শনিবার (১১ এপ্রিল) সকালে রাজশাহীতে আসন্ন এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা উপলক্ষ্যে কেন্দ্র সচিবদের সাথে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে শিক্ষামন্ত্রী এসব কথা বলেন।
শিক্ষামন্ত্রী তার বক্তব্যের শুরুতেই সিসিটিভি ও নকল প্রতিরোধের বিষয়ে জোর দেন। তিনি বলেন, ‘নকলের ধরন পরিবর্তন হয়েছে। অনেক অভিনব পদ্ধতি নকলে ব্যবহার করা হয়। এখন ডিজিটাল পদ্ধতিতে সব হচ্ছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় আনা হবে, করা হবে নজরদারি। পরীক্ষা কেন্দ্রগুলোও থাকবে সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায়।’
কেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্তদের সতর্ক করে তিনি বলেন, ‘পরীক্ষার সময় বিদ্যুৎ ছিল না, তাই ক্যামেরা বন্ধ ছিল- এমন কথা বলবেন না। এমন কথা বললে বুঝবো ডাল মে কুচ কালা হ্যায়।’ এছাড়া সংঘবদ্ধ চক্র নকলে সহায়তা করলে তাদেরকে আইনের আওতায় আনা হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
বিনা পরীক্ষায় ও বিনা মেধায় কেউ যেন সনদ না পায়, সে বিষয়ে সরকারের কঠোর অবস্থানের কথা জানান শিক্ষামন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘আমাদের নিয়ত একদম সৎ। আমরা চাই না বিনা পরীক্ষায় কেউ পাস করুক। বিনা মেধায় কেউ সার্টিফিকেট পাক। যারা লেখাপড়া করবে না, টিকটক করবে, আমি তাদের নিয়ে ভাবছি না। যারা পড়াশোনা করবে, আমাদের চিন্তা তাদের নিয়ে।’ এসব কথা বললে অনেকে আবার পদত্যাগ দাবি করে রাস্তায় নেমে মব তৈরি করে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
বোর্ডগুলোর মধ্যকার অসম প্রতিযোগিতার সমালোচনা করে ড. মিলন বলেন, ‘বোর্ডে বোর্ডে প্রতিযোগিতা চলে কার বোর্ডে পাসের হার বেশি। সারাদেশে একটি প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা নেয়া উচিত। শিক্ষা ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন করতে হবে, যেন শিক্ষার্থীদের জীবন থেকে কোনো সময় নষ্ট না হয়।’
শিক্ষার্থীদের দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তরের ওপর জোর দিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘আমরা বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যদি জাপানিজ, চাইনিজ, ফ্রেঞ্চসহ বিভিন্ন ভাষা শেখাতে পারি, তাহলে জনসম্পদকে মানবসম্পদে রূপান্তরের সময় হবে।’
শিক্ষা বোর্ডগুলোকে স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘বোর্ডগুলো এখন এত বেশি ইনকাম করে, তা বলার মতো না। সবাই স্কুল-কলেজ ছেড়ে বোর্ডে চাকরি করার জন্য ব্যস্ত।’
পরীক্ষার খাতা মূল্যায়নে অনিয়মের অভিযোগ তুলে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘হেলপার দিয়ে পরীক্ষার খাতা দেখানো হয়। পরীক্ষার খাতা কয়েকদিন পরে লিখে দেয়ার মতো ঘটনা পর্যন্ত ঘটেছে। এখন এসব আর চলবে না।’
উপস্থিত শিক্ষকদের উদ্দেশ্যে তিনি কড়া বার্তা দিয়ে বলেন, ‘এবার যদি কোনো স্কুলে কেউ পাস না করে, জিরো পায়, তাহলে এবার কিছু বলবো না; তবে এমন কথা বলবো যা আপনাদের গাত্রদাহ হবে। প্রস্তুত হন, তৈরি হন, যাতে ভালো রেজাল্ট করা যায়।’
রাজশাহী শিক্ষা বোর্ড এবং রাজশাহী অঞ্চলের মাদরাসা ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের কেন্দ্র সচিবদের নিয়ে আয়োজিত এই মতবিনিময় সভায় বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, কেন্দ্র সচিব ও বোর্ডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ছাড়াও বিভাগীয় কমিশনার এবং স্থানীয় সংসদ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।