ঢাকাSunday , 10 April 2016
  1. অপরাধ
  2. অর্থনীতি
  3. আইন ও আদালত
  4. আন্তর্জাতিক
  5. এক্সক্লুসিভ
  6. করোনা আপডেট
  7. খুলনা
  8. খেলাধুলা
  9. গণমাধ্যম
  10. চট্টগ্রাম
  11. জাতীয়
  12. ঢাকা
  13. তথ্য-প্রযুক্তি
  14. প্রচ্ছদ
  15. প্রবাসে বাংলাদেশ

রঙ্গে ভরা বৈশাখ আবার আইলো রে…

Link Copied!

বাংলার কন্ঠস্বরঃ

প্রতিবছর পয়লা বৈশাখে মঙ্গল শোভাযাত্রার বিরাট আয়োজনের দায়িত্ব কাঁধে তুলে নেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের শিক্ষার্থীরা। এবারও শুরু হয়ে গেছে মহাযজ্ঞ। চারুকলার ক্যাম্পাসের ভেতর শিক্ষার্থীদের একটা আলাদা জগৎ আছে। ৬ এপ্রিল সেই জগৎটাই উঁকি দিয়ে দেখতে চেষ্টা করেছি আমরা। উঠে এসেছে মঙ্গল শোভাযাত্রার প্রস্তুতির গল্প

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের মূল ফটকের কাছে পৌঁছেই শোনা গেল ভেতরে গান বাজছে, ‘আইলো আইলো আইলো রে…’। গানের বাকি অংশ শোনার আগেই কেউ যদি শব্দযন্ত্রের ‘মুখ’ চেপে ধরত, তবুও বুঝতে অসুবিধা হতো না, রঙ্গে ভরা বৈশাখ আসছে!

তবে অন্য একটা গানের কথা বুঝতে বেগ পেতে হলো বৈকি। ঢোকার সময় অনুষদটির ছাপচিত্র বিভাগের ছাত্র এস এম রাকিব বলছিলেন, ‘জানেন, বৈশাখ নিয়ে কিন্তু চারুকলার নিজস্ব গানও আছে। “বৈশাখ আইলো চারুকলায় কী করি উপায়, ইলিশ মাছের ল্যাঞ্জা দিয়া হারমোনি বাজাই।”’ মাছের রাজার লেজ দিয়ে কীভাবে ‘হারমোনি’ বাজানো যায়, কে জানে! তবে গানের কথাটা মজার। বৈশাখ বরণের তোড়জোড়ের সময় আর কী কী মজা হয় ক্যাম্পাসে? প্রশ্ন শুনে রাকিবরা রহস্যময় হাসি হাসেন। বলেন, ‘সব মজা তো বলে বোঝানো যাবে না!’ ঘুরে ঘুরে তবু শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে তাঁদের আনন্দের খানিকটা ভাগ পেতে চেষ্টা করি।

আসুন সাধু ভাই…

পেইন্টিং বিভাগের ক্লাসরুমগুলোর পাশে তখন কাজ চলছে পুরোদমে। বিরাট সব কাঠামো তৈরিতে ব্যস্ত শিক্ষার্থীরা। বাঁশ দিয়ে তৈরি বিশালাকৃতির চারুকর্মগুলোর ‘কঙ্কাল’ দেখে অবশ্য ঠিক ঠাওর করা যাচ্ছিল না, কোনটা কী। সাম্পানটা বোঝা গেল কারণ, সামনে কেউ একজন সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে দিয়েছেন। সেখানে লেখা আছে, ‘আসুন সাধু ভাই, নৌকা বানাই।’

এক পাশে শিক্ষার্থীরা ঘিরে ধরেছেন তাঁদের শিক্ষক শিশির ভট্টাচার্য্যকে। ‘সিরিয়াস ডিসকাশন’ ভাস্কর্যের পাশে দাঁড়িয়ে চলছে গুরু-শিষ্যের ‘গুরুতর’ আলোচনা। চারুকলার এক শিক্ষার্থী বলছিলেন, ‘শিশির স্যার এই সময়টাতে খুব কষ্ট করেন। মঙ্গল শোভাযাত্রার আগের রাতে সারা রাত সব দেখভাল করেন ঠায় দাঁড়িয়ে থেকে। শোভাযাত্রা বের হওয়ার আগ পর্যন্ত তাঁর বিশ্রাম নেই। অনুষদের ডিন নিসার হোসেন স্যারও শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত আমাদের সঙ্গে থাকেন।’

শুধু শিক্ষকেরাই নন, কয়েকটা দিন আয়োজকদের সবার ওপর দিয়েই ঝড় বয়ে যায়। এই ঝড় পরিশ্রমের, আনন্দেরও। স্নাতকোত্তর শেষ বর্ষে পড়ুয়ারা বর্ষবরণের আয়োজন করেন, চারুকলার এই রীতি অনুযায়ী এবার মূল আয়োজক ১৭তম ব্যাচের শিক্ষার্থীরা। আয়োজকদের একজন, সাইফুল ইসলাম বলছিলেন, ‘এক মাস আমরা হলে যাই না। একটা গ্যালারি খুলে দেওয়া হয়, ওখানেই ছাত্ররা ঘুমায়। শুধু আমরা না, আশপাশের চায়ের দোকানদার থেকে শুরু করে অনেকেই আমাদের সঙ্গে কাজে যোগ দেন। এত বড় আয়োজনের কৃতিত্ব পুরো চারুকলা পরিবারের।’

