ঢাকাMonday , 22 February 2016
  1. অপরাধ
  2. অর্থনীতি
  3. আইন ও আদালত
  4. আন্তর্জাতিক
  5. এক্সক্লুসিভ
  6. করোনা আপডেট
  7. খুলনা
  8. খেলাধুলা
  9. গণমাধ্যম
  10. চট্টগ্রাম
  11. জাতীয়
  12. ঢাকা
  13. তথ্য-প্রযুক্তি
  14. প্রচ্ছদ
  15. প্রবাসে বাংলাদেশ

মায়ের ভাষায় লিখতে না পারার কষ্ট নিয়ে শহীদ মিনারে অাধীবাসিরা

Link Copied!

নেপোলিয়ন তালুকদারের বাড়ি রাঙামাটিতে, বাড়িতে মা-বাবাকে নিয়ে পাঁচজনের পরিবারে তারা যখন কথা বলেন, তা মাতৃভাষা চাকমায়। কিন্তু মাতৃভাষায় শিক্ষা লাভের সুযোগ হয়নি ঢাকার নটরডেম কলেজে পড়ুয়া এই পাহাড়ি শিক্ষার্থীর।

এই কষ্টটুকু বুকে নিয়েই রোববার ভাষা শহীদ ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে ঢাকায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ফুল দিতে এসেছিলেন নেপোলিয়ন।

ফুল দিয়ে অকপটেই নিজের মনোবেদনা “বাংলার কন্ঠস্বরের “কাছে প্রকাশকরেন এই কিশোর- “আমরা ঘরে চাকমা ভাষাতেই কথা বলি। চাকমাই আমাদের ভাষা। আমাদের পরিবার শিক্ষিত পরিবার। কিন্তু কেউই চাকমা ভাষায় লিখতে পারি না।”

শহীদ মিনারে নেপোলিয়নের সঙ্গী অমর জীবন চাকমাও বলেন, “আমার মাতৃভাষা চাকমা। আমি সেই ভাষা লিখতে পারি না। অনেক কষ্ট লাগে, কিন্তু কিছু বলতে পারি না।”

১৬ কোটি মানুষের বাংলাদেশে দুই শতাংশের মতো বিভিন্ন নৃগোষ্ঠীর মানুষ রয়েছেন, যারা মাতৃভাষায় শিক্ষা লাভের সুযোগ এখনও পাননি।

এবার আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে জাতিসংঘ সংস্থা ইউনেস্কোর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্বের জনসংখ্যার ৪০ শতাংশ শিক্ষার মাধ্যম হিসেবে যে ভাষা ব্যবহার করেন, যা তাদের বোধগম্য নয়।

‘যদি তারা বুঝতেই না পারে, তাহলে তারা শিখবে কীভাবে?’- শিরোনামের এই প্রতিবেদনে ভাষার লড়াইয়ে স্থান বাংলাদেশে মাতৃভাষায় বঞ্চিত জনগোষ্ঠীর কথাও রয়েছে, যাদের প্রতিনিধিত্ব করছেন নেপোলিয়ন ও অমর।

মায়ের ভাষায় কথা বলতে বাঙালির রক্ত দেওয়ার দিনটি যখন আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি নিয়ে সারাবিশ্বের ভাষা-ভাষীদের অধিকার আদায়ের প্রতীক হিসেবে পালিত হচ্ছে, তাতে একাত্ম হন এই দুই কিশোর।

নটরডেমে পড়ুয়া অমর জীবন বলেন, “১৯৫২ সালে মাতৃভাষার মর্যাদা রক্ষায় এদেশের মানুষ প্রাণ দিয়েছে। আমরা আজ তাদের স্মরণ করছি এখানে এসে।

“এর আগে আসতে পারিনি। খাগড়াছড়ি ছিলাম, এই কারণে আসতে পারিনি। এবার আসতে পারায় খুবই ভালো লাগছে।”

প্রাথমিক, মাধ্যমিকের চৌকাঠ পেরিয়ে উচ্চ মাধ্যমিকে এলেও গ্রামের বাড়ি রাঙামাটিতে কিংবা বাবার কর্মসূত্রে খাগড়াছড়িতে পড়ার সময় কোনো বিদ্যালয়েই মাতৃভাষা শেখার সুযোগ হয়নি বলে জানান তিনি।

“রাষ্ট্রভাষা বাংলা তো শিখতে হবে, শিখবও। কিন্তু মায়ের ভাষা লিখতে না পারলে কষ্ট হয়।”

