নিজস্ব প্রতিবেদক।।
ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলা ভূমি অফিসে দালালির অভিযোগে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) এক নেতাকে এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।
তবে রায় ঘোষণার সময় দণ্ডপ্রাপ্ত ওই নেতাকে ছাড়িয়ে নিতে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটকে ফোন করে তদবিরের অভিযোগ ওঠে উপজেলা এনসিপির আহ্বায়ক আব্দুল জলিলের বিরুদ্ধে।
মঙ্গলবার (৩০ জুন) বিকেল ৪টার দিকে উপজেলা ভূমি অফিসে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এ কে এম রায়হানুর রহমান।
কারাগারে এনসিপি নেতা, ছাড়াতে আরেক নেতার ফোন
ফরিদপুরে একসঙ্গে ৫ সন্তানের জন্ম, মারা গেল ৪ জন
ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্র জানায়, আলফাডাঙ্গা পৌরসভার কুসুমদী গ্রামের বাসিন্দা মিলন দীর্ঘদিন ধরে উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রার কার্যালয়ের সামনে একটি কম্পিউটারের দোকান পরিচালনা করে আসছিলেন। দোকানের আড়ালে তিনি জমির নামজারি, খাজনা পরিশোধসহ বিভিন্ন ভূমিসেবা করে দেওয়ার নামে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে অর্থ আদায় করতেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন কাজের অজুহাতে নিয়মিত উপজেলা ও পৌর ভূমি অফিসে যাতায়াত করতেন।
সূত্র আরও জানায়, এর আগে একাধিকবার তাকে মৌখিকভাবে সতর্ক করা হয়েছিল। দালালি ছেড়ে অন্য পেশায় জীবিকা নির্বাহের পরামর্শও দেওয়া হয়। কিন্তু তিনি সতর্কবার্তা উপেক্ষা করে একই কার্যক্রম চালিয়ে যান। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে অভিযোগ স্বীকার করেন। এ সময় তার প্রতিষ্ঠানে সেবার মূল্যতালিকা প্রদর্শন না থাকায় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯-এর ৩৯ ধারায় তাকে এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড, ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড এবং অর্থদণ্ড অনাদায়ে আরও তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, আদালতের কার্যক্রম চলাকালে উপজেলা এনসিপির আহ্বায়ক আব্দুল জলিল নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটকে ফোন করে দণ্ডপ্রাপ্ত মিলনকে জেল না দিয়ে সতর্ক করে ছেড়ে দেওয়ার অনুরোধ জানান।
প্রত্যক্ষদর্শীরা আরও জানান, ফোনে আব্দুল জলিল নিজেকে পরিচয় দিয়ে বলেন, ‘মিলন আমাদের দলের সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব। তাকে একবার শুধরে নেওয়ার সুযোগ দিন। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আইনি বাধ্যবাধকতার কথা জানিয়ে অপারগতা প্রকাশ করলে তিনি বলেন, ঠিক আছে, এমপি স্যারকে বলি।’
উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এ কে এম রায়হানুর রহমান বলেন, ‘অভিযুক্ত ব্যক্তি নিজের অপরাধ স্বীকার করেছেন। ভূমি অফিসের বাইরে তার দালালির একাধিক ভিডিও ফুটেজ রয়েছে। পাশাপাশি তার প্রতিষ্ঠানে সেবার মূল্যতালিকা প্রকাশ্যে টানানো ছিল না। তাই আইন অনুযায়ী তাকে দণ্ড দেওয়া হয়েছে। বিচারিক কার্যক্রমে কোনো ধরনের সুপারিশ বা তদবিরের সুযোগ নেই।’
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা এনসিপির আহ্বায়ক আব্দুল জলিল বলেন, ‘আমি ঢাকায় আছি। মিলন নামে কোনো ব্যক্তি আমার কমিটির সদস্য কি না, সেটিও আমার জানা নেই। আমি খোঁজ নিয়ে আপনাকে জানাব।’
তবে তিনি নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটকে ফোন করার অভিযোগ অস্বীকার করেন। পরে এ বিষয়ে তার সঙ্গে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।
এ বিষয়ে ফরিদপুর জেলা এনসিপির আহ্বায়ক হাসিবুর রহমান অপু ঠাকুর বলেন, ‘কোনো অপরাধীর পক্ষে সুপারিশ করা দলের সাংগঠনিক নীতিমালার পরিপন্থি। কেউ এমনটি করে থাকলে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিষয়টি আমরা খোঁজ নিয়ে দেখছি।
সম্পাদক : মো: রাকিবুল হাছান(ফয়সাল)।