ঢাকাFriday , 5 February 2016
  1. অপরাধ
  2. অর্থনীতি
  3. আইন ও আদালত
  4. আন্তর্জাতিক
  5. এক্সক্লুসিভ
  6. করোনা আপডেট
  7. খুলনা
  8. খেলাধুলা
  9. গণমাধ্যম
  10. চট্টগ্রাম
  11. জাতীয়
  12. ঢাকা
  13. তথ্য-প্রযুক্তি
  14. প্রচ্ছদ
  15. প্রবাসে বাংলাদেশ

রোমাঞ্চকর জয়ে সেমিফাইনালে বাংলাদেশ

Link Copied!

জয়ের জন্য দরকার মাত্র তিন। তখনো বল বাকি ১১। জাকির হাসান লং অনের ওপর দিয়ে আছড়ে ফেললেন সীমানার ওপারে। ফিনিশ ইন স্টাইল! রাজসিক সমাপন! এটাই তো দরকার ছিল। ভয়ে কেঁপে নয়, দাপটের সঙ্গে জয়। যেন বার্তা ছড়িয়ে দেওয়া—‘আমরা প্রস্তুত। আমরা প্রস্তুত স্নায়ুর অগ্নিপরীক্ষা দিতেও। আমরা প্রস্তুত, স্বপ্নকে কাঁধে বয়ে নিয়ে যেতে, দূর আরও বহু দূর!’
জাকির আর মেহেদি হাসান মিরাজের কাঁধে চেপেই নেপালকে ৬ উইকেটে হারাল বাংলাদেশ। রোমাঞ্চকর এই জয় বাংলাদেশকে নিয়ে গেল যুব বিশ্বকাপের শেষ চারে। এই প্রথম কোনো বৈশ্বিক টুর্নামেন্টের সেমিফাইনালে উঠল লাল-সবুজের দেশ। ফাইনালটাও কিন্তু মাত্র এক ধাপ দূরে! আর সেই ধাপটা পেরোতে ১১ ফেব্রুয়ারি শেষ চারে বাংলাদেশের সম্ভাব্য প্রতিপক্ষ পাকিস্তান নয়তো ওয়েস্ট ইন্ডিজ।

৬ উইকেটের বড় জয়, বলও বাকি ১০টি। মনে হতে পারে অনায়াস এক জয়। কিন্তু এই নিরেট পরিসংখ্যান বলবে না জাকির-মিরাজের ১১৭ রানের হার না মানা জুটির মাহাত্ম্য। ৯৮ রান তুলতেই নেই ৪ উইকেট। জয় তখনো বহু দূর। তবে কি আরও একবার স্বপ্ন পোড়ার যন্ত্রণা? এত কাছে এসেও পথ হারিয়ে ফেলা! অলক্ষুনে কথা মুখে আনতে নেই!

অধিনায়ক মিরাজ যেন হয়ে গেলেন সত্যিকারের সেনাপতি। সঙ্গী হিসেবে পেলেন লড়াকু জাকিরকে। আর এই দুজনের ব্যাটে বাকিটা পথ পাড়ি দিল বাংলাদেশ। জাকির ৭৫ আর মিরাজ অপরাজিত ছিলেন ৫৫ রানে। ৭৭ বলের ইনিংসটাতে জাকির মেরেছেন পাঁচটি চার, সঙ্গে সেই জয়ের বন্দরে পৌঁছে দেওয়া ছক্কা। ৬৫ বলের ইনিংসটাতে মিরাজ বাউন্ডারি থেকে রান নিয়েছে মাত্র ১২, বাকি ৪৩ রানই নিয়েছেন খেটে—বোঝাই যায়, পরিস্থিতির দাবি মেনে কী পরিণত ব্যাটিংটাই না করেছেন!

ক্রিকেটের উদীয়মান শক্তি নেপাল প্রাণপণ লড়াই করেছে। প্রতিটা বল, প্রতিটা মুহূর্তে নিজেদের উজাড় করে দিয়েছে। তাদের সেই চেষ্টাকে বাংলাদেশ শ্রদ্ধা করেছে ঠিকই। কিন্তু এও বলেছে, ‘দুঃখিত বন্ধু, তোমাদের নয়, আজ আমাদের স্বপ্ন পূরণের দিন!’

