
রোববার নেপালের মুলপানিতে এই জয়ের ভিত গড়ে দেন বাংলাদেশের বোলাররা। দুর্দান্ত বোলিংয়ে ডাচ মেয়েদের আটকে রাখা হয় মাত্র ১০২ রানে। দেশের সফলতম বোলার নাহিদা আক্তার ছিলেন দুর্দমনীয়—৪ ওভারে মাত্র ১০ রান দিয়ে নেন ৩ উইকেট।
টস জিতে ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুতেই বিপাকে পড়ে নেদারল্যান্ডস। ম্যাচের দ্বিতীয় ওভারেই নাহিদার জোড়া আঘাতে চাপে পড়ে যায় তারা। টানা দুই ম্যাচে প্রথম ওভারে উইকেট পেলেও এবার মারুফা আক্তার তা করতে পারেননি, তবে নিজের দ্বিতীয় ওভারেই সাফল্য পান তিনি। পাওয়ার প্লেতে লেগ স্পিনার রাবেয়া খানও উইকেট তুলে নিলে স্কোরবোর্ডে চাপ আরও বাড়ে। নাহিদা তৃতীয় উইকেট নেওয়ার সময় ডাচদের স্কোর দাঁড়ায় ২৩ রানে ৫ উইকেট।
বিপর্যয় সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেন রবিনে রাইকা ও সানিয়া খুরানা। ষষ্ঠ উইকেটে ৭৮ রানের জুটিতে দলকে একশ পার করান তারা। রাইকা ৪৫ বলে ৩৯ রানে আউট হলেও সানিয়া ৬টি চারে ৩৭ বলে ৪৩ রানে অপরাজিত থাকেন। তবে বড় সংগ্রহ গড়ার মতো শক্তি ছিল না ডাচ ব্যাটিংয়ে।
জবাবে রান তাড়ায় খুব বড় চ্যালেঞ্জ না থাকলেও শুরুতে হোঁচট খায় বাংলাদেশ। প্রথম দুই ওভারেই ওপেনার দিলারা আক্তার ও জুয়ায়রিয়া ফেরদৌস ফিরে যান। তিনে নেমে শারমিন আক্তার ডাচদের আঁটসাঁট বোলিংয়ে ভুগে ২৮ বলে করেন মাত্র ১৩ রান।
তবে এরপর আর কোনো শঙ্কা থাকেনি। অধিনায়ক নিগার সুলতানা ও দুর্দান্ত ফর্মে থাকা সোবহানা মোস্তারি ঝড়ো জুটিতে দলকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দেন। দুজনে ৩৭ বলে গড়েন ৫৭ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটি, ২০ বল হাতে রেখেই জয় নিশ্চিত হয়।
নিগার সুলতানা ৭টি চারে ৪৪ বলে অপরাজিত ৫০ রান করেন—১১৬ ম্যাচের ক্যারিয়ারে এই প্রথম টানা দুই ম্যাচে ফিফটি পেলেন তিনি। সোবহানা মোস্তারি বাউন্ডারিতে ম্যাচ শেষ করে অপরাজিত থাকেন ২৩ বলে ৩৩ রানে। পুরো টুর্নামেন্টে ৭ ইনিংসে ২৬২ রান নিয়ে তিনি হন আসরের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক; তার গড় ৫২.৪০, স্ট্রাইক রেট ১৪৫.৫৫।
সুপার সিক্সের প্রথম ম্যাচ জিতেই টানা সপ্তমবারের মতো বিশ্বকাপের টিকিট নিশ্চিত করেছিল বাংলাদেশ। পরের দুই ম্যাচও জিতে দাপটের সঙ্গে বাছাইপর্ব শেষ করল নিগার সুলতানার দল।
উল্লেখ্য, উইমেন’স টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের দশম আসর আগামী জুন–জুলাইয়ে অনুষ্ঠিত হবে ইংল্যান্ডে।
সম্পাদক : মো: রাকিবুল হাছান(ফয়সাল)।