ঢাকাMonday , 11 April 2016
  1. অপরাধ
  2. অর্থনীতি
  3. আইন ও আদালত
  4. আন্তর্জাতিক
  5. এক্সক্লুসিভ
  6. করোনা আপডেট
  7. খুলনা
  8. খেলাধুলা
  9. গণমাধ্যম
  10. চট্টগ্রাম
  11. জাতীয়
  12. ঢাকা
  13. তথ্য-প্রযুক্তি
  14. প্রচ্ছদ
  15. প্রবাসে বাংলাদেশ

সাজি বৈশাখী বেশে

Link Copied!

বাংলার কন্ঠস্বরঃ

বর্ষপঞ্জিতে যুক্ত হচ্ছে আরও একটি নতুন বাংলা বছর—১৪২৩। বাংলা নববর্ষ মানে তো শুধু নতুন একটি বছরের গণনা শুরু হওয়া নয়, বাঙালির দারুণ এক উৎসবের উপলক্ষ। নানা আয়োজনে পয়লা বৈশাখ উৎসবমুখর হয়ে ওঠে, আর সে জন্য এখনই প্রস্তুতি চারদিকজুড়ে। রমনার বটমূল আর চারুকলার মঙ্গল শোভাযাত্রা—ঢাকাতেই শুধু নয়, বর্ষবরণের এই ব্যাপকতা সারা দেশে। বর্ষবরণের আনন্দের ব্যাপ্তি এখন ছড়িয়ে দেয় উৎসবের বন্যা।
উৎসবটা এক দিনের। তবে এর প্রস্তুতি চলতে থাকে আগের মাসজুড়ে। সামর্থ্য যা-ই হোক না কেন, এই দিনে একটা নতুন পোশাক গায়ে না জড়ালে যেন বর্ষবরণের আনন্দই অপূর্ণ থেকে যায়। এখন তো শুধু পোশাকই নয়, সাজসজ্জা, খাবারদাবার থেকে অন্দরসাজ—সবকিছুতেই থাকা চাই বৈশাখী ছোঁয়া। তাই তা চৈত্রের প্রখর রোদের দহন, চারুকলার মঙ্গল শোভাযাত্রার প্রস্তুতিই নয়, প্রতিবছর ঘটা করে যে বাঙালির জীবনে আসে পয়লা বৈশাখ, রাজধানীর বুটিক হাউস আর শপিং মলগুলো তো ঢুঁ মারলেই পাওয়া যায় তার রেশ।
বাজার ঘুরে দেখা গেল, শুধু শাড়ি, সালোয়ার-কামিজই নয়, ফ্যাশন বাজারজুড়ে থাকছে নানা ঢং আর নকশার বৈচিত্র্যময় পোশাকের আয়োজন। কতই-না নান্দনিকতা এই পোশাকের ক্যানভাসকে ঘিরে। গামছা, আলপনা, শখের হাঁড়ি, লক্ষ্মীর সরা, মাটির প্রদীপ, মুখোশ, রিকশা—লোকজ মোটিফের কোনোটাই বাদ পড়েনি পোশাকের নকশা থেকে। রঙের ক্ষেত্রে লাল-সাদার পাশাপাশি থাকছে বেগুনি, বাদামি, হলুদ, নীলের মতো উজ্জ্বল রংও। তবে শাড়ি, সালোয়ার-কামিজের সঙ্গে সঙ্গে ফতুয়া, কুর্তা, স্কার্ট এমনকি দেশীয় কাপড়ে তৈরি গাউন ধাঁচের পোশাকও দেখা যাচ্ছে এবার। এসব পোশাকে রং, নকশা আর কাটছাঁটে মিলবে নতুনত্ব। সালোয়ার-কামিজ, ফতুয়া বা কুর্তার মতো পোশাকগুলোর প্যাটার্নে থাকবে নানা পরীক্ষণের ছোঁয়া, এমনটাই জানালেন কয়েকজন নকশাবিদ।

