প্রিন্ট এর তারিখঃ নভেম্বর ৮, ২০২৬, ৪:০৯ এ.এম || প্রকাশের তারিখঃ ডিসেম্বর ১৯, ২০২৫, ৬:৩৪ পি.এম
ওসমান হাদি হত্যার বিচার দাবিতে বরিশাল–কুয়াকাটা মহাসড়ক অবরোধ

মোঃ ইয়াহিয়া শাকুর , পটুয়াখালী প্রতিনিধিঃ-
ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক ও ঢাকা-৮ আসনের সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী শহীদ শরীফ ওসমান হাদির হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক বিচারের দাবিতে পটুয়াখালীতে বিক্ষোভ সমাবেশ ও সড়ক অবরোধ কর্মসূচি পালন করেছেন জুলাই আন্দোলনের অংশগ্রহণকারী, সাধারণ শিক্ষার্থী এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা।
বৃহস্পতিবার (১৮ ডিসেম্বর) রাত ১১টার দিকে পটুয়াখালী শহরের প্রাণকেন্দ্র চৌরাস্তা এলাকায় বরিশাল–কুয়াকাটা মহাসড়কে প্রায় এক ঘণ্টাব্যাপী এ অবরোধ কর্মসূচি চলে। কর্মসূচি চলাকালে বিক্ষোভকারীরা সড়কের ওপর অবস্থান নিয়ে ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও কঠোর শাস্তির দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন। এ সময় ঢাকা ও কুয়াকাটাগামী যানবাহন মহাসড়কের দুই পাশে আটকে পড়ে, ফলে সাময়িকভাবে যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়।
বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে জাতীয় ছাত্রশক্তি পটুয়াখালী জেলা শাখার সভাপতি মিরাজ ইমতিয়াজ বলেন,
“আজ হাদি ভাইয়ের মতো আরও অনেককেই টার্গেট করা হচ্ছে, গুলি করে মারার হুমকি দেওয়া হচ্ছে এবং বিভিন্ন জায়গায় আমাদের জুলাই যোদ্ধারা হামলার শিকার হচ্ছেন। বলা হচ্ছে, আমরা যদি ফ্যাসিস্টদের আবার জায়গা করে না দিই, তাহলে আমাদের বাংলাদেশ থেকে নিশ্চিহ্ন করে দেওয়া হবে। আসলে তারা জানে, আমরা মৃত্যু ভয়কে আগেই উপেক্ষা করে এই রাজপথে নেমেছিলাম। আমাদের হাদি ভাইকে যারা আজ গুলি করে হত্যা করেছে, সরকারকে অবশ্যই তাদের বিচারের আওতায় আনতে হবে।”
জুলাই অভ্যুত্থানে পটুয়াখালী জেলা শাখার সাবেক সমন্বয়ক তোফাজ্জল হোসেন বলেন,
“ইন্টেরিম সরকারের কাছে আমাদের প্রত্যাশা ছিল তারা একটি সুন্দর বাংলাদেশ গড়বে। আজ সেই বাংলাদেশ আমরা দেখতে পাইনি। ওসমান হাদি একজন চলে যাবে, কিন্তু এই দেশে লক্ষ লক্ষ ওসমান হাদি তৈরি হবে। তবে ওসমান হাদিকে গুলি করার বিচার যদি না করা হয়, তাহলে এমন ওসমান হাদি আর তৈরি হবে না।”
এ সময় ছাত্র শিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় নেতা ও পটুয়াখালী ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশনের সভাপতি আব্দুল্লাহ আন নাহিয়ান বলেন,
“গত পনেরো বছরের গুম, খুন, ক্রসফায়ার ও হত্যাকাণ্ডের পর এই জুলাই আন্দোলনে দুই হাজার মায়ের কোল খালি হওয়ার পরে যে বাংলাদেশ আমরা পেয়েছি, সেখানেও দেখলাম একজন জাতীয় নেতা—ডাকসুর ভিপি শেখ হাসিনাকে চ্যালেঞ্জ করে যিনি ভিপি হয়েছিলেন (ভিপি নুর)—তাকে বিজয়নগরে হত্যার উদ্দেশ্যে আক্রমণ করা হলো। সেখানেই ওসমান হাদিকে প্রকাশ্যে গুলি করা হলো। আমরা আর রক্ত দিতে চাই না। আমরা ভারতীয় আধিপত্য ও পরাশক্তিকে জানিয়ে দিতে চাই, এই মুসলিম উম্মাহর তরুণ যুবকদের রক্ত নিয়ে তোমরা আমাদের থামাতে পারবে না। আমরা ওসমান হাদি হত্যার বিচার চাই। আপনারা যদি দায়িত্বে অবহেলা করেন, তাহলে জনগণের কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হবে।”
বিক্ষোভ কর্মসূচিতে পটুয়াখালী জেলা জামায়াতে ইসলামী, গণঅধিকার পরিষদ, এনসিপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতাকর্মীরাও অংশ নেন এবং কর্মসূচির প্রতি সংহতি প্রকাশ করেন।
প্রায় এক ঘণ্টা ধরে চলা সড়ক অবরোধ শেষে রাত ১২টার দিকে অবরোধ প্রত্যাহার করা হলে বরিশাল–কুয়াকাটা মহাসড়কে ধীরে ধীরে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়ে আসে।
Copyright © 2024 Banglarkonthosor 24.com. All rights reserved.