ঢাকাWednesday , 10 February 2016
  1. অপরাধ
  2. অর্থনীতি
  3. আইন ও আদালত
  4. আন্তর্জাতিক
  5. এক্সক্লুসিভ
  6. করোনা আপডেট
  7. খুলনা
  8. খেলাধুলা
  9. গণমাধ্যম
  10. চট্টগ্রাম
  11. জাতীয়
  12. ঢাকা
  13. তথ্য-প্রযুক্তি
  14. প্রচ্ছদ
  15. প্রবাসে বাংলাদেশ

ডেন্টিস্ট্রি গ্র্যাজুয়েটের চোখে অন্ধকার

Link Copied!

তিনি জীবন নিয়ে হতাশ। বললেন, অন্ধকারে আছি। ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় সনদ দিয়েছে। স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেও প্রকৃত মর্যাদা পাচ্ছি না। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪৮তম সমাবর্তন থেকে এই সনদ নিয়েছেন উসমান গণি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে তিনি পাস করেছেন। বলছেন এই সনদ দিয়ে কোনো লাভ হবে না। প্রফেশনাল কোর্সে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেও প্রকৃত মর্যাদা পাচ্ছেন না। আবার এই সনদ দেখলেও বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠানও নাক সিঁটকায়। অপমান করে। তাহলে কোথায় যাবো? কেন আমাদেরকে এই সনদ দেয়া হলো? প্রাইভেট প্র্যাকটিসের সুযোগও নেই। গোপনে প্র্যাকটিস করলেও পুলিশ ধরে নিয়ে গেলে অপমান সইতে পারবো না। কোনো চাকরি নেই এই সনদে।
শুধু উসমান নয়, এরকম প্রায় সাড়ে চার হাজার গ্র্যাজুয়েট আজ অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ নিয়ে হতাশ সময় পার করছেন। তারা বলছেন, তার চেয়ে আমাদের গলা টিপে মেরে ফেললেই ভালো হয়। আমরাও বাঁচি, পরিবারও বাঁচবে। ‘বিএসসি ইন হেলথ টেকনোলজি (ডেন্টিস্ট্রি) কোর্সের শিক্ষার্থীরা সংশ্লিষ্ট বিষয়ে চার বছরের স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেও প্রকৃত মর্যাদা পাচ্ছেন না। ঢাকা, রাজশাহী ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসা অনুষদের ‘বিএসসি ইন হেলথ টেকনোলজি (ডেন্টিস্ট্রি) কোর্সের শিক্ষার্থীরা সংশ্লিষ্ট বিষয়ে চার বছরের স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেও প্রকৃত মর্যাদা পাচ্ছেন না। ক্লিনিক্যাল কোর্স পড়িয়ে শিক্ষার্থীদের দেয়া হচ্ছে টেকনিশিয়ানের সার্টিফিকেট। ফলে দন্ত চিকিৎসা সংশ্লিষ্ট এই ডিগ্রিধারীদের কোনো প্রকার প্র্যাকটিসের সুযোগ না থাকায় তারা কর্মক্ষেত্রে কূলকিনারা পাচ্ছেন না। জানা গেছে, এ অবস্থায় একদিকে যেমন স্নাতক পাস করেও হুমকির মুখে পড়ছে শিক্ষার্থীদের পেশাগত জীবন, অন্যদিকে বাড়ছে শিক্ষিত বেকার। সেই সঙ্গে সম্ভাবনাময় চিকিৎসা সেবা থেকেও বঞ্চিত হচ্ছেন মানুষ। কোর্স সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, কোর্সটির গোড়া থেকে চলে আসা এই সংকট নিয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী থেকে শুরু করে সরকারের উপরিমহলের সবাই একমত পোষণ করলেও, সমস্যা সমাধানে কার্যকর উদ্যোগ নিচ্ছেন না কেউ। শিক্ষার্থীরা বলছেন, বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিল (বিএমডিসি)-এর অন্তর্ভুক্তির মাধ্যমে তাদের প্র্যাকটিস তথা কর্মসংস্থানের সুযোগ না দিলে কোনো মূল্যই থাকবে না এ ডিগ্রির। তাদের যৌক্তিক আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে সরকারের পক্ষ থেকে বেশ কয়েকবার উদ্যোগ নেয়া হলেও শেষ পর্যন্ত রহস্যজনকভাবে ভেস্তে গেছে এর কার্যকারিতা।