সেই দিনের শুরুটাও হয়েছিল দারুণভাবে। বল হাতে শুরু থেকেই নেপালকে কোণঠাসা করে রেখেছিল বাংলাদেশ। কিন্তু নেপালের অধিনায়ক রাজু রিজল (৭২) প্রায় একাই লড়াই করে ২১১ রানের পুঁজি এনে ​দেন। জবাবে বাংলাদেশ ১৭ রানে হারায় প্রথম উইকেট। এরপর অদ্ভুত এক রান আউট থেকেই ছন্দপতনের শুরু। ১ উইকেটে ৬৩—ভদ্রস্থ স্কোরটা কিছুক্ষণের মধ্যেই হয়ে গেল ৪ উইকেটে ৯৮। আস্কিং রান রেটও বেড়ে প্রায় ছয়ের দিকে।

এমন চাপের মুখেই তো বেরিয়ে আসে আসল নেতার পরিচয়। মিরাজের জন্য মঞ্চ প্রস্তুত ছিল। প্রস্তুত ছিল, কেন তাঁকে অধিনায়ক হিসেবে ‘আগামীর মাশরাফি’ ভাবা হয়, সেটি বুঝিয়ে দেওয়ার। ঠান্ডা মাথায় যেন পরিকল্পিত এক ছক এঁকে সেই পথ ধরে এগিয়ে গেলেন আগের ম্যাচে যুব ওয়ানডেতে সর্বোচ্চ উইকেটের বিশ্ব রেকর্ড গড়া এই অলরাউন্ডার। এবার দেখালেন নিজের ব্যাটিংয়ের সামর্থ্য। অধিনায়ককে কাছে পেয়ে জাকির হয়ে উঠলেন আরও সাহসী।

     5935806569634833305

সময়ের দাবি মেনে কী পরিণত খেলাটাই না খেললেন দুজন! একটা সময় টানা ৭ ওভারের মতো কোনো বাউন্ডারি নেয়নি বাংলাদেশ। আবার রান রেট সাড়ে ছয়ে পৌঁছে যেতেই শুরু হলো মেরে খেলা। রান আর বলের সমীকরণ সহজ হয়ে ​যেতেই আবারও বাউন্ডারির বদলে সিঙ্গেল। এবং শেষটা হলো ৪৯তম ওভারের প্রথম দুই বলে জাকিরের পরপর চার ও ছয়ে! আর কোনো উইকেটই পড়তে দিল না এই দুজন।

সবার মধ্যে বাঁধভাঙা খুশি। কেবল সাইফউদ্দিনই নালিশ করতে পারেন। পরবর্তী ব্যাটসম্যান হিসেবে নামতে হতে পারে জন্য প্যাড-গ্লাভস-হেলমেট পরে বসেছিলেন সাইড লাইনে। প্রায় দেড় ঘণ্টা ওভাবেই বসে থাকতে হলো। তাতে সমস্যা নেই। ম্যাচ শেষে সতীর্থরা যখন সবাই মাঠে ঢুকে লাফালাফি করছিল, সাইফের কিছুটা সমস্যা তো হয়েছেই। প্যাড-ট্যাড পরে কি আর মন ভরে লাফানো যায়!

অধিনায়ক মিরাজ একটাই আশ্বাস দিতে পারেন, এরপর আর লোয়ার অর্ডারের কাউকে এত টেনশন নিতে হবে না, ঝক্কি পোহাতে হবে না। যা করার ব্যাটসম্যানরাই করবে। আজকের ম্যাচে শুধু একটু খামতি। প্রথম চার ব্যাটসম্যানের দুজন ত্রিশের ঘরে গিয়েও ইনিংসটা টেনে নিতে পারেননি। দুজন বড় অসময়ে আউট হয়েছেন দুই অঙ্ক ছোঁয়ার আগেই। স্পিনাররাও আজ বুঝে গেছেন, দক্ষিণ এশিয়ার বাইরের দলগুলোর বিপক্ষে সফল হলেও প্রতিবেশী দলগুলোর জন্য নিজেদের আরও শানিয়ে নিতে হবে। দলের চার মূল স্পিনার মিলে ১৩০ রান দিয়ে নিয়েছেন মাত্র দুটি উইকেট।

আনন্দের দিনে খাদটুকুর কথা না বললেও হতো। মিরাজদের লক্ষ্য আরও সামনে জন্যই এই জয়ে তৃপ্তি খুঁজে পাওয়ার চেয়ে ভুলগুলো শুধরে নেওয়া তো আরও বেশি জরুরি!

সংক্ষিপ্ত স্কোর
নেপাল অনূর্ধ্ব-১৯: ৫০ ওভারে ২১১/৯ (রিজল ৭২, ধামালা ২৫, আইরি ২২, তামাং ২২*, আরিফ ২১; রানা ১/৩০, সাইফউদ্দিন ২/৩৮, মিরাজ ১/৫১, সালেহ ১/৩১, আরিফ ০/২৪, সাঈদ ০/২৪, নাজমুল ০/১০)

বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯: ৪৮.২ ওভারে ২১৫/৪ (পিনাক ৩২, সাইফ ৫, জয়রাজ ৩৮, নাজমুল ৮, জাকির ৭৫*, মিরাজ ৫৫*; ধামালা ২/৩৩)।
ফল: বাংলাদেশ ৬ উইকেটে জয়ী।
ম্যান অব দ্য ম্যাচ: মেহেদী হাসান মিরাজ।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।