশুনানির ছুতোয় পদ ধরে রাখছেন তিনি।

 

গত ১০ এপ্রিল দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়ের করা দুর্নীতি মামলা থেকে খালাস দিয়ে হাইকোর্টের রায় বাতিলের রায় পুনর্বিবেচনায় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী এবং সদ্য সাবেক ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়ার রিভিউ খারিজ করে দিয়েছেন প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার (এসকে) সিনহার নেতৃত্বে চার বিচারপতির আপিল বেঞ্চ।

 

এই বেঞ্চের অন্য সদস্যরা হলেন বিচারপতি নাজমুন আরা সুলতানা, বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন ও বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী।

 

এ রায়ের ফলে হাইকোর্টে মামলাটির পুনরায় শুনানি চলতে আর বাধা থাকল না। একই সাথে নিম্ন আদালতের দেয়া ১৩ বছরের কারাদণ্ডও বহাল থাকল।

 

এরআগে গত বছরের ১৪ জুন আপিল বিভাগ মায়ার দণ্ড বাতিল করে দেয়া হাইকোর্টের আদেশ বাতিল করে দেন।

 

এরপর সংবিধান অনুযায়ী মায়ার মন্ত্রিত্ব ও সাংসদ পদের দুটিও বাতিল হয়ে যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু আপিল বিভাগের রিভিউ রায়ের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাথে যোগাযোগ করে নিজের করণীয় সম্পর্কে জানতে চান মায়া। এসময় দুর্নীতির মামলার দণ্ডকে নিজের ব্যক্তিগত বিষয় মনে করে আদালতের মুখোমুখি হওয়ার পরামর্শ দেন শেখ হাসিনা।

 

আওয়ামী লীগের একাধিক সূত্র এ কথা নিশ্চিত জানিয়েছে।

 

সূত্র জানিয়েছ, প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ পাওয়ার পর হাইকোর্টের আপিলের রায় ঘোষণা না হওয়া পর্যন্ত মন্ত্রিসভা থেকে স্বেচ্ছায় সরে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন মায়া।

 

রিভিউ খারিজের পর আজ সোমবার মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠকে ত্রাণমন্ত্রী হিসেবে মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া অংশ নেবেন বলে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের একাধিক কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছেন। এ বৈঠকে সভাপতিত্ব করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

 

উল্লেখ্য, ২০০৮ সালে জ্ঞাত আয়ের বাইরে অবৈধভাবে ৬ কোটি ২৯ লাখ টাকার সম্পদ অর্জন ও ৫ কোটি ৯০ লাখ টাকার সম্পত্তি গোপন করার মামলায় ১৩ বছরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হন মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া। একই সাথে তাকে পাঁচ কোটি টাকা জরিমানাও করে আদালত।

 

দুর্নীতি মামলায় দণ্ডিত হওয়ার কারণে মায়া ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বরের নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারেননি। এমনকি ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হয়েও মন্ত্রিসভায় জায়গা হয়নি তার।

 

পরে এ দণ্ডাদেশের বিরুদ্ধে আপিল করেন মায়া। তবে ২০১০ সালের অক্টোবরে হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ কেবলই আইনি প্রশ্নে ওই রায় বাতিল করেন। এর ফলে দণ্ডিত মায়া রাজনৈতিকভাবে আবারো সক্রিয় হতে শুরু করেন।

 

তবে দুদক হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে আবেদন করে। গত বছরের ১৪ জুন আপিল বিভাগ হাইকোর্টের রায় বাতিল করে হাইকোর্টে আপিলের পুনঃশুনানির নির্দেশ দেন।

 

আপিল বিভাগের এ রায়ের পর ১৩ বছরের দণ্ডিত একজন ব্যক্তি কারাভোগ না করে মন্ত্রী ও এমপি পদে থাকতে পারেন কি না তা নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে।

 

সংবিধান কী বলে?

 

আইন বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, সংবিধানের ৬৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়ার মন্ত্রিত্ব ও সাংসদ পদের দুটিই খারিজ হয়ে গেছে।

 

৬৬ ধারার ২ (ঘ) দফায় বলা হয়েছে, ‘কোনো ব্যক্তি সংসদের সদস্য নির্বাচিত হবার এবং সংসদ সদস্য থাকবার যোগ্য হবেন না, যদি “তিনি নৈতিক স্খলনজনিত কোনো ফৌজদারী অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হয়ে অন্যূন দু বছর কারাদণ্ডে দণ্ডিত হন এবং তার মুক্তিলাভের পর পাঁচ বছর অতিবাহিত না হয়ে থাকে”।’

 

ফৌজদারি আইন বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, দুর্নীতি একটি নৈতিক স্খলনজনিত অপরাধ। সে কারণে ১৪ জুন তারিখে আপিল বিভাগ রায় দেওয়া মাত্রই মায়ার সংসদ সদস্য পদ এবং মন্ত্রিত্ব দুটোই বাতিল হয়ে গেছে। আইনের চোখে তিনি আর মন্ত্রী নন।

 

এমন মত পোষণ করেন বাহাত্তরের সংবিধান প্রণয়ন কমিটির একজন সদস্য।

 

তিনি বলেন, সংবিধানে বলা আছে, কারও সদস্যপদ নিয়ে বিতর্ক দেখা দিলে স্পিকার বিষয়টি নির্বাচন কমিশনে পাঠাবেন এবং তাদের মতই চূড়ান্ত হবে। তবে তিনি মনে করেন, মায়ার পদ নিয়ে কোনো বিতর্ক দেখা দেওয়ার সুযোগ নেই। আপিল বিভাগের রায় দেওয়া মাত্রই তাঁর মন্ত্রিত্ব ও সংসদ সদস্য পদ খারিজ হয়ে গেছে।

 

ড. শাহদীন মালিক বলেন, আইন ও নৈতিকতা উভয় মানদণ্ডে মন্ত্রীকে অবশ্যই অবিলম্বে পদত্যাগ করতে হবে। এবং এখন স্পিকারের করণীয় হবে ১৯৮১ সালের সংসদ সদস্য যোগ্যতা নির্ধারণী আইনের অধীনে বিষয়টি আমলে নিয়ে যথাযথ পদক্ষেপ নেয়া।

 

আইন কমিশনের বর্তমান চেয়ারম্যান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হক ২০০১ সালে জেনারেল এরশাদের জনতা টাওয়ার দুর্নীতির মামলায় এই একই মত দিয়ে বলেছিলেন, আপিল করলেও দোষী সাব্যস্ত ব্যক্তির সাজা বাতিল না হওয়া পর্যন্ত এমপি পদ থাকবে না।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।