
পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখওয়া প্রদেশের চিত্রল জেলায় তুষারধসে একটি বাড়ি চাপা পড়ার পর এক পরিবারের অন্তত নয়জনের মৃত্যু হয়েছে। পরিবারটির নয় বছরের একটি শিশু বালক শুধু রক্ষা পেয়েছে, তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
শুক্রবার স্থানীয় সময় বিকালে চিত্রলের দামিল এলাকার সেরিগাল গ্রামে ঘটনাটি ঘটে, জানিয়েছে পাকিস্তানি গণমাধ্যম ডন।
লোয়ার চিত্রলের ডিসি হাসিম আজিম জানিয়েছেন, আবর্জনার নিচে চাপা পড়া মৃতদেহগুলো উদ্ধার করা হয়েছে।
কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ওই এলাকায় ২০ ইঞ্চিরও বেশি তুষারপাত হওয়ার পর থেকেই ধস শুরু হয়। এরই এক পর্যায়ে জনবিরল পাহাড়ি ওই গ্রামটির নিকটবর্তী চারণভূমি থেকে প্রচুর তুষার গড়িয়ে নেমে এসে একাকী দাঁড়িয়ে থাকা একটি বাড়িতে আঘাত হানে।
এতে ওই বাড়ির কর্তা বাচা খান, তার স্ত্রী, তিন ছেলে, দুই মেয়ে ও দুই শ্যালিকা নিহত হন। তুষারধস যখন আঘাত হানে তখন তারা বাড়িটির মধ্যবর্তী ঘরে বসে রাতের খাবার খাচ্ছিলেন বলে খবর।
পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখওয়া, বেলুচিস্তান, গিলগিট-বালতিস্তান ও আজাদ কাশ্মীরে ভারি তুষারপাত হওয়ার পর তুষারধস ও ভূমিধসের মতো ঘটনা ঘটছে। এতে রাস্তাগুলো আটকে গেছে, শত শত পর্যটক আটকা পড়েছেন ও জনজীবন স্থবির হয়ে পড়েছে। শূন্য ডিগ্রি তাপমাত্রার মধ্যে বিদ্যুৎ সরবরাহ ও উদ্ধারকাজে বিঘ্ন ঘটছে।
চিত্রল উপত্যকায় ৩৬ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে টানা তুষারপাত হয়েছে। এতে জনজীবন মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে। বহু সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। লোয়ারি টানেলের অ্যাপ্রোচ সড়ক প্রায় ১৮ ঘণ্টা ধরে বন্ধ হয়ে থাকায় কয়েক হাজার যাত্রী আটকা পড়েন। শুক্রবার সন্ধ্যায় তুষার পরিষ্কার পর ওই পথে যান চলাচল আবার শুরু হয়।
ভারি তুষারপাত হওয়ার পর থেকে আপার ও লোয়ার চিত্রলের বেশ কয়েকটি সড়ক বন্ধ রাখা হয়েছে।
সম্পাদক : মো: রাকিবুল হাছান(ফয়সাল)।