ছবি: কবির হোসেন

পয়লা বৈশাখ সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে শুরু হয় বাঙালির বর্ষবরণের আনুষ্ঠানিকতা। ভোরবেলায় লাল পাড় সাদা গরদের শাড়িতে হাতভর্তি লাল চুড়ি আর খোঁপায় বেলি ফুলের মালা পরে সবাই সেজে উঠত বৈশাখী সাজে। একটা সময় পর্যন্ত এই সাজই ছিল বৈশাখী সাজের পরিচায়ক। ডিজাইনার এমদাদ হক জানান, এরপর শাড়ির নকশায় যুক্ত হতে থাকে নানা ধরনের ব্লকপ্রিন্ট, বাটিক আর হাতের কাজ। চার-পাঁচ বছর ধরে শুধু সাদা-লাল নয়, অন্যান্য রং জনপ্রিয়তা পেতে শুরু করেছে বৈশাখী ভূষণে। বর্ষবরণের উৎসব এখন ভোর-সকাল ছাড়িয়ে সারা দিন, এমনকি রাতেও থাকে। একেক বেলায় তাই দেখা যায় ভিন্ন ভিন্ন পোশাক পরার চল।
পোশাকে এই যে ভিন্নতা আর এত রঙের বৈচিত্র্য, এটা কিন্তু বৈশাখী সাজের চিরায়ত ধারা থেকে বের হয়ে আসা নয়, বরং দেশীয় পোশাকের জগতে এ এক নতুন সংযোজন, এমনটাই মনে করেন বিবিয়ানার ডিজাইনার লিপি খন্দকার। বিবিয়ানায় কোনো একটি প্যাটার্নে নয়, বরং একই পোশাকে ব্যবহৃত হচ্ছে নানা ধরনের প্যাটার্ন। কুর্তা বা কামিজে বাড়ছে পেছনের দৈর্ঘ্য, সামনের দিকে দৈর্ঘ্যটা হয়তো থাকছে হাঁটু পর্যন্ত। ফতুয়ার নিচের অংশে জুড়ে দেওয়া হচ্ছে বাড়তি ঘের। কোনো কোনো ক্ষেত্রে কামিজ বা কুর্তার নকশা নয়, প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে পালেজ্জো বা সালোয়ারের নকশা। যেমন কামিজ বা কুর্তায় কোনো কাজ না রেখে শুধু সালোয়ারের নকশায় আনা হচ্ছে বৈশাখী আমেজ। একইভাবে পোশাকের সামনের দিকটা ফাঁকা রেখে পেছনে পুরোটায় জুড়ে দেওয়া হচ্ছে নকশা। তাসের দেশ, যেমন সাদা তাসের ওপর লাল যে সাইন দেখা যায়, সেটা হচ্ছে এবারের বিবিয়ানার বৈশাখী মোটিফ।