সহপাঠী নেপোলিয়নেরও শহীদ মিনারে আসা এটাই প্রথম। তিনিও পানখাইয়াপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও খাগড়াছড়ি উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়াশোনা করার সময় মাতৃভাষায় শিক্ষা লাভের কোনো সুযোগ ঘটেনি।

নেপোলিয়ন বলেন, “প্রত্যন্ত পাহাড়ে হয়ত কোথাও কোথাও চাকমা ভাষা শেখানোর ব্যবস্থা আছে-কিন্তু তাদের আবার আধুনিক শিক্ষার ব্যবস্থা নেই। শহরে চাকমা জানা কাউকে দিয়ে লেখাটা শিখে নেওয়া যায় না।”

শহীদ মিনারে স্ত্রী-পুত্র-কন্যাকে নিয়ে ফুলা দিতে আসা মর্ম সিংহ ত্রিপুরা বাংলার কন্ঠস্বরকে বলেন, তিনি মাতৃভাষা যতটুকু শিখেছেন, তা নিজের আগ্রহে এবং সেই শিক্ষাটা প্রাতিষ্ঠানিক ছিল না।

ইউনেস্কোর প্রতিবেদনে অন্তত ছয়বছর মাতৃভাষায় শিক্ষা দেওয়ার ব্যবস্থা রাখার সুপারিশ করে বিষয়টিতে গুরুত্ব দিতে সব দেশের সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে।

ইতিহাস ঘেঁটে দেখা যায়, ব্রিটিশ আমলে ১৮৬৩ সালে চন্দ্রঘোনায় প্রতিষ্ঠিত পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রথম প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চাকমা ভাষায় শিক্ষা দান চালু হলেও পরে তা আর এগোয়নি।

প্রাথমিকে মাতৃভাষা শিক্ষার সৃষ্টির কথা বাংলাদেশের শিক্ষানীতিতে উল্লেখ রয়েছে। ২০১২ সালে সরকার এ বিষয়ে একটি জাতীয় কমিটি করে দেয়।

এই কমিটির সদস্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাষাবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক সৌরভ শিকদার বাংলার কন্ঠস্বরকে বলেন, তারা প্রথমে জনসংখ্যার ভিত্তিতে ছয়টি ভাষাকে নির্বাচন করেছিলেন। সেগুলো হল- চাকমা, মান্দি, সাঁওতালী, ওঁরাও, মারমা, ত্রিপুরা।

“সাঁওতালীদের মধ্যে রোমান এবং বাংলা বর্ণমালা নিয়ে বিরোধ সৃষ্টি হওয়ায় তাদেরটা স্থগিত রেখেছি। এরপর গত জুন-জুলাইয়ের দিকে বাকি ৫ ভাষার প্রাক-প্রাথমিকের জন্য ৫টি বই প্রস্তুত হয়েছে।”

তবে ‘আমলাতান্ত্রিক জটিলতার’ কারণে এই বছর বইগুলো শিক্ষার্থীদের হাতে তুলে দেওয়া যায়নি, বলেন তিনি।

এই কমিটির সদস্য বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামের সাধারণ সম্পাদক সঞ্জীব দ্রং বাংলার কন্ঠস্বরকে বলেন, “এটা চালু করতে হলে বেশ কিছু পদক্ষেপ নিতে হবে।

“কোন কোন স্কুলে এটা পড়ানো হবে-সেটা ঠিক করতে হবে। শিক্ষক নিয়োগ দিতে হবে, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ দিতে হবে। এসবের কিছুই হয়নি।”

“আমরা মনে করি, বিষয়টা যতটা গুরুত্ব পাওয়া উচিত ছিল। ততটা পায়নি। এক্ষেত্রে সরকারের কাজ খুবেই ধীর গতির। এটাকে আরও দ্রুত করা উচিত।”

শহীদ মিনারে অমর জীবন ও নেপোলিয়নের সঙ্গে ফুল দিতে উপস্থিত বাঙালি কিশোর চন্দর রায় চান,তার মতোই যেন মাতৃভাষায় পড়ার সুযোগটা হয় তার বন্ধুদের উত্তরসূরিদের।

“এই দিনে আমি চাই, আমি যেমন মায়ের ভাষা লিখতে পারি, আমার বন্ধুরাও যেন মায়ের ভাষা লিখতে পারে, লেখাটা শিখে নিতে পারে।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।