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, স্বাধীনতার পর থেকে প্রচলিত ডেন্টাল কোর্সে (বিডিএস) ডিপ্লোমা ডেন্টাল ডিগ্রিধারী মেধাবীদের ভর্তির সুযোগ দেয়া হতো। কিন্তু ১৯৮২-১৯৮৩ সালের পর থেকে হঠাৎ করে কোনো প্রকার সরকারি আদেশ ছাড়াই বিডিএস কোর্সে ডিপ্লোমা ডেন্টাল শিক্ষার্থীদের ভর্তির সুযোগ বন্ধ করে দেয়া হয়। এরপর অদম্য চাহিদার ভিত্তিতে ২০০৪-০৫ সেশন থেকে প্রথমবারের মতো ঢাকা, রাজশাহী ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে বেসরকারিভাবে ডিপ্লোমা ডেন্টাল শিক্ষার্থীদের জন্য বিএসসি ইন ডেন্টাল টেকনোলজি (ডেন্টিস্ট্রি) কোর্সটি চালু করা হয়। এই কোর্সটিই পরে ২০১১-১২ সেশন থেকে সরকারিভাবে চালু হয়। কিন্তু কোর্সের নাম ডেন্টাল টেকনোলজি হলেও এর আওতায় পড়ানো হয় ক্লিনিক্যাল বিষয় নিয়ে। অর্থাৎ একজন বিডিএস কোর্সের শিক্ষার্থীকে যা যা পড়ানো হয় এই ডেন্টাল টেকনোলোজি কোর্সের শিক্ষার্থীদেরও তাই পড়ানো হয়। একাডেমিক সিলেবাস বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, চার বছর মেয়াদি কোর্সটিতে তিন বছর একাডেমিক ও এক বছর ইনকোর্স ট্রেনিং করানো হয়। এখানে শিক্ষার্থীদেরকে দন্ত চিকিৎসার ওপর এনাটমি, ফিজিওলজি, মাইক্রোবাইওলজি, প্যাথলজি ওরাল অ্যান্ড ডেন্টাল এনাটমি, অর্থডোন্টিক, ওরাল প্যাথলজি, ওরাল মেডিসিন ডেন্টাল কেমিস্ট্রি, চিলড্রেন ডেন্টিস্ট্রি, সার্জারি, জেনারেল অ্যান্ড ডেন্টাল ফার্মালজি, কনজারভেটিভ অ্যান্ড রেডিওলজির মতো বিডিএস কোর্স পড়ানো হয়। এমনকি শিক্ষার্থীদের ক্লাস, পরীক্ষা ও হাতে-কলমে প্রশিক্ষণও  দেন এমবিবিএস ও বিডিএস চিকিৎসকরা। এ ছাড়া এক বছর ইনকোর্স ট্রেনিংয়ের মাধ্যমে এই কোর্সের শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন সরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ডেন্টাল ইউনিট ও ডেন্টাল কলেজের বিভিন্ন বিভাগ থেকে ডায়াগনসিস, কনজারভেটিভ, সার্জারি, প্রস্থডোন্টিক, অর্থডোন্টিক ও চিলড্রেন ডেন্টিস্ট্রিসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে সরাসরি প্রশিক্ষণের সুযোগ পান। অথচ তারপরও কোর্স শেষে পান ডেন্টাল টেকনিশিয়ানের মর্যাদা। এমনকি এই নামের কারণেই বিএমডিসি কর্তৃক নিবন্ধিত হতে পারছে না কোর্সটি। ফলে ডেন্টিস্ট বা দন্ত চিকিৎসক হিসেবে প্র্যাকটিসের সুযোগ পাচ্ছেন না স্নাতক ডিগ্রিধারী এই শিক্ষার্থীরা। এমনকি উচ্চশিক্ষার জন্য দেশে-বিদেশে আবেদন করতে গেলেও সাড়া পান না তারা। সেখান থেকে বলা হয়, এই কোর্সটির বিষয়ে তারা পরিষ্কার নয়। কোর্সের নাম এবং সিলেবাসের মধ্যে কোনো সামঞ্জস্যতা খুঁজে পাচ্ছেন না বলেও তারা জানান।
কোর্সটি চালুর কয়েক বছর পর থেকেই কর্মক্ষেত্রে তিক্ত অভিজ্ঞতার জের ধরে আন্দোলন শুরু করেন সংশ্লিষ্ট কোর্সের শিক্ষার্থীরা। তাদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে উল্লেখযোগ্য উদ্যোগও গ্রহণ করে কর্তৃপক্ষ। এর মধ্যে ২০১৩ সালের ২১শে জানুয়ারি নয় সদস্যের একটি বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠন করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। কমিটি কোর্সটির নাম পাল্টে ‘ব্যাচেলর অব ডেন্টিস্ট্রি’ অথবা ‘বিএসসি ইন ডেন্টিস্ট্রি’ করার সুপারিশ করে। একই সঙ্গে বিএমডিসি কর্তৃক নিবন্ধনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের ডেন্টিস্ট হিসেবে প্র্যাকটিসের সুযোগ দেয়ারও সুপারিশ করেন কমিটির সদস্যরা। কিন্তু