
গ্রেপ্তারকৃতরা হলো- মূল অভিযুক্ত ও ভুক্তভোগীকে ছুরিকাঘাতকারী ফারুক (১৯), জিতু (১৮) ও জসিমকে (১৯), মোস্তফা (১৯), জোবায়ের ওরফে যুবরাজ ওরফে জয় (১৮), মো. রাব্বি (১৯) ও মো. রোমানকে (১৫)।
বুধবার রাজধানীর হাজারীবাগ, মোহাম্মদপুর, লালবাগ ও কামরাঙ্গীরচর এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ জানায়, হাজারীবাগের টিকটকারদের পুল পার্টি ছিল সাভারের ধামরাইয়ের একটি রিসোর্টে। সেখান থেকে ফেরার পথে প্রথমে বাসের ভেতর গাঁজা সেবনকে কেন্দ্র করে সিনিয়র-জুনিয়র গ্রুপের মধ্যে তর্ক হয়। এক পর্যায়ে জুনিয়ররা এক সিনিয়রের বান্ধবীকে ইভটিজিং করে। ওই বান্ধবী আসাদগেটে বাস থেকে নামার পর দুই গ্রুপ সংঘর্ষে জড়ায়। টিকটকারদের পুল পার্টি শেষে গাঁজা সেবন ও ইভটিজিংকে কেন্দ্র করে ছুরিকাঘাতে মারা যান মো. রাব্বি হোসেন ওরফে রাফা।
বৃহস্পতিবার ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত কমিশনার (অপরাধ) এ কে এম হাফিজ আক্তার বলেন, রাজধানীর হাজারীবাগ এলাকার টিকটকার শান্ত ধামরাইয়ের মোহাম্মদিয়া রিসোর্টে একটি পুল পার্টির আয়োজন করে। এই আয়োজনে হাজারীবাগ ও আশপাশের এলাকার শতাধিক তরুণ-তরুণী অংশগ্রহণ করে। তাদের এ আয়োজন ছিল এই মৌসুমের শেষ টিকটকারস পুল পার্টি।
সেখান থেকে ফেরার পথে সিনিয়র-জুনিয়রদের মধ্যে গাঁজা খাওয়া নিয়ে বাসে দুই গ্রুপের মধ্যে কথা-কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে বিষয়টি একজন সিনিয়রের গার্লফ্রেন্ডকে ইভটিজিংয়ের দিকে গড়ায়। প্রাথমিকভাবে বিষয়টি নিজেদের মধ্যে কথা বলে সুরাহা করে নেয়া হলেও উভয় পক্ষই মূলত আরও মোক্ষম সুযোগের অপেক্ষায় ছিল।
তিনি আরও বলেন, বাসটি হাজারীবাগ যাওয়ার পথে মোহম্মদপুরের আসাদ গেটে এসে পৌঁছালে গার্লফ্রেন্ডদের বাস থেকে নামিয়ে দিয়ে উভয় পক্ষই একে অপরের সঙ্গে মারামারিতে জড়িয়ে পড়ে। এ সময় সিনিয়র গ্রুপের মো. রাব্বী তার কাছে থাকা সুইচ গিয়ার ছুরি দিয়ে জুনিয়র গ্রুপকে আঘাত করতে যায়। জুনিয়র গ্রুপ এ সময় একত্র হয়ে রাব্বীর কাছ থেকে সুইচ গিয়ার কেড়ে নিয়ে তাকে উপর্যুপরি আঘাত করে। এ সময় শাওন নামের অপর একজনও ধারালো অস্ত্রের আঘাতে গুরুতর আহত হয়।
গুরুতর আহত অবস্থায় তাদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হলে রাব্বীকে আইসিইউতে নেয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গতকাল রাত আনুমানিক ১টার দিকে সে মারা যায়। এই ঘটনায় নিহতের বাবা বাদী হয়ে শেরেবাংলা নগর থানায় মামলা করেছেন।
অতিরিক্ত কমিশনার বলেন, অভিযুক্তদের মধ্যে প্রধান অভিযুক্ত ফারুকের নামে হাজারীবাগ থানায় তিনটি মামলার তথ্য পাওয়া গেছে। অন্য অভিযুক্তরাও বয়সে তরুণ। তারা কেউ কেউ ছাত্র, কেউ কারখানার কর্মচারী। তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।