
রাসেল কবির, কাজিরহাট(মেহেন্দিগঞ্জ) প্রতিনিধি।।
বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার কাজিরহাট থানাধীন ভাসানচর ইউনিয়নে বিদেশে পাঠানোর কথা বলে টাকা নেওয়া এবং পরবর্তীতে টুরিস্ট ভিসায় কম্বোডিয়ায় পাঠানোর অভিযোগে এক মাদ্রাসাশিক্ষক ও তার ছেলের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।
মামলার এজাহার ও বাদীপক্ষের অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, ভাসানচর ইউনিয়নের আমির হাওলাদারের ছেলে জসিম হাওলাদারকে বিদেশে পাঠানোর কথা বলে ছয় লাখ টাকার বিনিময়ে চুক্তি করেন মেহেন্দিগঞ্জ সদর উপজেলার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের খরকি গ্রামের বাসিন্দা এবং সাতগাঁ আজিজিয়া দাখিল মাদ্রাসার এবতেদায়ি জুনিয়র শিক্ষক মো. শাহ আলম। অভিযোগ রয়েছে, শিক্ষক শাহ আলমের ছেলে রাকিবের মাধ্যমেও এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হয়।
বাদী আমির হাওলাদারের দাবি, ২০২৫ সালের ২৩ নভেম্বর একটি মাদ্রাসার কক্ষে বসে শিক্ষক শাহ আলমকে নগদ ছয় লাখ টাকা দেওয়া হয়। বিদেশে পাঠানোর কথা থাকলেও পরবর্তীতে তার ছেলে জসিমকে টুরিস্ট ভিসায় কম্বোডিয়ায় পাঠানো হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
বাদীপক্ষের অভিযোগ, কম্বোডিয়ায় গিয়ে জসিম প্রায় দুই মাস মানবেতর জীবনযাপন করেন। সেখানে প্রত্যাশিত কর্মসংস্থান ও সুযোগ-সুবিধা না পাওয়ায় শেষ পর্যন্ত পরিবারের সদস্যদের সহযোগিতায় নিজেদের অর্থে তাকে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়।
এ ঘটনায় টাকা ফেরত দেওয়ার জন্য শিক্ষক শাহ আলমের সঙ্গে একাধিকবার বৈঠক করা হয়েছে বলেও দাবি করেন আমির হাওলাদার। তার অভিযোগ, ওই সময় শিক্ষক শাহ আলম টাকা ফেরত দেওয়ার কথা স্বীকার করলেও পরবর্তীতে দীর্ঘদিন ধরে টালবাহানা করতে থাকেন।
পরে প্রতিকার চেয়ে বরিশালের আদালতে মামলা করেন আমির হাওলাদার। বাদীপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, আদালত মামলাটি রেকর্ড করার জন্য কাজিরহাট থানার অফিসার ইনচার্জকে নির্দেশ দেন। আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ মামলাটি থানায় রেকর্ড করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন বাদীপক্ষ।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে সাতগাঁ আজিজিয়া দাখিল মাদ্রাসায় গিয়ে শিক্ষক মো. শাহ আলমকে পাওয়া যায়নি।
মাদ্রাসার সুপার মাওলানা রুহুল আমিন জানান, শিক্ষক শাহ আলম গত ৮ সেপ্টেম্বর থেকে ১৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত কর্মস্থলে অনুপস্থিত রয়েছেন। তার সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করে মাদ্রাসায় উপস্থিত হওয়ার কথা বলা হলেও অসুস্থতার কথা জানিয়েছেন তিনি।
মাদ্রাসার সুপার আরও জানান, বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ বিষয়ে মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মহিউদ্দিন মিয়ার সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, শিক্ষক শাহ আলমের অনুপস্থিতির বিষয়টি তিনি মাদ্রাসার সুপারের কাছ থেকে জেনে পরবর্তী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছেন।
তবে মামলার অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত শিক্ষক মো. শাহ আলম ও তার ছেলে রাকিবের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তী প্রতিবেদনে প্রকাশ করা হবে।
মামলার অভিযোগের সত্যতা আদালতের বিচারাধীন বিষয়। তদন্ত শেষে এ বিষয়ে প্রকৃত ঘটনা ও দায়-দায়িত্ব নিশ্চিত হবে।