গৌরনদী প্রতিনিধি।।
জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পরপরই দেশব্যাপী উপজেলা পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার জোরালো সম্ভাবনা দেখা দেওয়ায় সারাদেশের মতো বরিশালের গৌরনদীতেও বইতে শুরু করেছে নির্বাচনী হাওয়া। দক্ষিণাঞ্চলের প্রবেশদ্বার হিসেবে খ্যাত গুরুত্বপূর্ণ এই উপজেলাজুড়ে এখন চায়ের দোকান থেকে শুরু করে রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গন সবখানেই সম্ভাব্য প্রার্থীদের নিয়ে চলছে আলোচনা, বিশ্লেষণ ও ব্যাপক জল্পনা-কল্পনা। আর এই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছেন বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ, বিশিষ্ট সমাজসেবক ও বিএনপির ত্যাগী নেতা আলহাজ্ব আবুল হোসেন মিয়া।
উপজেলা চেয়ারম্যান পদে নিজের বলিষ্ঠ প্রার্থিতার ঘোষণা দিয়ে ইতোমধ্যেই তিনি তৃণমূল নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের মাঝে ব্যাপক সাড়া ফেলেছেন। দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, মানবিক নেতৃত্ব, সাংগঠনিক দক্ষতা, সামাজিক অবদান এবং দলীয় নেতাকর্মীদের প্রতি অভিভাবকসুলভ আচরণের কারণে তার গ্রহণযোগ্যতা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে বলে স্থানীয়দের অভিমত।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর প্রায় ৩ যুগ গৌরনদী উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক এবং পরবর্তীতে আহ্বায়কের দায়িত্ব পালনকারী এই নেতা বর্তমানে বরিশাল উত্তর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সিনিয়র সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে তিনি শুধু একজন দক্ষ সংগঠকই নন, বরং একজন সাহসী, সৎ, মানবিক ও দায়িত্বশীল নেতৃত্ব হিসেবেও সুপরিচিত।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে তিনি দলের সাংগঠনিক কার্যক্রমে সক্রিয় ও নিবেদিত ভূমিকা পালন করে আসছেন। তৃণমূল নেতাকর্মীদের সঙ্গে তার নিবিড় সম্পর্ক ও নিয়মিত যোগাযোগ তাকে একটি শক্তিশালী সাংগঠনিক ভিত্তি গড়ে তুলতে সহায়তা করেছে। বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামে নেতৃত্ব দিয়ে তিনি মাঠপর্যায়ের নেতাকর্মীদের আস্থা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছেন।
বিশেষ করে বিগত স্বৈরাচার সরকারের আমলে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা যখন হামলা-মামলা, নির্যাতন ও দমন-পীড়নের শিকার হন, তখন আলহাজ্ব আবুল হোসেন মিয়া ছিলেন তাদের অন্যতম নির্ভরতার প্রতীক। একাধিক নেতাকর্মী জানান, তিনি শুধু আইনি সহায়তা ও চিকিৎসা ব্যয় বহনই করেননি, বরং কারাবন্দি নেতাকর্মীদের পরিবারের খোঁজখবর নেওয়া, আর্থিক সহযোগিতা প্রদান এবং সার্বিক বিপদ আপদে একজন অভিভাবকের মতো পাশে দাঁড়িয়েছেন। রাজনৈতিক কারণে নিজেও সামাজিক ও অর্থনৈতিকভাবে ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হলেও কখনো নেতাকর্মীদের ছেড়ে যাননি তিনি।
বার্থী ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক মেম্বার ও সুন্দরদী গণকবরস্থানের প্রতিষ্ঠাতা মোঃ এছহাক মৃধা বলেন, আলহাজ্ব আবুল হোসেন মিয়া সবসময় মানুষের দুঃখ-দুর্দশায় ঢাল হয়ে দাঁড়ান। অন্যায়-অবিচারের বিরুদ্ধে তার কণ্ঠ সবসময় সোচ্চার। রাজনৈতিক দুর্দিনে তিনি নেতাকর্মীদের একজন অভিভাবকের মতো আগলে রেখেছেন, যা একজন প্রকৃত নেতার বড় গুণ।
