প্রিন্ট এর তারিখঃ এপ্রিল ১৮, ২০২৬, ৯:২৮ পি.এম || প্রকাশের তারিখঃ জুন ৩, ২০২৫, ৩:৫৯ পি.এম
আত্মহত্যা নিয়ে ইসলাম কী বলে

মহান আল্লাহ জীবন দিয়েছেন। মৃত্যুও তিনিই দেবেন। যত দুঃখ-কষ্টের মধ্য দিয়েই যান- এর অধিকার আল্লাহ কাউকেই দেননি। এটি করা ইসলামে হারাম। ইসলামে এর কোনো স্থান নেই।
মহান আল্লাহ পবিত্র কোরআনে বলেন,
তোমরা আত্মহত্যা করো না। নিঃসন্দেহে আল্লাহ তোমাদের প্রতি দয়ালু। (সুরা নিসা, আয়াত: ২৯)
নবীজি সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আত্মহত্যা করার ভয়াবহ শাস্তি উল্লেখ করে বলেন,
যে ব্যক্তি পাহাড়ের ওপর থেকে লাফিয়ে পড়ে আত্মহত্যা করে, সে জাহান্নামের আগুনে পুড়বে, চিরদিন সে জাহান্নামের মধ্যে অনুরূপভাবে লাফিয়ে পড়তে থাকবে। যে ব্যক্তি বিষপান করে আত্মহত্যা করবে, জাহান্নামে বিষ তার হাতে থাকবে, সে বিষ বারবার সে পান করতে থাকবে। আর কষ্ট পেতেই থাকবে। চিরকাল সে জাহান্নামের মধ্যে তা পান করতে থাকবে, যে ব্যক্তি লোহার আঘাতে আত্মহত্যা করবে, সে জাহান্নামের মধ্যে লোহা তার হাতে থাকবে, চিরকাল সে তার মাধ্যমে নিজের পেটে আঘাত করতে থাকবে। (বুখারি: ৫৪৪২; নাসায়ি: ১৯৬৪)
বিখ্যাত সাহাবি হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে আছে, নবীজি সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,
যে ব্যক্তি ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করবে, সে জাহান্নামে (অনুরূপভাবে) নিজেকে ফাঁস লাগাতে থাকবে আর যে ব্যক্তি বর্শার আঘাতে আত্মহত্যা করবে, সে জাহান্নাম (অনুরূপভাবে) বর্শা বিঁধতে থাকবে। (বুখারি: ১৩৬৫)
আত্মহত্যাকারী কি চিরস্থায়ী জাহান্নামি?
উপর্যুক্ত হাদিসের মাধ্যমে আত্মহত্যাকারী চিরস্থায়ী জাহান্নামি বলে মনে হচ্ছে। কিন্তু বিষয়টি আসলে এমন নয়। বরং আত্মহত্যাকারী ব্যক্তি যদি ঈমানদার হয়, আর ঈমানের সাথেই যদি মৃত্যুবরণ করে থাকে, তাহলে সে চিরস্থায়ী জাহান্নামি হতে পারে না। চিরস্থায়ী জাহান্নামি হবে কেবল কাফের-মুশরিকরা। কোনো মুসলমান চিরস্থায়ী জাহান্নামি হতে পারে না। তবে দীর্ঘস্থায়ী জাহান্নামি হতে পারে।
এ হাদিসের উদ্দেশ্যও এটাই। আরবের পরিভাষায় خالدا مخلدا শব্দ, যার অনুবাদ করা হয়, ‘চিরকাল’ মূলত এর মাধ্যমে আরবের লোকেরা কখনও কখনও দীর্ঘস্থায়ী অবস্থাকে বুঝিয়ে থাকেন। এ হাদিসের উদ্দেশ্যও দীর্ঘস্থায়ী হওয়া। চিরস্থায়ী হওয়া নয়। (শরহুল বুখারি লি ইবনে বাত্তাল, উমদাতুল কারি)
সম্পাদক : মো: রাকিবুল হাছান(ফয়সাল)।
Copyright © 2024 Banglarkonthosor 24.com. All rights reserved.