নীলফামারী প্রতিনিধি:
নীলফামারীর জলঢাকায় পরিবহন ব্যবসা ও শ্রমিক সংগঠনকে ঘিরে চাঁদাবাজি, হয়রানি এবং অপপ্রচারের অভিযোগে একই দিনে পৃথক দুটি সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে বাস-মিনিবাস মালিকপক্ষ ও শ্রমিক ইউনিয়নের নেতাদের মধ্যে প্রকাশ্যে মতবিরোধ সামনে এসেছে।
শনিবার (৩০ মে) দুপুরে জলঢাকা বাস টার্মিনাল এলাকায় সংবাদ সম্মেলন করে ‘পারফেক্ট ট্রাভেলস’ ও ‘জলঢাকা ট্রাভেলস’-এর মালিকপক্ষ। লিখিত বক্তব্যে প্রতিষ্ঠান দুটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. মাজহারুল ইসলাম মিঠুন অভিযোগ করেন, নীলফামারী জেলা বাস-মিনিবাস শ্রমিক ইউনিয়নের জলঢাকা শাখার সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রশিদ ব্যক্তিগত প্রভাব খাটিয়ে পরিবহন ব্যবসায়ীদের ওপর চাপ সৃষ্টি করছেন।
তিনি দাবি করেন, বৈধ কোনো লিখিত নির্দেশনা ছাড়াই তাদের দুটি দূরপাল্লার বাস চলাচলে বাধা দেওয়া হয়েছে এবং অতিরিক্ত অর্থ দাবি করা হয়েছে। অভিযোগে আরও বলা হয়, দাবি মেনে না নেওয়ায় ব্যবসা বন্ধের হুমকি, কর্মচারীদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের ঘটনাও ঘটেছে। এসব বিষয়ে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানান তারা।
অন্যদিকে বিকেলে জলঢাকা উপ-কমিটির কার্যালয়ে পাল্টা সংবাদ সম্মেলন করেন অভিযুক্ত শ্রমিক নেতা আব্দুর রশিদ। তিনি তার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগকে ‘মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বলে দাবি করেন।
লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে শ্রমিকদের অধিকার ও কল্যাণে কাজ করে আসার কারণে একটি স্বার্থান্বেষী মহল তার ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে অপপ্রচার চালাচ্ছে। অভিযোগগুলোর সঙ্গে বাস্তবতার কোনো মিল নেই বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
আব্দুর রশিদ আরও বলেন, মতবিরোধ থাকতেই পারে, তবে মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে কাউকে হেয় করার চেষ্টা গ্রহণযোগ্য নয়। প্রয়োজনে তিনি আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন বলেও জানান।
সংবাদ সম্মেলনে তার পক্ষে সংহতি প্রকাশ করেন নীলফামারী জেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম, সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আলী, জলঢাকা উপ-কমিটির সভাপতি মমিনুর রহমানসহ অন্যান্য শ্রমিক নেতারা। তারা ঘটনাটির নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটনের দাবি জানান।
একই দিনে দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি সংবাদ সম্মেলনকে কেন্দ্র করে জলঢাকার পরিবহন অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
সম্পাদক : মো: রাকিবুল হাছান(ফয়সাল)।