পরবর্তী সময়ে রহস্যজনকভাবে এ সুপারিশ ফের প্রত্যাহার করে নেয় কমিটি। এরপর আবারও আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে গত বছর ১৩ই অক্টোবর স্বাস্থ্য সচিবের কাছে শিক্ষার্থীদের দাবির পক্ষে সুপারিশ করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। এরই পরিপ্রেক্ষিতে ৩০শে অক্টোবর অতিরিক্ত সচিব আইয়ুবুর রহমানের সভাপতিত্বে মন্ত্রণালয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ সভা হয়। সভায় পুনরায় একটি কমিটি গঠন করা হয়। এ কমিটিও শিক্ষার্থীদের পক্ষে সুপারিশ করে। অথচ সবাইকে অবাক করে দিয়ে এবার কোর্সের নাম পরিবর্তনের বদলে সিলেবাস পরিবর্তনের একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।
এ বিষয়ে বিএমডিসির রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ডা. বসুনিয়া মানবজমিনকে বলেন, আমাদের অ্যাক্ট এবং ক্ষমতা অনুযায়ী আমরা ওই কোর্সের শিক্ষার্থীদের প্রাইভেট প্র্যাকটিসের নিবন্ধন দিতে পারি না। তবে, সরকার যদি মনে করে তাহলে আইন সংশোধন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিলে সেটি করতে আমরা বাধ্য থাকবো। তিনি আরও জানান, অনেক আগে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়  চিঠি দিয়ে আমাদের কাছে এই কোর্সের বিষয়ে মতামত জানতে চেয়েছিল। বিএমডিসি থেকে জানিয়ে দেয়া হয় অ্যাক্ট-এ এই কোর্সের বিষয় উল্লেখ নেই।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (চিকিৎসা শিক্ষা) অধ্যাপক ডা. আবদুর রশিদ এ প্রসঙ্গে মানবজমিনকে বলেন, অনেক কোর্স বিএমডিসির অনুমোদন নেই। তাই তারা  প্র্যাকটিসের স্বীকৃতি দেয় না। তিনি বলেন, আমার মনে হয়ে তাদের কাছের অনুমোদন নেই। আর এই মুহূর্তে তাদেরকে অনুমোদন দেয়ার চিন্তা-ভাবনা নেইও বলে তিনি উল্লেখ করেন। বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডিগ্রি নিলেই অনুমোদন দিতে হবে এমন কোনো কথা নয় বলে ডা. আবদুর রশিদ মন্তব্য করেন।
এদিকে, বিএসসি ডেন্টাল স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের যুগ্ম আহ্বায়ক উত্তম কুমার মানবজমিনকে বলেন, আমাদের দাবি যদি অযৌক্তিকই হয়, তবে হঠাৎ করে সিলেবাস পরিবর্তনের বিষয় এলো কেন? তিনি বলেন, আমাদের প্রাইভেট প্র্যাকটিস রেজিস্ট্রেশন দিতে তো আর বিএমডিসির টাকা লাগছে না। তাহলে বেকারত্বের বোঝা থেকে যুব ও তরুণ গ্র্যাজুয়েটদের মুক্তি দিতে এত দ্বিধা কেন তাদের? অ্যাসোসিয়েশনের অপর এক শিক্ষার্থী বলেন, বিডিএস ডিগ্রিধারী ও আমাদের কোর্সের মান একই হবে এই ‘ইগো প্রবলেম’ থেকেই বারবার আমাদের যৌক্তিক দাবিটি ষড়যন্ত্রকারীরা নস্যাৎ করে দিয়েছে। তিনি বলেন, বিষয়টি নিয়ে আন্দোলন করতে গিয়ে ২২ জন শিক্ষার্থী মামলার হাজিরা দিতে আদালত পাড়ায় ঘুরছেন। ক্লাসে যেতে পারছেন না। আর গত বছর থেকে এই কোর্সে  ছাত্রছাত্রী ভর্তিও বন্ধ করে দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। শিক্ষা প্রতিষ্ঠাগুলো হচ্ছে-রাজধানীর মহাখালী সরকারি ইনস্টিটিউট অব হেলথ টেকনোলজি, মিরপুর বেসরকারি ইনস্টিটিউট অব মেডিকেল টেকনোলজি, ধানমন্ডির স্টেট কলেজ অব হেলথ সায়েন্স সহ সাতটি। এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে ইতিমধ্যে এক হাজার গ্র্যাজুয়েট এবং আরও আড়াই হাজার গ্র্যাজুয়েট হওয়ার পথে রয়েছেন বলে শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।