ঢাকাTuesday , 5 January 2016
  1. অপরাধ
  2. অর্থনীতি
  3. আইন ও আদালত
  4. আন্তর্জাতিক
  5. এক্সক্লুসিভ
  6. করোনা আপডেট
  7. খুলনা
  8. খেলাধুলা
  9. গণমাধ্যম
  10. চট্টগ্রাম
  11. জাতীয়
  12. ঢাকা
  13. তথ্য-প্রযুক্তি
  14. প্রচ্ছদ
  15. প্রবাসে বাংলাদেশ

সৌদি-ইরান অশান্তি ও সিরিয়া-ইয়েমেন শান্তি

Link Copied!

বাংলার কন্ঠস্বরঃ সৌদি আরব বলছে ইরানের সাথে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করার কারণে সিরিয়া এবং ইয়েমেনের মধ্যে শান্তি আলোচনা অব্যাহত রাখার প্রক্রিয়াতে কোন সমস্যা হবে না। কিন্তু মজার বিষয় হচ্ছে, এই শান্তি আলোচনায় সৌদি এবং ইরান বিপরীত পক্ষকে অর্থাৎ সৌদি সিরিয়াকে এবং ইরান ইয়েমেনকে সমর্থন করছে।

সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদ থেকে গত রবিবার ইরানের সাথে সমস্ত কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করা হয়। শিয়া নেতা নিমর আল-নিমরসহ আরও ৪৬ জনকে সন্ত্রাসের অপরাধে মৃত্যুদণ্ড দেয়ায় সৌদির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে গিয়ে যখন বিক্ষোভকারীরা ইরানের সৌদি দূতাবাসে আগুন দেন এবং ভাঙচুর চালান তখন সৌদি দুই দেশের সম্পর্কে ইতি টানেন।

জাতিসংঘের স্থায়ী সৌদি প্রতিনিধি আবদুল্লাহ আল-মুয়াল্লিমি গত সোমবার নিউইয়র্কে সাংবাদিক বলেন, ‘তেহরানের সাথের সৌদির এই কলহ সিরিয়া এবং ইয়েমেনের যুদ্ধাবসানের উপর কোনো প্রভাব ফেলবে না। আমরা প্রাণপণে চেষ্টা চালিয়ে যাব যাতে সিরিয়া এবং ইয়েমেনে শান্তি ফিরে আসে।’

তিনি আরও বলেন, ‘কিন্তু ইরান এই প্রসঙ্গে কেমন আচরণ করবে সেটা আমি বলতে পারছিনা, সেটা ইরানই ভালো জানে। কারণ ইতিপূর্বে তারা এই শান্তি আলোচনাকে ঘিরে অনেক উস্কানিমূলক এবং নেতিবাচক কথাবার্তা বলেছে এবং এখন যেহেতু আমাদের সাথে সম্পর্কচ্ছেদ হয়েছে, সেহেতু তাদের আচরণ যে ইতিবাচক হবে তা আমার মনে হয় না।’

যদিও ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় অভিযোগ তুলেছে সৌদি আরব তেহরানের দূতাবাস হামলার ঘটনাকে তেল নিয়ে সৃষ্ট উত্তেজনার একটা অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করছে। অর্থাৎ খুব শিগগিরই ইরানের তেল বাণিজ্যের নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়া হলে সেটা সৌদির রাজস্ব আয়ে প্রভাব ফেলবে।

সিরিয়া এবং ইয়েমেন শান্তি আলোচনায় আসল খেলোয়াড় হচ্ছে সৌদি আরব এবং ইরান। সৌদি এখানে শিয়া বিদ্রোহী দল হুথির বিরুদ্ধে যুদ্ধ করছে এবং ইরানের ভূমিকা ঠিক উল্টো। কাজেই দ্বন্দ্বটা আসলে গোড়ায় গিয়ে দাঁড়িয়েছে শিয়া ও সুন্নির মধ্যে। কাজেই সৌদি যতই বলুক সিরিয়া ও ইয়েমেনর শান্তিতে এর প্রভাব পড়বে না, বাস্তবে সেটা হওয়ার সম্ভবনা একেবারেই নেই।

সৌদি এবং ইরানের মধ্যে যে উত্তেজনা এবং কলহ শুরু হয়ে সেটা শুধু তাদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই। হঠাৎ করে ছড়িয়ে পড়েছে গোটা মধ্যপ্রাচ্যে। এটা পশ্চিমাদের জন্য উদ্বেগের বিষয়। সৌদির দেখাদেখি বাহরাইন এবং তারপর সুদান ও আরব আমিরাত কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করেছে ইরানের সাথে। যে কারণে জাতিসংঘ মহাসচিব বান কি মুন সোমবার সৌদি এবং ইরান উভয় দেশের কার্যক্রম নিয়ে সমালোচনা করেন। মার্কিন সরকারের তরফ থেকেও এই উত্তেজনা কমানোর জন্য সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দেয়া হয়েছে।

কিন্তু মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা কমছে না বরং বেড়েই চলছে। ইরানে হাজারো বিক্ষোভকারী সৌদির রাজপরিবারের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করছেন, আবার ইরাকেও সৌদির নিমর মৃত্যুদণ্ডের সিদ্ধান্তকে নিন্দা জানানো হচ্ছে। কিন্তু মিশর আবার সুদান, বাহরাইন এবং আরব আমিরাতের মত পক্ষ নিচ্ছে সৌদি আরবের এবং নিন্দা করছে ইরানের। মধ্যপ্রাচ্য যেন ভাগ হয়ে যেতে শুরু করেছে।

অতীতে অনেকবার দেখা গেছে যে, সংঘাতের উৎপত্তির প্রকৃত কারণ একটা পর্যায়ে আর মুখ্য বিষয় থাকেনা। সেখানে এসে যোগ হয় মানুষের ব্যক্তিগত স্বার্থ এবং রেষারেষি। শুরু হয়ে যায় আরও বড় যুদ্ধ। পৃথিবীতে এ পর্যন্ত যতগুলো মহাযুদ্ধ বেঁধেছে তার গোঁড়ায় গিয়ে দেখা যায় এমন সব কারণের যেটা পরে আর মানুষ মনে রাখেনি। ক্ষমতাসীনরা অনায়াসে যুদ্ধ বাঁধাতে পারেন কিন্তু শেষ পর্যন্ত তার ভয়াবহ পরিণতি ভোগ করতে হয় সাধারণ মানুষকে।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।