নিজস্ব প্রতিবেদক।।
দেশের চারটি নদীর পানি বিপৎসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ার তথ্য দিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র।
বৃহস্পতিবার সকাল ৯টায় সোমেশ্বরী নদী নেত্রকোণার কলমাকান্দা পয়েন্টে প্রাক-মৌসুমী বিপৎসীমার ৭৩ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছিল।
একই সময়ে ভুগাই-কংস নদী নেত্রকোণার জারিয়াজাঞ্জাইল পয়েন্টে প্রাক-মৌসুমী বিপৎসীমার ১০০ সেন্টিমিটার উপরে দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছিল।
অন্যদিকে মগরা নদীর আটপাড়া স্টেশনে ১৬ সেন্টিমিটার উপরে এবং নেত্রকোনা স্টেশনে ৬৮ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল।
এছাড়া সুতাং নদীর হবিগঞ্জের সুতাং আরবি স্টেশনে প্রাক-মৌসুমী বিপৎসীমার ১১ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছিল।
বন্যা পূর্বাভাস কেন্দ্রের সহকারী প্রকৌশলী নুসরাত জাহান জেরিন দুপুরে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আমাদের কাছে যে তথ্য আছে, সে অনুযায়ী হাওরাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতি এখনো অপরিবর্তিত আছে। যে পরিমাণ বৃষ্টিপাতের আশঙ্কা আমরা করেছিলাম সেখানে, তার চেয়ে বৃষ্টিপাত কম হয়েছে।
“এরকম পরিস্থিতি থাকলে কিছু দিনের মধ্যে সেখানে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হবে বলে ধারণা করছি।”
৮ বিভাগে বৃষ্টির আভাস
আবহাওয়া অধিদপ্তরের বৃহস্পতিবার সকালের বুলেটিনে বলা হয়েছে, এদিন সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, ঢাকা, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা বা ঝড়ো হাওয়া ও বিদ্যুৎ চমকানোসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে।
সেই সঙ্গে দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারি থেকে অতিভারি বৃষ্টি হতে পারে।
এসময়ে সারাদেশে দিন এবং রাতের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে।
এদিকে ভারি বৃষ্টির সতর্কবার্তায় বলা হয়েছে, বজ্রমেঘ তৈরি অব্যাহত থাকায় বৃহস্পতিবার দুপুর ১টা থেকে পরবর্তী ৪৮ ঘণ্টায় ময়মনসিংহ, ঢাকা, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কোথাও কোথাও ভারি থেকে অতি ভারি বৃষ্টি হতে পারে।
এর ফলে কোথাও কোথাও অস্থায়ীভাবে জলাবদ্ধতা এবং পাহাড়ি এলাকার কোথাও কোথাও ভূমিধস হতে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে।
বৃষ্টিপাতের প্রবণতা কবে নাগাদ কমতে পারে, জানতে চাইলে আবহাওয়াবিদ তরিফুল নেওয়াজ কবির বলেন, “এটা আসলে আগামী দুই-একদিন থাকবে, তবে একটু কমে যেতে পারে। মেইনলি ৩-৪ তারিখ পর্যন্ত। তারপরে বৃষ্টিপাতের প্রবণতাটা কমে আসবে।”
বৃষ্টিপাত কমে গেলে তাপমাত্রা বাড়বে কি না, জানতে চাইলে তিনি বলেন, “এটা যেহেতু প্রি-মনসুন, এই সময় হচ্ছে আর এপ্রিল-মে মাস বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে সবচেয়ে উষ্ণতম মাস। তো যখনই বৃষ্টিপাতটা কমে আসবে, তখন আবার দেখা যাবে ধীরে ধীরে তাপমাত্রাটা বাড়বে।”
বৃহস্পতিবার সকাল ৬টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল সাতক্ষীরায়; ৩৩ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
আর সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল নারায়ণগঞ্জে; ১৮ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। সেখানে অতিভারি বৃষ্টি হয়েছে, ২৪ ঘণ্টায় সেখানে ঝরেছে ১০৪ মিলিমিটার বৃষ্টি।
এ সময়ে দেশের সর্বোচ্চ বৃষ্টি হয়েছে পটুয়াখালীর খেপুপাড়ায়; ১২১ মিলিমিটার। এছাড়া নোয়াখালীর হাতিয়ায় ১১২, সিরাজগঞ্জের বাঘাবাড়ীতে ৮৫, টাঙ্গাইলে ৭৫, পটুয়াখালীতে ৭২ ও ঢাকায় ৬৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত নথিবদ্ধ করেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
নদীবন্দরে ১, সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর সংকেত বহাল
এদিকে নদীতে ঢেউ ও আকাশে মেঘ থাকায় দেশের কয়েকটি এলাকার নদীবন্দরে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত বহাল রেখেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
বৃহস্পতিবার নদীবন্দর সম্পর্কিত বিশেষ সতর্কবার্তায় আবহাওয়া অধিদপ্তর বলেছে, এদিন সকাল ৯টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম এবং কক্সবাজার অঞ্চলের উপর দিয়ে পশ্চিম বা উত্তর-পশ্চিম থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে বৃষ্টি বা বজ্রবৃষ্টিসহ অস্থায়ীভাবে দমকা বা ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে।
একইদিনে সমুদ্রবন্দর সম্পর্কিত ভিন্ন সতর্কবার্তায় আবহাওয়া অধিদপ্তর বলেছে, উত্তর বঙ্গোপসাগর ও আশপাশের এলাকায় বায়ুচাপের তারতম্যের আধিক্য অব্যাহত রয়েছে।
সেজন্য চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্র বন্দরে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত বহাল রাখতে বলেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
পাশাপাশি উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারগুলোকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত উপকূলের কাছাকাছি থেকে সাবধানে চলাচল করতে বলা হয়েছে।
আবহাওয়াবিদ তরিফুল নেওয়াজ কবির বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “বায়ুচাপের তারতম্য থাকার কারণে সমুদ্র বন্দরসমূহে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেওয়া হয়েছে।
“নদী বন্দরগুলোতে এ১ নম্বর সংকেত দেওয়া হয়েছে আসলে ওই কনভেক্টিভ ক্লাউড থাকার কারণে বা কিছু ওই যে আপনার ‘রোলিং’ আছে, দক্ষিণ দিকে কিছুটা ক্লাউড আছে—এজন্য ১ নম্বর সতর্কতা সংকেত দেওয়া হয়েছে।
সম্পাদক : মো: রাকিবুল হাছান(ফয়সাল)।