ছবি: কবির হোসেন

গ্রামের বর্ষবরণ মানে তো বৈশাখী মেলা। বৈশাখী মেলার এই যে রং-রূপ, তা যদি তুলে ধরা হয় পোশাকের ক্যানভাসে, তাহলে কেমন হয়? মেলার এই রংগুলোই এবার ধরা পড়বে দেশালের পোশাকে। দেশালের ডিজাইনার ইসরাত জাহান জানান, নানা ধরনের বৈচিত্র্যময় লোকজ শিল্প স্থান পায় এসব গ্রামীণ মেলায়। এসব পণ্যে যে কটকটে উজ্জ্বল রঙের ব্যবহার করা হয়, সেই রংগুলোকেই তাঁরা তুলে ধরেছেন পোশাকে। যেমন : শখের হাঁড়ির লাল রং, লক্ষ্মীর সরার হলুদ রং, বাঁশির বাদামি রং, টেরাকোটার পোড়া মাটির রং প্রাধান্য পাচ্ছে এবার। ‘এই দিনটা যেহেতু সারা দিনই ঘোরাঘুরিতে কাটে, সে জন্য সুতি কাপড় বেছে নিয়েছি আমরা। শাড়ি আর সালোয়ার-কামিজের পাশাপাশি থাকছে ফতুয়া, কুর্তা, বেশি ঘেরের ধুতি-সালোয়ারের আয়োজন। তবে পোশাকের রঙের এত ভিন্নতা থাকলেও লাল রংটাকেই বেশি প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে।’ বলেন ইসরাত জাহান।
গামছায় তো উজ্জ্বল রঙের ব্যবহারই প্রচলিত, তবে সেই ধারণাতে যুক্ত হচ্ছে নতুনত্ব। সাদা আর কালো এই দুটি রঙের গামছায় যে ফুটে উঠতে পারে বৈচিত্র্য, সেটাই এবার সাদাকালো তুলে ধরেছে তাদের পোশাকে। দেশি পোশাকের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে নানা ধরনের ফিউশন। গাউন, ম্যাক্সি ড্রেস, হাতাকাটা টপ, স্কার্ট দেখা যাবে তাদের বৈশাখী আয়োজনে। বৈশাখের দিন যেহেতু খুব গরম থাকে, তাই পোশাকের আরামদায়কের বিষয়টিও মাথায় রেখেছে সাদাকালো।
কয়েক বছর ধরেই পোশাকের নকশায় জনপ্রিয় ছিল রিকশা পেইন্টের কাজ। তবে এবার একটু নতুনত্ব আনতে সরাসরি রিকশা পেইন্টিং নয়, এই ছবিতে যে জ্যামিতিক নকশা ব্যবহার করা হয়, তারই ব্যবহার দেখা গেল অঞ্জন’সের পোশাকে। এখন বৈশাখ মানেই দিনরাত্রির আয়োজন। অঞ্জন’সের শাহীন আহমেদ জানান, পোশাকের কাপড়, রং আর উপাদান ব্যবহারের ক্ষেত্রে এই বিষয়গুলো মাথায় রেখেছেন তাঁরা। সকালে যে পোশাকটা পরা হোক না কেন, তার কাপড়টা সুতি হওয়া সবচেয়ে ভালো। বিকেলের দিকে বেছে নেওয়া যেতে পারে ফিউশনধর্মী উজ্জ্বল রঙের পোশাক আর রাতের জন্য সিল্ক, হাফ সিল্ক, লিনেন ও মসলিনের কাপড় বেছে নেওয়াই ভালো বলে জানান এই ডিজাইনার।
ডিজাইনার মাহিন খান জানান, আগে তো এই উৎসব পালনের রীতি এত জমজমাট ছিল না। তাই পোশাকের আয়োজনও হতো সীমিত আকারে। তবে এখন বৈশাখ মানেই এক সর্বজনীন উৎসব। পোশাকের নকশায় যাতে একঘেয়েমি না আসে, তার জন্যই পোশাকে এত বৈচিত্র্যময় আয়োজন। এ ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক ফ্যাশন অঙ্গনে যে ধারা চলছে, তারও একটা প্রভাব দেখা যায়। কারণ, ইন্টারনেটের এই যুগে নতুন প্রজন্মের কাছে খুব সহজেই পৌঁছে যাচ্ছে এসব পোশাকের ধারণা। তাই দেশীয় পোশাককে কিছুটা ট্রেন্ডি করতেই পোশাতে আনা হয় এই ভিন্নতা। সেটাকে উপস্থাপন করা হয় একেবারেই দেশীয় ঘরানায়। তবে পোশাকের রং আর নকশা যা-ই হোক না কেন, পয়লা বৈশাখের দিন সুতি, তাঁত বা খাদির কাপড় পরার পরামর্শ দিলেন এই নকশাবিদ।

সারা বছরই পয়লা বৈশাখের অপেক্ষায় থাকি
নূসরাত ফারিয়া

ছবি: কবির হোসেন

এখন শুটিংয়ে ব্যস্ততা এত বেশি থাকে যে নিজের মতো করে সাজার সুযোগটা একবারেই পাই না। সারা বছরই তাই নিজের সংস্কৃতির উৎসবগুলোর জন্য অপেক্ষা করি। ছোটবেলা থেকেই পয়লা বৈশাখে ঐতিহ্যবাহী সাজে সাজতেই বেশি ভালো লাগে। এবার হয়তো কাজের কারণে দেশে থাকা হবে না। তবে যেখানেই থাকি না কেন, সুযোগ পেলেই এই দিনে শাড়ি পরার চেষ্টা করি। সুতি শাড়িটা একেবারেই সামলাতে পারি না। তবে বিশেষ দিন বলে কথা। চুলে মাঝবরাবর সিঁথি করা আমার পরিবারের লোকজনের একেবারেই পছন্দ নয়। তবে পয়লা বৈশাখের দিন চুলের মাঝে সিঁথি করি। শাড়ির সঙ্গে মিলিয়ে কানে পরি ঝুমকা আর হাতে থাকে চুড়ি। এদিন মেকআপ খুব একটা বেশি ভালো লাগে না। এ জন্য শুধু চোখে দিই ঘন মাসকারা আর ঠোঁটে থাকে লাল লিপস্টিকের পরশ। এ ছাড়া চুলে বেলির গাজরা আর ছোট একটি টিপেই পূর্ণতা পায় আমার বৈশাখী সাজ।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।