রাজনৈতিক অঙ্গনে তার পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তি, ভদ্রতা, বিনয়ী আচরণ এবং কর্মীবান্ধব নেতৃত্ব ইতোমধ্যেই তাকে উপজেলাবাসীর মধ্যে ব্যাপক জনপ্রিয়তা এনে দিয়েছে। স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের মতে, দল ও তৃণমূলের প্রতি তার দীর্ঘদিনের ত্যাগ ও সাংগঠনিক অবদান তাকে উপজেলা চেয়ারম্যান পদে একজন শক্তিশালী ও সম্ভাবনাময় প্রার্থী হিসেবে এগিয়ে রেখেছে।
বার্থী ইউনিয়ন পরিষদের টানা ১৪ বছরের সফল চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তিনি অবকাঠামোগত উন্নয়ন, শিক্ষা বিস্তার, সামাজিক নিরাপত্তা ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। স্থানীয়দের মতে, চেয়ারম্যান থাকাকালে তিনি দল-মত নির্বিশেষে সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে একজন গণমানুষের নেতা হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। অতীতে তিনি বার্থী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়ে দক্ষতা ও সুনামের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেন বলেও জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
সামাজিক ও মানবিক কর্মকাণ্ডেও রয়েছে তার উজ্জ্বল অবদান। মাদকবিরোধী আন্দোলনে তার আপোষহীন অবস্থান, গৌরনদী হাইওয়ে থানার জন্য জমি দান এবং বিভিন্ন শিক্ষা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠায় তার ভূমিকা স্থানীয়ভাবে ব্যাপক প্রশংসিত। সুন্দরদী আবেদিয়া সুন্নিয়া আলীম মাদ্রাসা ও আনোয়ারা প্রি-ক্যাডেট স্কুল প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে শিক্ষা বিস্তারে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন তিনি।
টরকি বন্দর দোকান মালিক সমিতির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে ব্যবসায়ীদের অধিকার রক্ষা, বাজার ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা এবং বন্দরের উন্নয়নে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। এ বিষয়ে বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আলহাজ্ব কাজী নজরুল ইসলাম বলেন, টরকি বন্দরের ব্যবসায়ীদের কাছে আবুল হোসেন মিয়া একজন নির্ভরযোগ্য অভিভাবক। তিনি সবসময় ব্যবসায়ীদের স্বার্থ রক্ষায় সাহসী ভূমিকা পালন করেছেন।”
অন্যদিকে টরকি বন্দর আদর্শ জামে মসজিদের সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব মাস্টার আবু হানিফ বলেন, তার মতো একজন ধর্মপ্রাণ, সৎ ও জনদরদী মানুষ উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হলে গৌরনদীর সার্বিক উন্নয়ন আরও গতিশীল হবে বলে আমরা বিশ্বাস করি।”
আসন্ন পবিত্র ঈদুল আযহা উপলক্ষে গৌরনদী উপজেলার সর্বস্তরের জনগণকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন আলহাজ্ব আবুল হোসেন মিয়া। তিনি বলেন, ঈদ আমাদের ত্যাগ, সহমর্মিতা ও ভ্রাতৃত্ববোধের শিক্ষা দেয়। আমি গৌরনদীর প্রতিটি মানুষের সুখ-দুঃখের অংশীদার হয়ে কাজ করতে চাই। গৌরনদীর মানুষের ভালোবাসা, বিশ্বাস এবং প্রত্যাশাই আমার রাজনীতির মূল প্রেরণা।
তিনি আরও বলেন, দক্ষিণাঞ্চলের প্রবেশদ্বার হিসেবে গৌরনদীর যে ঐতিহ্য ও গুরুত্ব রয়েছে, সেটিকে আরও সমৃদ্ধ ও কার্যকর করতে পরিকল্পিত উন্নয়ন, সুশাসন ও জনগণের অংশগ্রহণ অত্যন্ত জরুরি। জনগণের ভোটে নির্বাচিত হলে গৌরনদীকে একটি আধুনিক, নিরাপদ, উন্নত ও স্মার্ট মডেল উপজেলায় রূপান্তর করতে কাজ করবো।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন, যুব সমাজের কর্মসংস্থান সৃষ্টি, কৃষি ও স্বাস্থ্যসেবার আধুনিকায়ন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মানোন্নয়ন এবং মাদকমুক্ত সমাজ গঠন হবে তার অগ্রাধিকারমূলক লক্ষ্য বলেও জানান তিনি।
সম্পাদক : মো: রাকিবুল হাছান(ফয়সাল)।