আয় আরেকটিবার আয় রে সখা…

বর্ষবরণ উৎসব চারুকলার শিক্ষার্থীদের পুরোনোদের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার একটা সুযোগও করে দেয়। কাজ শুরু হলেই সাবেক শিক্ষার্থীরা দলে দলে এসে যোগ দিতে থাকেন।

স্নাতকোত্তর শেষ বর্ষের ছাত্র ফখরুল ইসলাম মজুমদার বলছিলেন, ‘দেখা গেল পুরোনো কোনো ছাত্র এসে ছোটদের সঙ্গে দর্শনার্থী সেজে মজা করা শুরু করল। আবার উল্টোটাও হয়। সিনিয়র কাউকে পেয়ে আমরা তাঁর কাছ থেকে খাই। এক-দেড় শ আইসক্রিম কিনিয়ে পকেট ফাঁকা করে দিই। তারকা হয়ে গেছেন, এমন অনেকেও আসেন। চঞ্চল চৌধুরী, প্রাণ রায়, বিপাশা হায়াত…’ ১৭তম ব্যাচের আরেক ছাত্র সুদীপ্ত শিকদার বলছিলেন, ‘চারুকলায় একটা ব্যাপার আছে। অনেক পুরোনো ছাত্রদেরও দেখি মাঝে মাঝে রাতের বেলা গাড়ি হাঁকিয়ে ক্যাম্পাসে আসেন। এখনকার কাউকে হয়তো চেনেন না, তবুও আসেন। বাইরে দাঁড়িয়ে এক কাপ চা খেয়ে চলে যান। কেন আসেন, তাঁরা নিজেরাও হয়তো বলতে পারবেন না।’

তুহিন পাখি

ভাস্কর্য বিভাগের ছাত্র মো. ইয়াসিন আছেন শোভাযাত্রার মূল আকর্ষণ বড় বড় চারুকর্ম তৈরির দায়িত্বে। বলছিলেন, ‘আমরা ময়ূরপঙ্খী, হরিণ, ষাঁড়, ঘোড়া, পাখি আর হাতি বানাচ্ছি। আমাদের আঁকা ছবি, হ্যান্ডক্র্যাফট বিক্রি হচ্ছে। এই টাকা থেকে বর্ষবরণের ফান্ড তৈরি হয়। একেক দলে ভাগ হয়ে আমরা তৈরি করছি মুখোশ, পাখা, পেইন্টিং, মাটির সরা, তুহিন পাখি…’।

তুহিন পাখি! সেটা কী?

ভাবছিলাম এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে বুঝি পাখি বিশেষজ্ঞ শরীফ খানের শরণাপন্ন হতে হবে! তার আগেই স্বয়ং তুহিনের সঙ্গে দেখা হয়ে গেল। চারুকলার সাবেক ছাত্র তুহিন রায় এখন কাজ করছেন একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে। চার-পাঁচ বছর আগে তিনিই প্রথম কাগজ দিয়ে একটা ছোট্ট সুন্দর পাখি বানানো শুরু করেছিলেন। এরপর থেকে পয়লা বৈশাখেরই অনুষঙ্গ হয়ে গেছে কাগুজে পাখিটা। কারিগরের সম্মানে শিক্ষার্থীরা এর নাম দিয়েছেন ‘তুহিন পাখি’। তুহিন বলছিলেন, ‘ছোটবেলা থেকে পাখি ভালো লাগত। পাখি কীভাবে ওড়ে, কীভাবে বসে—খুব মন দিয়ে লক্ষ করতাম। আমার নামে এখন একটা পাখি আছে…ভালোই লাগে।’

জাদুকর

এত রং, এত সাজসজ্জা পুরোনো ছাত্রদের কাছে নতুন কিছু নয়। মাথায় গামছা বেঁধে তাঁরা কাজ করে যাচ্ছেন নির্বিকার। বিস্ময়মাখা চোখ নিয়ে যাঁরা এই সময়ের প্রতিটা মুহূর্ত উপভোগ করছেন, তাঁদের মধ্যে একজন প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী আশিকুল ইসলাম। বলছিলেন, ‘আগে মঙ্গল শোভাযাত্রা দেখেছি। তখন এত বড় বড় হাতি-ঘোড়া জাদুর মতো মনে হতো। ভোজবাজির মতো কোথা থেকে যেন হাজির হয়ে যায়! এখন এই বিশাল আয়োজনের অংশ হতে পেরে খুব মজা লাগছে।’ আশিকুলের বোধ হয় এখনো বিশ্বাস হচ্ছে না, তিনি নিজেই এখন জাদুকরদের দলের একজন। আসছে ১৪ এপ্রিল জাদুকরদের পরিবেশনা দেখার অপেক্ষায় আছে সারা দেশ!

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।